287628
শিরোনামঃ
ছাত্রদলের শীর্ষপদে আলোচনায় কমলনগরের জিয়া উদ্দিন বাসেত ঐক্যবদ্ধভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইসরাইলকে রক্ষায় পর্যাপ্ত সামরিক শক্তি নেই যুক্তরাষ্ট্রের: মার্কিন জেনারেল মুখোমুখি নয়, পরোক্ষ আলোচনায় বসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ইসরায়েলি হামলায় গাজায় অন্তঃসত্ত্বা নারী নিহত, গর্ভ থেকে ছিটকে পড়ল শিশু সাময়িক বরখাস্ত হলেন গুলিস্তানে সড়কের মধ্যে মারামারি করা দুই ট্রাফিক কনস্টেবল কেমন থাকতে পারে ঈদের দিনের আবহাওয়া যুক্তরাষ্ট্র–ইরান শান্তি আলোচনায় বড় অগ্রগতির খোঁজে পাকিস্তান রামিসা হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে- সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

সিরাজগঞ্জে যমুনার স্রোতেই চলে তাদের জীবন

#
news image

সিরাজগঞ্জের জেলে পরিবারের সব খরচই যেন যমুনা নদীর দান। এ নদী বয়ে নিয়ে যায় সিরাজগঞ্জের হাজার হাজার জেলের জীবন ও স্বপ্ন। নদী তাদের রিজিক ও আশ্রয় দুটোই। সূর্য যখন পশ্চিমে ঢলে, নদীপাড়ে শুরু হয় জেলেদের ব্যস্ততা। কেউ জাল মেরামত করছেন, কেউ নৌকার পাল ঠিক করছেন, কেউ বা স্রোতের দিকে নজর রেখে খুঁজছেন মাছ ধরার ভালো স্থান। সন্ধ্যার পর ছোট নৌকা নিয়ে জেলেরা নদীর গভীরে নামেন। অন্ধকার, স্রোত ও ঠান্ডা হাওয়ার সঙ্গে তাদের এক অদ্ভুত বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। রাতভর চলে জালের টানার শব্দ আর দূরের নৌকার লণ্ঠনের আলোর খোঁজে মাছের সন্ধান। ভোরের আলো ফুটতেই ফিরে আসেন তীরে। ধরা পড়া মাছ বিক্রি হয় সিরাজগঞ্জ শহরের মতি সাহেবের ঘাট, বেলকুচির সোহাগপুর, শাহজাদপুরের কৈজুড়ী ও কাজিপুরের আড়তে। সেই টাকাতেই চলে সংসার—চাল, ডাল, তেল, নুন ও সন্তানের খরচ।

কাজিপুরের বরইতলী মাঝিপাড়ার জেলে বীরেন চন্দ্র রায় বলেন, বাপ-দাদারা যমুনা, ইছামতি ও খালবিলে মাছ ধরেই জীবন চালিয়েছে। আমি ও তাই করি। বিকেলে জাল গুছাই, সন্ধ্যায় নৌকা নামাই। আল্লাহ যেভাবে রিজিক দেন, সেভাবেই চলে। যমুনা ও ইছামতিতে এখনো পাওয়া যায় আইড়, রুই, কাতল, বোয়াল, ইলিশসহ দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ। তবে ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে আয়-রোজগার—কখনো হাজার টাকা, কখনো পাঁচ হাজারও। নদী তাদের আশ্রয়, আবার শত্রু। বন্যার সময় ঘরবাড়ি ভেসে যায়, জাল নষ্ট হয়, তবু তারা থেমে থাকে না। 

যমুনার স্রোতের মতোই জেলেদের জীবন চলে নিরবচ্ছিন্ন ছন্দে। যখন শহরের মানুষ রাতের বিশ্রামে থাকে, তখনই যমুনার বুকে জেগে ওঠে জীবন ও সংগ্রামের নতুন গল্প একদল জেলের, যারা অন্ধকারেও খুঁজে বেড়ায় জীবনের আলো।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

১৯-১১-২০২৫ বিকাল ৫:১

news image

সিরাজগঞ্জের জেলে পরিবারের সব খরচই যেন যমুনা নদীর দান। এ নদী বয়ে নিয়ে যায় সিরাজগঞ্জের হাজার হাজার জেলের জীবন ও স্বপ্ন। নদী তাদের রিজিক ও আশ্রয় দুটোই। সূর্য যখন পশ্চিমে ঢলে, নদীপাড়ে শুরু হয় জেলেদের ব্যস্ততা। কেউ জাল মেরামত করছেন, কেউ নৌকার পাল ঠিক করছেন, কেউ বা স্রোতের দিকে নজর রেখে খুঁজছেন মাছ ধরার ভালো স্থান। সন্ধ্যার পর ছোট নৌকা নিয়ে জেলেরা নদীর গভীরে নামেন। অন্ধকার, স্রোত ও ঠান্ডা হাওয়ার সঙ্গে তাদের এক অদ্ভুত বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। রাতভর চলে জালের টানার শব্দ আর দূরের নৌকার লণ্ঠনের আলোর খোঁজে মাছের সন্ধান। ভোরের আলো ফুটতেই ফিরে আসেন তীরে। ধরা পড়া মাছ বিক্রি হয় সিরাজগঞ্জ শহরের মতি সাহেবের ঘাট, বেলকুচির সোহাগপুর, শাহজাদপুরের কৈজুড়ী ও কাজিপুরের আড়তে। সেই টাকাতেই চলে সংসার—চাল, ডাল, তেল, নুন ও সন্তানের খরচ।

কাজিপুরের বরইতলী মাঝিপাড়ার জেলে বীরেন চন্দ্র রায় বলেন, বাপ-দাদারা যমুনা, ইছামতি ও খালবিলে মাছ ধরেই জীবন চালিয়েছে। আমি ও তাই করি। বিকেলে জাল গুছাই, সন্ধ্যায় নৌকা নামাই। আল্লাহ যেভাবে রিজিক দেন, সেভাবেই চলে। যমুনা ও ইছামতিতে এখনো পাওয়া যায় আইড়, রুই, কাতল, বোয়াল, ইলিশসহ দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ। তবে ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে আয়-রোজগার—কখনো হাজার টাকা, কখনো পাঁচ হাজারও। নদী তাদের আশ্রয়, আবার শত্রু। বন্যার সময় ঘরবাড়ি ভেসে যায়, জাল নষ্ট হয়, তবু তারা থেমে থাকে না। 

যমুনার স্রোতের মতোই জেলেদের জীবন চলে নিরবচ্ছিন্ন ছন্দে। যখন শহরের মানুষ রাতের বিশ্রামে থাকে, তখনই যমুনার বুকে জেগে ওঠে জীবন ও সংগ্রামের নতুন গল্প একদল জেলের, যারা অন্ধকারেও খুঁজে বেড়ায় জীবনের আলো।