সিরাজগঞ্জে জমে উঠেছে বাগবাটি জলপাইয়ের হাট
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
১১-১১-২০২৫ দুপুর ৪:৫৯
সিরাজগঞ্জে জমে উঠেছে বাগবাটি জলপাইয়ের হাট
সিরাজগঞ্জ মৌসুম শুরুতেই জমে উঠেছে মৌসুমি ফল জলপাই বিক্রীর হাট। হাটবার ছাড়াও নিত্যদিনই সদর উপজেলার বাগবাটি হাটে সকাল সন্ধ্যা চলছে জলপাই কেনা বেচার ধুম। এই টক ফলটি দিয়ে মুখরোচক আচার বানিয়ে সারা বছর খেতে পছন্দ করেন অনেকেই। প্রতিদিন সকালে অটোরিকশা, ভ্যান ও পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহনে নিয়ে আসছে বস্তাবোঝাই জলপাই। মাটিতে বিছানো পলিথিনে ঢেলে স্তুপ করেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এখান থেকেই পাইকারী ব্যবসায়ীরা জলপাই কিনে ওজন করে নিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ।
প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেখা যায় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি হাটে। মৌসুম জুড়ে জমজমাট হাটে প্রতিদিন জলপাই বিক্রি করতে আসেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিবছরের মতো এবারও জমে উঠেছে এই জলপাইয়ের হাট। এখানে দিনে অন্তত ৮ থেকে ১০টন জলপাই বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে। যার মূল্য ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। জলপাই গাছের তেমন পরিচর্যা করতে হয় না, দিতে হয় না কোনো প্রকার সার ও কীটনাশক। তাই জলপাই চাষিরা সহজেই লাভের মুখ দেখতে পান। সেজন্য বাড়ছে জলপাইয়ের চাষ। এই জলপাইয়ের হাটে বাগবাটি ইউনিয়নের সুবর্ণগাতি, হরিনা বাগবাটি, ফুলকোচা, খাগা, ঘোড়াচড়া, কানগাতি,ও বাক্ষ্রমবাগ গ্রাম থেকে জলপাই নিয়ে আসেন বিক্রেতারা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা।
জেলার বিভিন্ন উপজেলার পাশাপাশি, পাবনা, নাটোর, টাঙ্গাইল, বগুড়া ও ঢাকার পাইকারসহ দূর-দূরান্ত থেকে পাইকারী ব্যবসায়ীরা এখান থেকে জলপাই কিনে নিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়। স্থানীয় জলপাইয়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন বলেন, এখন সপ্তাহে রবি ও বৃহস্পতিবার বাগবাটিতে নিয়মিত হাট বসে। কিন্তু মৌসুম শুরু হওয়ায় প্রতিদিনই বসে জলপাইয়ের হাট। এ বছর বৃষ্টি বেশি হওয়ায় ফলন একটু কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। আরেক ব্যবসায়ী হাফিজুল ইসলাম বলেন, জলপাই গাছে মুকুল আসার পরই মালিকদের নিকট থেকে আমরা গাছ ক্রয় করি। আকার ভেদে প্রতিটি গাছে ১০ থেকে ১৫ মণ পর্যন্ত জলপাই ধরে। পাইকারি দরে প্রতি মণ কেনা হয় ৭০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা। এই জলপাই বাজারে প্রতি মন ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতিদিন এই হাটে সাড়ে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার জলপাই বেচাকেনা হয়। অপর এক ব্যবসায়ী তজিমুদ্দিন জানান, এখান থেকে জলপাই কিনে আমরা দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে থাকি। তিনি আরও বলেন, সিরাজগঞ্জের মধ্যে জলপাই বিক্রির জন্য বাগবাটি হাটই প্রসিদ্ধ।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম নাসিম হোসেন বলেন, নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ টক জাতীয় এই ফল সরাসরি খাওয়া গেলেও আচার হিসেবেই বেশি জনপ্রিয়। সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক এ কে এম মন্জুরে মওলা জানান, সাধারণত ৩ মাস অর্থাৎ আশ্বিন, কার্তিক ও অগ্রহায়ণ জলপাইয়ের মৌসুম। জলপাই গাছের তেমন পরিচর্যা করতে হয়না । এই ফলটি কৃষকদের বাড়তি আয়ের উৎস । উৎপাদন বাড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়।
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
১১-১১-২০২৫ দুপুর ৪:৫৯
সিরাজগঞ্জ মৌসুম শুরুতেই জমে উঠেছে মৌসুমি ফল জলপাই বিক্রীর হাট। হাটবার ছাড়াও নিত্যদিনই সদর উপজেলার বাগবাটি হাটে সকাল সন্ধ্যা চলছে জলপাই কেনা বেচার ধুম। এই টক ফলটি দিয়ে মুখরোচক আচার বানিয়ে সারা বছর খেতে পছন্দ করেন অনেকেই। প্রতিদিন সকালে অটোরিকশা, ভ্যান ও পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহনে নিয়ে আসছে বস্তাবোঝাই জলপাই। মাটিতে বিছানো পলিথিনে ঢেলে স্তুপ করেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এখান থেকেই পাইকারী ব্যবসায়ীরা জলপাই কিনে ওজন করে নিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ।
প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেখা যায় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি হাটে। মৌসুম জুড়ে জমজমাট হাটে প্রতিদিন জলপাই বিক্রি করতে আসেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিবছরের মতো এবারও জমে উঠেছে এই জলপাইয়ের হাট। এখানে দিনে অন্তত ৮ থেকে ১০টন জলপাই বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে। যার মূল্য ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। জলপাই গাছের তেমন পরিচর্যা করতে হয় না, দিতে হয় না কোনো প্রকার সার ও কীটনাশক। তাই জলপাই চাষিরা সহজেই লাভের মুখ দেখতে পান। সেজন্য বাড়ছে জলপাইয়ের চাষ। এই জলপাইয়ের হাটে বাগবাটি ইউনিয়নের সুবর্ণগাতি, হরিনা বাগবাটি, ফুলকোচা, খাগা, ঘোড়াচড়া, কানগাতি,ও বাক্ষ্রমবাগ গ্রাম থেকে জলপাই নিয়ে আসেন বিক্রেতারা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা।
জেলার বিভিন্ন উপজেলার পাশাপাশি, পাবনা, নাটোর, টাঙ্গাইল, বগুড়া ও ঢাকার পাইকারসহ দূর-দূরান্ত থেকে পাইকারী ব্যবসায়ীরা এখান থেকে জলপাই কিনে নিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়। স্থানীয় জলপাইয়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন বলেন, এখন সপ্তাহে রবি ও বৃহস্পতিবার বাগবাটিতে নিয়মিত হাট বসে। কিন্তু মৌসুম শুরু হওয়ায় প্রতিদিনই বসে জলপাইয়ের হাট। এ বছর বৃষ্টি বেশি হওয়ায় ফলন একটু কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। আরেক ব্যবসায়ী হাফিজুল ইসলাম বলেন, জলপাই গাছে মুকুল আসার পরই মালিকদের নিকট থেকে আমরা গাছ ক্রয় করি। আকার ভেদে প্রতিটি গাছে ১০ থেকে ১৫ মণ পর্যন্ত জলপাই ধরে। পাইকারি দরে প্রতি মণ কেনা হয় ৭০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা। এই জলপাই বাজারে প্রতি মন ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতিদিন এই হাটে সাড়ে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার জলপাই বেচাকেনা হয়। অপর এক ব্যবসায়ী তজিমুদ্দিন জানান, এখান থেকে জলপাই কিনে আমরা দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে থাকি। তিনি আরও বলেন, সিরাজগঞ্জের মধ্যে জলপাই বিক্রির জন্য বাগবাটি হাটই প্রসিদ্ধ।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম নাসিম হোসেন বলেন, নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ টক জাতীয় এই ফল সরাসরি খাওয়া গেলেও আচার হিসেবেই বেশি জনপ্রিয়। সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক এ কে এম মন্জুরে মওলা জানান, সাধারণত ৩ মাস অর্থাৎ আশ্বিন, কার্তিক ও অগ্রহায়ণ জলপাইয়ের মৌসুম। জলপাই গাছের তেমন পরিচর্যা করতে হয়না । এই ফলটি কৃষকদের বাড়তি আয়ের উৎস । উৎপাদন বাড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়।