পূজামন্ডপ গুলোতে দূর্গার পা মণ্ডপে ওঠার শেষ মুহূর্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫-৯-২০২৫ দুপুর ১১:৩১
পূজামন্ডপ গুলোতে দূর্গার পা মণ্ডপে ওঠার শেষ মুহূর্ত
মা দূর্গার মণ্ডপে উঠার শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে রাজধানীর পূজা মন্ডপ গুলোতে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচাইতে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। শরতের সূর্যের উকিঁ মাঝে মাঝে প্রকৃতির চোখের পানি, বৃষ্টির মধ্যে দিয়েও পূজা মন্ডপ গুলোতে চলছে আরম্বরপূর্ণ পূজার শেষ প্রস্তুতি।
রং তুলি আর সাজসজ্জায় রংবেরঙের মাধুরী মিশানো রূপ যেন প্রতিমাগুলোকে জীবন্ত করে তুলেছে। পূজা মন্ডপে প্রতিমা গুলোকে দর্শনের পূর্ব মুহূর্তের কাজ ও প্রায় শেষ। কাজের সুচারু হাতের প্রতিফলনে বোঝা যায় এ যেন প্রতিমা নয়, জীবন্ত দেবতা দাঁড়িয়ে আছে।
ষষ্ঠীর সময় এগিয়ে আসায় প্রতিমা শিল্পীদের যেন দম ফেলানোর সময় নেই। দিনরাত পরিশ্রম করে সময়মতো প্রতিমা হস্তান্তরের ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পী ও কারিগররা। রং তুলির আঁচড়ে তারা ফুটিয়ে তুলছেন দেব-দেবীর সৌন্দর্য।
রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকায় বিভিন্ন মন্দিরে গিয়ে সরজমিনে দেখা যায়, রাত দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে প্রতিটা মুহূর্ত কাজে লাগিয়ে প্রতিমা তৈরি করার পর এখন রং তুলিতে সাজাচ্ছেন শিল্পীরা। রং তুলিতে সেজে উঠেছে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিক সহ বিভিন্ন প্রতিমা। মনে হচ্ছে প্রতিমা নয় জীবন্ত দাঁড়িয়ে আছে এসব দেবদেবী।
শিল্পীরা জানান, ২৭ সেপ্টেম্বরের আগে প্রতিমা মণ্ডপে তুলতে হবে। কারণ, ২৮ তারিখ মহাষষ্ঠী। সেদিন থেকে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আয়োজন। যদিও গত ২১ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মধ্যে দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে গেছে।
পুরান ঢাকার শ্রী শ্রী প্রাণ বল্লভ জিঁউ মন্দিরে প্রতিমায় রংয়ের কাজ করছেন মৃৎশিল্পী শ্রী আরাধন পাল (২৫)। তিনি বলেন, ‘২৭ তারিখের মধ্যে প্রতিমার যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এখন রং তুলির কাজ চলছে। দেবী দুর্গাসহ বড় প্রতিমাগুলোর কাজ শেষ। ছোট প্রতিমাগুলোতে কেবল সাদা রং দিয়ে শুকাতে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘নিজ হাতে প্রতিমা তৈরির পর সেটায় আবার রং দিয়ে দেব-দেবীকে ফুটিয়ে তোলা বেশ আনন্দের। একজন শিল্পী হিসেবে হয়তো আমি প্রাপ্ত মজুরি বা সম্মান পাই না, তবে কেউ যখন প্রতিমা শিল্পী হিসেবে আমাকে উপস্থাপন করে সেটা আমাকে বেশ গর্বিত করে। ছোটবেলায় বাবা, ঠাকুর দাদাদের কাছ থেকে এসব কাজ শিখেছি। তারা এখন আর বেঁচে নেই। প্রতিমা তৈরির কাজ করে সংসার চালাচ্ছি।’
আগের দিনের কথা প্রতিমা শিল্পীরা বলেন, ‘তিন দশকের বেশি সময় ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ করছি। একটা সময় মজুরি পেতাম ৫০ টাকা ১০০ টাকা। তখন বেশ ভালো সংসার চলতো। আমাদের মতো শিল্পীদের কদর ছিল। আমার বাপ দাদারাও শিল্পী ছিলেন। সমাজের বিত্তবানরা বেশ সম্মান করতেন তাদের। কিন্তু এখন আর তেমনটা নেই। এখন দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরি পেয়েও সংসার চলে না।’
রংয়ের দাম বেড়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে এই শিল্পী বলেন, ‘আগে যে কৌটার দাম পাঁচ'শ টাকা এখন সেটা প্রায় সাতশ টাকা। পনের'শ টাকার রংয়ের কৌটা প্রায় দু'হাজার টাকা। রংয়ের দামের প্রভাব পড়েছে প্রতিমায়। আগে যে প্রতিমা তৈরিতে খরচ হতো আট থেকে দশ হাজার টাকা এখন সেই প্রতিমা তৈরিতে খরচ হচ্ছে বিশ হাজার টাকার ওপরে। এর সঙ্গে মজুরি যুক্ত হয়ে প্রতিমার দাম পড়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা।’
পঞ্জিকা অনুযায়ী আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠী। পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে সেদিন। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর সপ্তমী, ৩০ সেপ্টেম্বর অষ্টমী, ১ অক্টোবর নবমী, ২ অক্টোবর বিজয় দশমী প্রতীমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ৫ দিনব্যাপী এই দুর্গোৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫-৯-২০২৫ দুপুর ১১:৩১
মা দূর্গার মণ্ডপে উঠার শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে রাজধানীর পূজা মন্ডপ গুলোতে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচাইতে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। শরতের সূর্যের উকিঁ মাঝে মাঝে প্রকৃতির চোখের পানি, বৃষ্টির মধ্যে দিয়েও পূজা মন্ডপ গুলোতে চলছে আরম্বরপূর্ণ পূজার শেষ প্রস্তুতি।
রং তুলি আর সাজসজ্জায় রংবেরঙের মাধুরী মিশানো রূপ যেন প্রতিমাগুলোকে জীবন্ত করে তুলেছে। পূজা মন্ডপে প্রতিমা গুলোকে দর্শনের পূর্ব মুহূর্তের কাজ ও প্রায় শেষ। কাজের সুচারু হাতের প্রতিফলনে বোঝা যায় এ যেন প্রতিমা নয়, জীবন্ত দেবতা দাঁড়িয়ে আছে।
ষষ্ঠীর সময় এগিয়ে আসায় প্রতিমা শিল্পীদের যেন দম ফেলানোর সময় নেই। দিনরাত পরিশ্রম করে সময়মতো প্রতিমা হস্তান্তরের ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পী ও কারিগররা। রং তুলির আঁচড়ে তারা ফুটিয়ে তুলছেন দেব-দেবীর সৌন্দর্য।
রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকায় বিভিন্ন মন্দিরে গিয়ে সরজমিনে দেখা যায়, রাত দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে প্রতিটা মুহূর্ত কাজে লাগিয়ে প্রতিমা তৈরি করার পর এখন রং তুলিতে সাজাচ্ছেন শিল্পীরা। রং তুলিতে সেজে উঠেছে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিক সহ বিভিন্ন প্রতিমা। মনে হচ্ছে প্রতিমা নয় জীবন্ত দাঁড়িয়ে আছে এসব দেবদেবী।
শিল্পীরা জানান, ২৭ সেপ্টেম্বরের আগে প্রতিমা মণ্ডপে তুলতে হবে। কারণ, ২৮ তারিখ মহাষষ্ঠী। সেদিন থেকে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আয়োজন। যদিও গত ২১ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মধ্যে দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে গেছে।
পুরান ঢাকার শ্রী শ্রী প্রাণ বল্লভ জিঁউ মন্দিরে প্রতিমায় রংয়ের কাজ করছেন মৃৎশিল্পী শ্রী আরাধন পাল (২৫)। তিনি বলেন, ‘২৭ তারিখের মধ্যে প্রতিমার যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এখন রং তুলির কাজ চলছে। দেবী দুর্গাসহ বড় প্রতিমাগুলোর কাজ শেষ। ছোট প্রতিমাগুলোতে কেবল সাদা রং দিয়ে শুকাতে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘নিজ হাতে প্রতিমা তৈরির পর সেটায় আবার রং দিয়ে দেব-দেবীকে ফুটিয়ে তোলা বেশ আনন্দের। একজন শিল্পী হিসেবে হয়তো আমি প্রাপ্ত মজুরি বা সম্মান পাই না, তবে কেউ যখন প্রতিমা শিল্পী হিসেবে আমাকে উপস্থাপন করে সেটা আমাকে বেশ গর্বিত করে। ছোটবেলায় বাবা, ঠাকুর দাদাদের কাছ থেকে এসব কাজ শিখেছি। তারা এখন আর বেঁচে নেই। প্রতিমা তৈরির কাজ করে সংসার চালাচ্ছি।’
আগের দিনের কথা প্রতিমা শিল্পীরা বলেন, ‘তিন দশকের বেশি সময় ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ করছি। একটা সময় মজুরি পেতাম ৫০ টাকা ১০০ টাকা। তখন বেশ ভালো সংসার চলতো। আমাদের মতো শিল্পীদের কদর ছিল। আমার বাপ দাদারাও শিল্পী ছিলেন। সমাজের বিত্তবানরা বেশ সম্মান করতেন তাদের। কিন্তু এখন আর তেমনটা নেই। এখন দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরি পেয়েও সংসার চলে না।’
রংয়ের দাম বেড়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে এই শিল্পী বলেন, ‘আগে যে কৌটার দাম পাঁচ'শ টাকা এখন সেটা প্রায় সাতশ টাকা। পনের'শ টাকার রংয়ের কৌটা প্রায় দু'হাজার টাকা। রংয়ের দামের প্রভাব পড়েছে প্রতিমায়। আগে যে প্রতিমা তৈরিতে খরচ হতো আট থেকে দশ হাজার টাকা এখন সেই প্রতিমা তৈরিতে খরচ হচ্ছে বিশ হাজার টাকার ওপরে। এর সঙ্গে মজুরি যুক্ত হয়ে প্রতিমার দাম পড়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা।’
পঞ্জিকা অনুযায়ী আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠী। পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে সেদিন। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর সপ্তমী, ৩০ সেপ্টেম্বর অষ্টমী, ১ অক্টোবর নবমী, ২ অক্টোবর বিজয় দশমী প্রতীমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ৫ দিনব্যাপী এই দুর্গোৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটবে।