287628
শিরোনামঃ
জুড়ীতে ২৮২ শতক জমি দখলের পাঁয়তারা, আতঙ্কে ১৭ পরিবার, অপকর্ম ঢাকতে সংবাদ সম্মেলন ‘নিহার কলি’ ও ‘সম্রাট বাহাদুর’ পুনরায় বন বিভাগের হেফাজতে বিগত ১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লটারির মাধ্যমে বদলি হলেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৪০৯ জন প্রকৌশলী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হলেন ফরহাদ হালিম (ডোনার) বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হলেন কমলনগরের ইসমাইল জবিউল্লাহ ছাত্রদলের শীর্ষপদে আলোচনায় কমলনগরের জিয়া উদ্দিন বাসেত ঐক্যবদ্ধভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইসরাইলকে রক্ষায় পর্যাপ্ত সামরিক শক্তি নেই যুক্তরাষ্ট্রের: মার্কিন জেনারেল

মাদারীপুরে রাতের আঁধারে কবর থেকে গোপনে দেহাবশেষ স্থানান্তর : স্তব্ধ এলাকাবাসী

#
news image

মাদারীপুর পৌর শহরে ঘটেছে এক ব্যতিক্রমধর্মী হৃদয়বিদারক ঘটনা। মৃত্যুর ১৬ বছর পর কবর থেকে তুলে নিয়ে অন্যত্র নিয়ে মাটি মাটিচাপা চাপা দিয়ে রাখেন এক মায়ের দেহাবশেষ। জমি–বিবাদের জেরে ছোট ছেলে মুকুল খানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। রাতের আঁধারে গোপনে করা এই কর্মকাণ্ডে জেলার সর্বস্তরের মানুষ ক্ষোভ ও নিন্দায় ফুঁসে উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটে গত ৭ ডিসেম্বর (২০২৫) গভীর রাতে, তবে সোমবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।

মায়ের শেষ ইচ্ছাও রক্ষা পেল না।

মৃত সুফিয়া বেগম ছিলেন ধর্মপরায়ণ ও পর্দানশীল নারী। জীবদ্দশায় ছেলেদের অনুরোধ করেছিলেন তোদের বাড়ির আঙিনায় রেখো আমাকে।

পরিবারের সদস্যরাও তাঁর শেষ ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে বাড়ির এক কোনে দাফন করেন। ১৬ বছর ধরে কবরটি ছিল বড় ছেলে টুটুল খাঁন ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের পরম যত্নে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বড় ছেলে টুটুল বহু কষ্টে উপার্জিত অর্থ দিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে একখণ্ড জমি ক্রয় করেন। ছোট ভাইকে অবহেলা করতে না পেরে সেই জমি ক্রয় এর সময় তাঁরও নাম রাখেন দলিলে। পরে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জমি সমানভাবে ভাগ করে দেন। কাকতালীয়ভাবে মায়ের কবরটি পড়ে ছোট ভাই মুকুলের অংশে।

সেই সময় সকলের সামনে মুকুল আশ্বাস দিয়েছিলেন—মায়ের কবর আমার জায়গায় থাকলে কোনো আপত্তি নেই।

কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সবকিছু বদলে যায়। পরিবার দাবি করছে, নেশায় আসক্ত হয়ে পড়া মুকুল জমির লোভে মায়ের কবর সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ৭ ডিসেম্বর ভোরের আগে মুকুল ভাড়া করা লোকজন নিয়ে কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ তুলে বস্তায় ভরে পৌরসভার মিলমাঠ এলাকার গণকবরস্থানে ধর্মীয় বিধি না মেনে পুঁতে রাখেন।

খবরটি সোমবার সকালে প্রকাশ পেলে কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃত সুফিয়া বেগমের অন্য সন্তান ও আত্মীয়স্বজনেরা।

বিদেশ থেকে মুঠোফোনে বড় ছেলে টুটুল খান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন

আমার ভাই যদি জমি বা টাকার প্রয়োজন আমাকে জানাতো, আমি তাকে মায়ের কবরে যেই জায়গাটুকু আছে তার চারগুণ দাম দিতাম। কিন্তু মায়ের কবর ১৬ বছর পর এভাবে তুলে নেওয়া—এটা আমি মেনে নিতে পারছি না।

তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন নিজের উপার্জিত অর্থে কেনা জমি তাকে ভাগ দিয়েছি তাতেও কোনো দ্বিধা করিনি। কিন্তু রাতের আঁধারে মায়ের দেহাবশেষ সরিয়ে নেওয়া এমন অপরাধ, যা কোনো সন্তানের পক্ষে করা অসম্ভব।

ধর্মীয় বিধান না মেনে কবর স্থানান্তর—ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

আত্মীয়স্বজন জানান, ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী কবর স্থানান্তর করার রয়েছে কঠোর কিছু নিয়ম, যা কোনোভাবেই মানা হয়নি।

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন মা সন্তানের সর্বশেষ আশ্রয়। সেই মায়ের দেহাবশেষ রাতের আঁধারে গোপনে সরিয়ে নেওয়া চরম অমানবিকতা ও আইনগত অপরাধ।

এ ঘটনায় এলাকার মানুষ ও ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে ছোট ছেলে মুকুল খানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি মৃত সুফিয়া বেগমের দেহাবশেষ পুনরায় পূর্বের কবরস্থানে ফিরিয়ে এনে দাফনের ব্যবস্থাও চান তারা।

এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন মৃত সুফিয়া বেগমের ভাই দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার, এ বিষয়ে ওসি আদিল হোসেন বলেন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত্র পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে ।

মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি

৮-১২-২০২৫ রাত ১০:২৭

news image

মাদারীপুর পৌর শহরে ঘটেছে এক ব্যতিক্রমধর্মী হৃদয়বিদারক ঘটনা। মৃত্যুর ১৬ বছর পর কবর থেকে তুলে নিয়ে অন্যত্র নিয়ে মাটি মাটিচাপা চাপা দিয়ে রাখেন এক মায়ের দেহাবশেষ। জমি–বিবাদের জেরে ছোট ছেলে মুকুল খানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। রাতের আঁধারে গোপনে করা এই কর্মকাণ্ডে জেলার সর্বস্তরের মানুষ ক্ষোভ ও নিন্দায় ফুঁসে উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটে গত ৭ ডিসেম্বর (২০২৫) গভীর রাতে, তবে সোমবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।

মায়ের শেষ ইচ্ছাও রক্ষা পেল না।

মৃত সুফিয়া বেগম ছিলেন ধর্মপরায়ণ ও পর্দানশীল নারী। জীবদ্দশায় ছেলেদের অনুরোধ করেছিলেন তোদের বাড়ির আঙিনায় রেখো আমাকে।

পরিবারের সদস্যরাও তাঁর শেষ ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে বাড়ির এক কোনে দাফন করেন। ১৬ বছর ধরে কবরটি ছিল বড় ছেলে টুটুল খাঁন ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের পরম যত্নে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বড় ছেলে টুটুল বহু কষ্টে উপার্জিত অর্থ দিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে একখণ্ড জমি ক্রয় করেন। ছোট ভাইকে অবহেলা করতে না পেরে সেই জমি ক্রয় এর সময় তাঁরও নাম রাখেন দলিলে। পরে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জমি সমানভাবে ভাগ করে দেন। কাকতালীয়ভাবে মায়ের কবরটি পড়ে ছোট ভাই মুকুলের অংশে।

সেই সময় সকলের সামনে মুকুল আশ্বাস দিয়েছিলেন—মায়ের কবর আমার জায়গায় থাকলে কোনো আপত্তি নেই।

কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সবকিছু বদলে যায়। পরিবার দাবি করছে, নেশায় আসক্ত হয়ে পড়া মুকুল জমির লোভে মায়ের কবর সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ৭ ডিসেম্বর ভোরের আগে মুকুল ভাড়া করা লোকজন নিয়ে কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ তুলে বস্তায় ভরে পৌরসভার মিলমাঠ এলাকার গণকবরস্থানে ধর্মীয় বিধি না মেনে পুঁতে রাখেন।

খবরটি সোমবার সকালে প্রকাশ পেলে কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃত সুফিয়া বেগমের অন্য সন্তান ও আত্মীয়স্বজনেরা।

বিদেশ থেকে মুঠোফোনে বড় ছেলে টুটুল খান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন

আমার ভাই যদি জমি বা টাকার প্রয়োজন আমাকে জানাতো, আমি তাকে মায়ের কবরে যেই জায়গাটুকু আছে তার চারগুণ দাম দিতাম। কিন্তু মায়ের কবর ১৬ বছর পর এভাবে তুলে নেওয়া—এটা আমি মেনে নিতে পারছি না।

তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন নিজের উপার্জিত অর্থে কেনা জমি তাকে ভাগ দিয়েছি তাতেও কোনো দ্বিধা করিনি। কিন্তু রাতের আঁধারে মায়ের দেহাবশেষ সরিয়ে নেওয়া এমন অপরাধ, যা কোনো সন্তানের পক্ষে করা অসম্ভব।

ধর্মীয় বিধান না মেনে কবর স্থানান্তর—ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

আত্মীয়স্বজন জানান, ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী কবর স্থানান্তর করার রয়েছে কঠোর কিছু নিয়ম, যা কোনোভাবেই মানা হয়নি।

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন মা সন্তানের সর্বশেষ আশ্রয়। সেই মায়ের দেহাবশেষ রাতের আঁধারে গোপনে সরিয়ে নেওয়া চরম অমানবিকতা ও আইনগত অপরাধ।

এ ঘটনায় এলাকার মানুষ ও ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে ছোট ছেলে মুকুল খানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি মৃত সুফিয়া বেগমের দেহাবশেষ পুনরায় পূর্বের কবরস্থানে ফিরিয়ে এনে দাফনের ব্যবস্থাও চান তারা।

এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন মৃত সুফিয়া বেগমের ভাই দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার, এ বিষয়ে ওসি আদিল হোসেন বলেন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত্র পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে ।