বিআরটিএর চট্ট্রগ্রাম মেট্রো-২ এ ঘুষ আদায়ের সিন্ডিকেট : উপ-পরিচালক সানাউক হকের ১২ সদস্য সক্রিয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮-৫-২০২৬ দুপুর ১১:৪৩
বিআরটিএর চট্ট্রগ্রাম মেট্রো-২ এ ঘুষ আদায়ের সিন্ডিকেট : উপ-পরিচালক সানাউক হকের ১২ সদস্য সক্রিয়
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম বায়জীদ বালুচলা কার্যালয় এখন অনিয়ম দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের আখড়ায় পরিনত হয়েছে। এই বিআরটিএর কার্যালয়ের ভেতরে কর্তকর্তা-কর্মচারী আর দালাল চক্রের যোগাসজসে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। বিআরটিএর ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিষ্ট্রেশন কিংবা ফিটনেসসহ প্রত্যেকটি সেবার জন্য সরকারি নির্ধারিত ফি এর চেয়ে গুনতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা।
সূত্র জানায়, চট্ট্রগ্রাম বিআরটিএর কার্যালয়ে ঘুষ ছাড়া কোন সেবাই পাচ্ছেন সেবা প্রত্যাশিরা। সরকার দুর্নীতিরন বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করলেও সেখানে তার উল্টো চিত্র চলছে। নিয়ম অনুযায়ূ অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য ১০ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে সিন্ডিকেটকে। আর সব চেয়ে ভীতিকর তথ্য হচ্ছে, এই টাকা দিলে কোন ধরণের লিখিত বা ব্যবহারিক পরীক্ষা ছাড়াই মিলছে ড্রাইভিং লাইসেন্স। অথচ বৈধভাবে আবেদন করে বছরের পর বছর পরীক্ষা দিয়েও অনেকেই ড্রাইভিং লাইসেন্স পাচ্ছেন না। ফলে সড়কে অদক্ষ চালকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। যা ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরী হচ্ছে।
অভিযোগে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মেট্রো-২ সার্কেলের উপ-পরিচালক (ইঞ্জি:) মো. সানাউল হকের বিরুদ্ধে এই সকল অভিযোগ সেবা প্রত্যাশিদের মুখে মুখে। এর আগে সিলেট ও রাজধানীর মিরপুর বিআরটিএর কার্যালয়ে থাকা কালে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ছিল। আর সিলেটে ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে পরিবহন শ্রমিকগণ আন্দোলন ও অবরোধের কর্মসূর্চী পর্যন্ত দিয়েছিল। সিলেটে শ্রমিক অন্তোষের মুখে তাকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করা হলেও চট্টগ্রামে গিয়ে তিনি আরো শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সুত্র জানায়, বিআরটিএর ঘুষ দুর্নীতিবাজ চক্রের অন্যতম আরেক জন হচ্ছেন, জেলা রাজস্ব কর্মকতা মো. সেলিম উল্লাহ। অফিস সহকারী পিয়ন খোরশেদ আলম, জুয়েল, সোহেল, রুবেল, পঙ্কজ, সেলিম, মহিউদ্দিন ও নৈশ্য প্রহরী লিটন। বিশেষ করে নৈশ্য প্রহরীকে দালাল চক্রের অন্যতম হিসেবে ভুক্তভোগিরা জানিয়েছেন। তার দাপটেই সব চেয়ে বেশী দুর্নীতি হচ্ছে।
চট্টগ্রামের বাহাত্তারপুলেল লেগুনাচালক আব্দুর রশিদ ও পতেঙ্গার সিএনজি চালক সোহাগসহ ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করে বলেছেন, তারা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও বিআরটিএর কার্যালয়ে কাজ করতে পারেন না। অথচ দালালের মাধ্যমে অল্প সময়ের ঘুঘ দিলে কাজ সারছেন অনেকেই। আবার চোরাই গাড়ির নাম মালিকানা পরিবর্তন, মোটর সাইকেল না দেখেই রেজিস্ট্রেশন এবং গাড়ির না দেখেই ফিটনেস সার্টিফিকেট দিয়ে দিচ্ছেন চক্রের সদস্যরা।
সড়ক পরিবহন সংক্রান্ত সংগঠনের এক সূত্র জানায়, বিআরটিএ’র কার্যালয়ের প্রতিটি কাজের জন্য পৃথক পৃথক ঘুষের হার নির্ধাণ করা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রুটপারমিট ও ফিটনেস ১০ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। হিউম্যান হলার ৫ হাজার টাকা হতে ৬ হাজার টাকা, ট্রাক/ড্রাম, ট্রাক ২ হাজার টাকা হতে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। আবার অটোরিকসা ৪০০ টাকা হতে ১হাজার টাকা। এছাড়াম, ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা থেকে ৭ হাজার টাকা, নম্বর প্লেজ এর জন্য নির্ধারিত ফি এর বাইরেও অতিরিক্ত আদায় করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২০২৩ সালের ২৩ মে বিআরটিএ কেন্দ্রীয় কার্যালয় একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা দেয়, ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করলেই সেবা পাওয়া যাবে। এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল ঘুষ ও দালাল নির্ভরতা বন্ধ করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। কিন্তু চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। টাকা জমা দিয়ে গ্রাহক ফাইল জমা দিলেও সেই ফাইল দিনের পর দিন পড়ে থাকে। যদি ‘সেটেল’ না হয়, অর্থাৎ দালাল সিন্ডিকেটের অনুমোদন না থাকে তবে কোনো ফাইলই কার্যকর হয় না। অথচ দালালের হাত ঘুরে আসা ‘বিশেষ চিহ্নিত’ ফাইল মুহূর্তেই নিষ্পত্তি পায়। লিটন বিআরটিএ’র অস্থায়ী কর্মচারী। তবে তিনি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মতো কার্যালয়ের বিভিন্ন সেকশনে নির্দ্বিধায় কাজ করছেন। সেখানে মালিকানা সেকশনে কোনো কাজ তার ইশারা ছাড়া হয় না। তার চাহিদা অনুযায়ী ঘুষ দিলে সেই কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়। এছাড়াও তার আরেকটি কাজ হলো ২০১৭ থেকে ২০২০ মডেলের প্রাইভেট গাড়ির জন্য ২০২১-২০২৪ সালের ভুয়া রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য কাগজপত্র তৈরি করা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ভুক্তভোগী জানান, চট্টগ্রাম বিআরটিএ অফিসে ঘুষ ছাড়া কোন সেবা পাওয়া যায় না। যে কোন কাজের জন্য আগে ঘুষের চুক্তি করতে হয়। চুক্তি হয়ে গেলে খুব সহজেই কাজ হয়ে যায়। আর চুক্তি না হলে দিনের পর দিন ঘুরেও কাংখিত সেবা পাওয়া যায় না। এসব ঘুষের সিন্ডিকেটে রয়েছেন সহকারী মোটরযান পরিদর্শক আব্দুল মতিন, জেলা রেজিস্ট্রেশন শাখার টিপু সুলতান, সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তাসহ কতিপয় অসৎ কর্মকর্তা। আর মেট্রো এলাকায় রেজিস্ট্রেশন শাখার ঘুষের ক্যাশিয়ার হিসেবে আছেন রুবেল নামের একজন বহিরাগত লোক। এই সিন্ডিকেট সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে ঘুষ ছাড়া কোন কাজ করেন না। আর ঘুষ না দিলে নানাভাবে হয়রানি করেন। এমনকি সব কাগজপত্র থাকলেও ঘুষ না দিলে ফাইল থেকে জরুরী কাগজ বের করে ফেলে দিয়ে গাড়ি মালিকদের বিপদে ফেলে দেন। ফলে অনেকে বাধ্য হয়েই ঘুষ দিয়ে থাকেন।
জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাংলাদেশ রোড পারমিট অথরিটি (বিআরটিএ) কে দুর্নীতির আখড়া হিসেবে চিহ্নিত করেছে। মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দালাল চক্রের সদস্য আটক ও জেল জরিমানা করা হলেও মূল হোতারা থাকছে ধরাছোয়ার বাইরে। বিআরটিএ’র উপ-পরিচালক সানাউলের দুর্নীতি ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তিনি সিলেটে সহকারী পরিচালক থাকার সময়ে দুর্নীতির মাধ্যমে আঙ্গুল ফলে কলাগাছ বনে গেছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮-৫-২০২৬ দুপুর ১১:৪৩
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম বায়জীদ বালুচলা কার্যালয় এখন অনিয়ম দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের আখড়ায় পরিনত হয়েছে। এই বিআরটিএর কার্যালয়ের ভেতরে কর্তকর্তা-কর্মচারী আর দালাল চক্রের যোগাসজসে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। বিআরটিএর ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিষ্ট্রেশন কিংবা ফিটনেসসহ প্রত্যেকটি সেবার জন্য সরকারি নির্ধারিত ফি এর চেয়ে গুনতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা।
সূত্র জানায়, চট্ট্রগ্রাম বিআরটিএর কার্যালয়ে ঘুষ ছাড়া কোন সেবাই পাচ্ছেন সেবা প্রত্যাশিরা। সরকার দুর্নীতিরন বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করলেও সেখানে তার উল্টো চিত্র চলছে। নিয়ম অনুযায়ূ অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য ১০ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে সিন্ডিকেটকে। আর সব চেয়ে ভীতিকর তথ্য হচ্ছে, এই টাকা দিলে কোন ধরণের লিখিত বা ব্যবহারিক পরীক্ষা ছাড়াই মিলছে ড্রাইভিং লাইসেন্স। অথচ বৈধভাবে আবেদন করে বছরের পর বছর পরীক্ষা দিয়েও অনেকেই ড্রাইভিং লাইসেন্স পাচ্ছেন না। ফলে সড়কে অদক্ষ চালকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। যা ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরী হচ্ছে।
অভিযোগে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মেট্রো-২ সার্কেলের উপ-পরিচালক (ইঞ্জি:) মো. সানাউল হকের বিরুদ্ধে এই সকল অভিযোগ সেবা প্রত্যাশিদের মুখে মুখে। এর আগে সিলেট ও রাজধানীর মিরপুর বিআরটিএর কার্যালয়ে থাকা কালে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ছিল। আর সিলেটে ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে পরিবহন শ্রমিকগণ আন্দোলন ও অবরোধের কর্মসূর্চী পর্যন্ত দিয়েছিল। সিলেটে শ্রমিক অন্তোষের মুখে তাকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করা হলেও চট্টগ্রামে গিয়ে তিনি আরো শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সুত্র জানায়, বিআরটিএর ঘুষ দুর্নীতিবাজ চক্রের অন্যতম আরেক জন হচ্ছেন, জেলা রাজস্ব কর্মকতা মো. সেলিম উল্লাহ। অফিস সহকারী পিয়ন খোরশেদ আলম, জুয়েল, সোহেল, রুবেল, পঙ্কজ, সেলিম, মহিউদ্দিন ও নৈশ্য প্রহরী লিটন। বিশেষ করে নৈশ্য প্রহরীকে দালাল চক্রের অন্যতম হিসেবে ভুক্তভোগিরা জানিয়েছেন। তার দাপটেই সব চেয়ে বেশী দুর্নীতি হচ্ছে।
চট্টগ্রামের বাহাত্তারপুলেল লেগুনাচালক আব্দুর রশিদ ও পতেঙ্গার সিএনজি চালক সোহাগসহ ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করে বলেছেন, তারা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও বিআরটিএর কার্যালয়ে কাজ করতে পারেন না। অথচ দালালের মাধ্যমে অল্প সময়ের ঘুঘ দিলে কাজ সারছেন অনেকেই। আবার চোরাই গাড়ির নাম মালিকানা পরিবর্তন, মোটর সাইকেল না দেখেই রেজিস্ট্রেশন এবং গাড়ির না দেখেই ফিটনেস সার্টিফিকেট দিয়ে দিচ্ছেন চক্রের সদস্যরা।
সড়ক পরিবহন সংক্রান্ত সংগঠনের এক সূত্র জানায়, বিআরটিএ’র কার্যালয়ের প্রতিটি কাজের জন্য পৃথক পৃথক ঘুষের হার নির্ধাণ করা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রুটপারমিট ও ফিটনেস ১০ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। হিউম্যান হলার ৫ হাজার টাকা হতে ৬ হাজার টাকা, ট্রাক/ড্রাম, ট্রাক ২ হাজার টাকা হতে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। আবার অটোরিকসা ৪০০ টাকা হতে ১হাজার টাকা। এছাড়াম, ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা থেকে ৭ হাজার টাকা, নম্বর প্লেজ এর জন্য নির্ধারিত ফি এর বাইরেও অতিরিক্ত আদায় করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২০২৩ সালের ২৩ মে বিআরটিএ কেন্দ্রীয় কার্যালয় একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা দেয়, ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করলেই সেবা পাওয়া যাবে। এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল ঘুষ ও দালাল নির্ভরতা বন্ধ করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। কিন্তু চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। টাকা জমা দিয়ে গ্রাহক ফাইল জমা দিলেও সেই ফাইল দিনের পর দিন পড়ে থাকে। যদি ‘সেটেল’ না হয়, অর্থাৎ দালাল সিন্ডিকেটের অনুমোদন না থাকে তবে কোনো ফাইলই কার্যকর হয় না। অথচ দালালের হাত ঘুরে আসা ‘বিশেষ চিহ্নিত’ ফাইল মুহূর্তেই নিষ্পত্তি পায়। লিটন বিআরটিএ’র অস্থায়ী কর্মচারী। তবে তিনি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মতো কার্যালয়ের বিভিন্ন সেকশনে নির্দ্বিধায় কাজ করছেন। সেখানে মালিকানা সেকশনে কোনো কাজ তার ইশারা ছাড়া হয় না। তার চাহিদা অনুযায়ী ঘুষ দিলে সেই কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়। এছাড়াও তার আরেকটি কাজ হলো ২০১৭ থেকে ২০২০ মডেলের প্রাইভেট গাড়ির জন্য ২০২১-২০২৪ সালের ভুয়া রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য কাগজপত্র তৈরি করা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ভুক্তভোগী জানান, চট্টগ্রাম বিআরটিএ অফিসে ঘুষ ছাড়া কোন সেবা পাওয়া যায় না। যে কোন কাজের জন্য আগে ঘুষের চুক্তি করতে হয়। চুক্তি হয়ে গেলে খুব সহজেই কাজ হয়ে যায়। আর চুক্তি না হলে দিনের পর দিন ঘুরেও কাংখিত সেবা পাওয়া যায় না। এসব ঘুষের সিন্ডিকেটে রয়েছেন সহকারী মোটরযান পরিদর্শক আব্দুল মতিন, জেলা রেজিস্ট্রেশন শাখার টিপু সুলতান, সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তাসহ কতিপয় অসৎ কর্মকর্তা। আর মেট্রো এলাকায় রেজিস্ট্রেশন শাখার ঘুষের ক্যাশিয়ার হিসেবে আছেন রুবেল নামের একজন বহিরাগত লোক। এই সিন্ডিকেট সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে ঘুষ ছাড়া কোন কাজ করেন না। আর ঘুষ না দিলে নানাভাবে হয়রানি করেন। এমনকি সব কাগজপত্র থাকলেও ঘুষ না দিলে ফাইল থেকে জরুরী কাগজ বের করে ফেলে দিয়ে গাড়ি মালিকদের বিপদে ফেলে দেন। ফলে অনেকে বাধ্য হয়েই ঘুষ দিয়ে থাকেন।
জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাংলাদেশ রোড পারমিট অথরিটি (বিআরটিএ) কে দুর্নীতির আখড়া হিসেবে চিহ্নিত করেছে। মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দালাল চক্রের সদস্য আটক ও জেল জরিমানা করা হলেও মূল হোতারা থাকছে ধরাছোয়ার বাইরে। বিআরটিএ’র উপ-পরিচালক সানাউলের দুর্নীতি ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তিনি সিলেটে সহকারী পরিচালক থাকার সময়ে দুর্নীতির মাধ্যমে আঙ্গুল ফলে কলাগাছ বনে গেছেন।