রাজশাহী ও এর পাশ্ববর্তী অঞ্চলের বাজারে পূজায় নারিকেলের দামে আগুন
রাজশাহী প্রতিনিধি
২৯-৯-২০২৫ দুপুর ২:১৫
রাজশাহী ও এর পাশ্ববর্তী অঞ্চলের বাজারে পূজায় নারিকেলের দামে আগুন
সনাতন ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে উপলক্ষে রাজশাহী ও এর পাশ্ববর্তী অঞ্চলের বাজার গুলোতে সকাল থেকে গভীর রাত অবধি শুরু হয়েছে নারিকেল বিক্রির ধুম। পূজায় অতিথি আপ্যায়নে প্রধান মুখরোচক খাবার হচ্ছে নারিকেলের নাড়ু। এছাড়া নারিকেল দিয়ে পায়েস সহ তৈরি করা হয় নানা স্বাদের খাবার। পূজার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই কদর বাড়ছে নারিকেলের। দরদাম কষাকষির পাশাপাশি পুজার নারিকেল কেনার জন্য ছুটাছুটি করছে ক্রেতারা এ দোকান থেকে অন্য দোকানে। একই সঙ্গে গুড়ের দোকানেও বাড়তি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
সরেজমিনে নগরীর সাহেববাজর, হড়গ্রাম, নওদাপাড়া সহ একাধিক বাজারে রবিবার সন্ধ্যায় দেখা যায়, নানা ধরনের ও আকারের নারিকেলের পসরা সাজিয়ে বসেছে দোকানীরা। তবে সব দোকানে পুরুষ ক্রেতার চেয়ে নারী ক্রেতার সংখ্যাই বেশি চোখে পড়ে। এবছর ছোট আকারের নারিকেল প্রতি জোড়া ১৪০ টাকা, মাঝারি ১৮০ টাকা এবং বড় সাইজের নারিকেলের জোড়া ২২০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে।
নগরীর আলুপট্টি পালপাড়া এলাকার নারায়ণ রয় বাজারে এসেছেন নারিকেল কিনতে। তার সাথে কথা বললে তিনি নারিকেলের উচ্চ মূল্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের পূজাতে নারিকেল একটি অন্যতম উপাদান। নারিকেল ছাড়া আমাদের পূজা হয়না। কিন্তু এই কয়েকদিন থেকে নারিকেলের যে পরিমাণ দাম বেড়েছে তা সত্যিই হতাশাজনক। আরেকটু দাম কম হলে ভালো হতো।’
শুধুমাত্র রাজশাহী মহানগরীতে নয়। পূজা উপলক্ষে নারিকেলের দাম বেড়েছে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে। জয়পুরহাটের পাঁববিবিতেও নারিকেলে দাম বেশি। বাড়তি দামে কিনতে হিমশিম খাচ্ছে হিন্দু প্রধান পরিবারগুলো। উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের তুলসী রানী স্বপরিবারে এসেছেন পাঁচবিবি বাজারে পূজার নারিকেল কিনতে। তিনি জানান, নারিকেল ছাড়া পূজার কথা ভাবাই যায় না দাম যতই হোক।
বাগজানা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক ও পূর্ব রামচন্দ্রপুর মন্দির কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্মল চন্দ্র সরকার বলেন, পুজার জন্য ৩০০ টাকা জোড়ায় ১৬’টি নারিকেল কিনেছি। গতবারের চেয়ে এবার দাম অনেক বেশি।
পাঁচবিবি বাজারের নারিকেল দোকানদার ফরহাদ খন্দকার জনি বলেন, ৬ বছর আগে এই নারিকেল ৬০ থেকে ৭০ টাকা জোড়ায় বিক্রয় করেছি এখন সেই নারিকেল বিক্রয় করতে হচ্ছে আকার ভেদে ২২০ থেকে ৩০০ টাকা জোড়ায়। ছাব্বির হোসেন বলেন, এবছর দূর্গাপুজাকে সামনে রেখে মোকামেই বেশি দামে নারিকেল কিনতে হচ্ছে এজন্য আমাদেরকেও একটু বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জীবনকৃষ্ণ সরকার বাপ্পী জানান, এ বছর উপজেলার ৮’টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ৭৫’টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। পূজা পার্বণে মিষ্টান্নর পাশাপাশি নারিকেলের নাড়ু ও গুড়-মুড়ির মোয়া হচ্ছে পূজার অন্যতম উপকরণ।
রাজশাহীর ভদ্রা আবাসিক পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবোধ চন্দ্র সরকার বলেন, নারিকলের দাম বেশি এটি নিয়ে যেমন আমরা চিন্তিত , আবার নারিকেল ছাড়া উৎসব হয়না। তাাই সবমিলিয়ে আমরা ব্যবসায়িদের দৃষ্টি আর্কষণ করছি নারিকেলের দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়েন না।’
রাজশাহী মহানগরীতে পূজা হচ্ছে ৮০ টি,এবং জেলাতে ৪১২ টি সব মিলিয়ে রাজশাহীতে এবার পূজার সংখ্যা ৪৯২ টি। সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে গতকাল থেকে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
রাজশাহী প্রতিনিধি
২৯-৯-২০২৫ দুপুর ২:১৫
সনাতন ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে উপলক্ষে রাজশাহী ও এর পাশ্ববর্তী অঞ্চলের বাজার গুলোতে সকাল থেকে গভীর রাত অবধি শুরু হয়েছে নারিকেল বিক্রির ধুম। পূজায় অতিথি আপ্যায়নে প্রধান মুখরোচক খাবার হচ্ছে নারিকেলের নাড়ু। এছাড়া নারিকেল দিয়ে পায়েস সহ তৈরি করা হয় নানা স্বাদের খাবার। পূজার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই কদর বাড়ছে নারিকেলের। দরদাম কষাকষির পাশাপাশি পুজার নারিকেল কেনার জন্য ছুটাছুটি করছে ক্রেতারা এ দোকান থেকে অন্য দোকানে। একই সঙ্গে গুড়ের দোকানেও বাড়তি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
সরেজমিনে নগরীর সাহেববাজর, হড়গ্রাম, নওদাপাড়া সহ একাধিক বাজারে রবিবার সন্ধ্যায় দেখা যায়, নানা ধরনের ও আকারের নারিকেলের পসরা সাজিয়ে বসেছে দোকানীরা। তবে সব দোকানে পুরুষ ক্রেতার চেয়ে নারী ক্রেতার সংখ্যাই বেশি চোখে পড়ে। এবছর ছোট আকারের নারিকেল প্রতি জোড়া ১৪০ টাকা, মাঝারি ১৮০ টাকা এবং বড় সাইজের নারিকেলের জোড়া ২২০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে।
নগরীর আলুপট্টি পালপাড়া এলাকার নারায়ণ রয় বাজারে এসেছেন নারিকেল কিনতে। তার সাথে কথা বললে তিনি নারিকেলের উচ্চ মূল্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের পূজাতে নারিকেল একটি অন্যতম উপাদান। নারিকেল ছাড়া আমাদের পূজা হয়না। কিন্তু এই কয়েকদিন থেকে নারিকেলের যে পরিমাণ দাম বেড়েছে তা সত্যিই হতাশাজনক। আরেকটু দাম কম হলে ভালো হতো।’
শুধুমাত্র রাজশাহী মহানগরীতে নয়। পূজা উপলক্ষে নারিকেলের দাম বেড়েছে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে। জয়পুরহাটের পাঁববিবিতেও নারিকেলে দাম বেশি। বাড়তি দামে কিনতে হিমশিম খাচ্ছে হিন্দু প্রধান পরিবারগুলো। উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের তুলসী রানী স্বপরিবারে এসেছেন পাঁচবিবি বাজারে পূজার নারিকেল কিনতে। তিনি জানান, নারিকেল ছাড়া পূজার কথা ভাবাই যায় না দাম যতই হোক।
বাগজানা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক ও পূর্ব রামচন্দ্রপুর মন্দির কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্মল চন্দ্র সরকার বলেন, পুজার জন্য ৩০০ টাকা জোড়ায় ১৬’টি নারিকেল কিনেছি। গতবারের চেয়ে এবার দাম অনেক বেশি।
পাঁচবিবি বাজারের নারিকেল দোকানদার ফরহাদ খন্দকার জনি বলেন, ৬ বছর আগে এই নারিকেল ৬০ থেকে ৭০ টাকা জোড়ায় বিক্রয় করেছি এখন সেই নারিকেল বিক্রয় করতে হচ্ছে আকার ভেদে ২২০ থেকে ৩০০ টাকা জোড়ায়। ছাব্বির হোসেন বলেন, এবছর দূর্গাপুজাকে সামনে রেখে মোকামেই বেশি দামে নারিকেল কিনতে হচ্ছে এজন্য আমাদেরকেও একটু বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জীবনকৃষ্ণ সরকার বাপ্পী জানান, এ বছর উপজেলার ৮’টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ৭৫’টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। পূজা পার্বণে মিষ্টান্নর পাশাপাশি নারিকেলের নাড়ু ও গুড়-মুড়ির মোয়া হচ্ছে পূজার অন্যতম উপকরণ।
রাজশাহীর ভদ্রা আবাসিক পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবোধ চন্দ্র সরকার বলেন, নারিকলের দাম বেশি এটি নিয়ে যেমন আমরা চিন্তিত , আবার নারিকেল ছাড়া উৎসব হয়না। তাাই সবমিলিয়ে আমরা ব্যবসায়িদের দৃষ্টি আর্কষণ করছি নারিকেলের দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়েন না।’
রাজশাহী মহানগরীতে পূজা হচ্ছে ৮০ টি,এবং জেলাতে ৪১২ টি সব মিলিয়ে রাজশাহীতে এবার পূজার সংখ্যা ৪৯২ টি। সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে গতকাল থেকে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।