রাজশাহীতে অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনে যানজট বাড়ছে
রাজশাহী প্রতিনিধি
১৯-১১-২০২৫ দুপুর ২:১৬
রাজশাহীতে অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনে যানজট বাড়ছে
একই জায়গায় পাশাপাশি অটো,বাস ও সিএনজি স্ট্যান্ড! সেখানেই সড়কের মাঝখানে চলছে ফ্লাইওভার নিমার্ণের কাজ। নির্মাণ কাজ চলায় মাঝে মাঝে সড়কের এক লেন চালু তো অন্য লেন থাকছে বন্ধ। এখানেই আবার ট্রেনের লাইন থাকায় ট্রেন চলাচলের জন্য ৫ থেকে ৭ মিনিটের জন্য রাস্তা থাকছে বন্ধ। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় সিএনজি স্টান্ডে সড়কেই সিএনজি ও মাহিন্দ্রা গাড়ি রাখার লম্বা সিরিয়াল এবং অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন।
এতে জগাখিচুড়ি অবস্থা রাজশাহী মহানগরীর রেলগেট এলাকার। ব্যাস্ততম এই সড়কে প্রতিদিনই তৈরী হচ্ছে তীব্র যানজট। একই মোড়ে সিএনজি, বাস ও অটোরিকশার স্ট্যান্ড থাকায় তাদের অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন অফিসগামী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলগেট মোড়েই তিন ধরনের যানবাহনের স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই। ট্রেন আসা-যাওয়ার সময় গেট বন্ধ থাকলে যানজট আরও বেড়ে যায়। এরপর গেট খোলার পর সবাই একসাথে ছুটে পড়ায় সৃষ্টি হয় বিশৃঙ্খলা।
সিনথিয়া ইসলাম আফ্রিন নামের একাদশ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী বলেন,“আমি প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে কলেজে যায়। তীব্র যানজট থাকায় আমাদের মত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত ক্লাসে যেতে দেরী হয়। এই আধা কিলোমিটার সড়কে এত যানজট কেন হয়। এই যানজটে আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। আমরা চাই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসুক। আমরা যাতে সময়মত কলেজে যেতে পারি।”
রফিক হাসান নামে এক বেসরকারী চাকুরিজীবি জানান, “প্রতিদিন রেলগেট পার হতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে। পুলিশ থাকে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয় না।”
জয়দুল ইসলাম নামের এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“এখনকার গাড়িগুলো সিরিয়াল মানতে চাই না। কে কার আগে যাবে তাই নিয়ে প্রতিযোগিতা চলে। এই রাস্তায় এমনিতেই যানজট লেগেই থাকে, তার উপরে আবার অটো, মাহিন্দ্রা, সিএনজিগুলো রাস্তার উপরেই পার্কিং করা হয়। এগুলো দেখার কেউ নেই।”
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, “রেলগেট মোড়ের যানজটের মূল কারণ গড়ে ওঠা স্ট্যান্ডগুলো। আমরা বেশ কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছি, কিন্তু তারা আবার ফিরে আসে। স্থায়ী সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড নির্ধারণ ও বিকল্প পথ ব্যবস্থার প্রয়োজন এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রন।”
রাজশাহী জেলা মিশুক মালিক সমিতির সভাপতি মাইনুল হক হারু বলেন, “রেলগেটে নির্মাণ কাজ চলায় আমাদের গাড়িগুলো রাখার জায়গা সংকীর্ণ হয়ে গেছে। আমি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলেছি, যাতে এই এলাকার কাজগুলো একটু দ্রুত করা হয়। ফ্লাইওভারের নিমার্ণ কাজ চলায় সড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।”
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের স্বদিচ্ছতা জরুরি উল্লেখ করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর রাজশাহী জেলার সভাপতি সফিউদ্দিন আহমেদ বলেন,“উন্নত বিশ্বে বিভিন্ন শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের একশো মিটারের ভিতরে কোন স্টপেজ বা স্ট্যান্ড হয়না। কিন্তু আমাদের রাজশাহীতে প্রতিটি মোড়ে মোড়ে স্ট্যান্ড। রেলগেটেই তিনটি গাড়ির স্ট্যান্ড হওয়ায় সেখানে যানজট চরমে। যানজট কমাতে গেলে আমাদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক লোকদের স্বদিচ্ছতার জরুরি। প্রতিটি মোড়ে যেখানে স্টপেজ হবে সেখানে যাত্রীছাউনি থাকতে হবে পাশাপাশি রেলগেট থেকে স্টপেজ সরিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে নিয়ে যেতে হবে যাতে সেখানে কোন যানজট সৃষ্টি না হয়।”
সড়কে শৃঙ্খলা এবং যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে জানিয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) নূর আলম সিদ্দিকী বলেন,“রেলগেটে ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে, সে কারণে মাঝে মাঝে এক লেন বন্ধ থাকে এবং অন্য লেনে গাড়ি চলাচল করে। ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ শেষ হলে আশা করছি এই সড়কে যানজট কমে আসবে। এছাড়াও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে।”
নগরবাসীর দাবি, রাজশাহী মহানগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মোড়ে দ্রুত শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
রাজশাহী প্রতিনিধি
১৯-১১-২০২৫ দুপুর ২:১৬
একই জায়গায় পাশাপাশি অটো,বাস ও সিএনজি স্ট্যান্ড! সেখানেই সড়কের মাঝখানে চলছে ফ্লাইওভার নিমার্ণের কাজ। নির্মাণ কাজ চলায় মাঝে মাঝে সড়কের এক লেন চালু তো অন্য লেন থাকছে বন্ধ। এখানেই আবার ট্রেনের লাইন থাকায় ট্রেন চলাচলের জন্য ৫ থেকে ৭ মিনিটের জন্য রাস্তা থাকছে বন্ধ। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় সিএনজি স্টান্ডে সড়কেই সিএনজি ও মাহিন্দ্রা গাড়ি রাখার লম্বা সিরিয়াল এবং অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন।
এতে জগাখিচুড়ি অবস্থা রাজশাহী মহানগরীর রেলগেট এলাকার। ব্যাস্ততম এই সড়কে প্রতিদিনই তৈরী হচ্ছে তীব্র যানজট। একই মোড়ে সিএনজি, বাস ও অটোরিকশার স্ট্যান্ড থাকায় তাদের অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন অফিসগামী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলগেট মোড়েই তিন ধরনের যানবাহনের স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই। ট্রেন আসা-যাওয়ার সময় গেট বন্ধ থাকলে যানজট আরও বেড়ে যায়। এরপর গেট খোলার পর সবাই একসাথে ছুটে পড়ায় সৃষ্টি হয় বিশৃঙ্খলা।
সিনথিয়া ইসলাম আফ্রিন নামের একাদশ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী বলেন,“আমি প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে কলেজে যায়। তীব্র যানজট থাকায় আমাদের মত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত ক্লাসে যেতে দেরী হয়। এই আধা কিলোমিটার সড়কে এত যানজট কেন হয়। এই যানজটে আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। আমরা চাই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসুক। আমরা যাতে সময়মত কলেজে যেতে পারি।”
রফিক হাসান নামে এক বেসরকারী চাকুরিজীবি জানান, “প্রতিদিন রেলগেট পার হতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে। পুলিশ থাকে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয় না।”
জয়দুল ইসলাম নামের এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“এখনকার গাড়িগুলো সিরিয়াল মানতে চাই না। কে কার আগে যাবে তাই নিয়ে প্রতিযোগিতা চলে। এই রাস্তায় এমনিতেই যানজট লেগেই থাকে, তার উপরে আবার অটো, মাহিন্দ্রা, সিএনজিগুলো রাস্তার উপরেই পার্কিং করা হয়। এগুলো দেখার কেউ নেই।”
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, “রেলগেট মোড়ের যানজটের মূল কারণ গড়ে ওঠা স্ট্যান্ডগুলো। আমরা বেশ কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছি, কিন্তু তারা আবার ফিরে আসে। স্থায়ী সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড নির্ধারণ ও বিকল্প পথ ব্যবস্থার প্রয়োজন এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রন।”
রাজশাহী জেলা মিশুক মালিক সমিতির সভাপতি মাইনুল হক হারু বলেন, “রেলগেটে নির্মাণ কাজ চলায় আমাদের গাড়িগুলো রাখার জায়গা সংকীর্ণ হয়ে গেছে। আমি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলেছি, যাতে এই এলাকার কাজগুলো একটু দ্রুত করা হয়। ফ্লাইওভারের নিমার্ণ কাজ চলায় সড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।”
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের স্বদিচ্ছতা জরুরি উল্লেখ করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর রাজশাহী জেলার সভাপতি সফিউদ্দিন আহমেদ বলেন,“উন্নত বিশ্বে বিভিন্ন শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের একশো মিটারের ভিতরে কোন স্টপেজ বা স্ট্যান্ড হয়না। কিন্তু আমাদের রাজশাহীতে প্রতিটি মোড়ে মোড়ে স্ট্যান্ড। রেলগেটেই তিনটি গাড়ির স্ট্যান্ড হওয়ায় সেখানে যানজট চরমে। যানজট কমাতে গেলে আমাদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক লোকদের স্বদিচ্ছতার জরুরি। প্রতিটি মোড়ে যেখানে স্টপেজ হবে সেখানে যাত্রীছাউনি থাকতে হবে পাশাপাশি রেলগেট থেকে স্টপেজ সরিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে নিয়ে যেতে হবে যাতে সেখানে কোন যানজট সৃষ্টি না হয়।”
সড়কে শৃঙ্খলা এবং যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে জানিয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) নূর আলম সিদ্দিকী বলেন,“রেলগেটে ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে, সে কারণে মাঝে মাঝে এক লেন বন্ধ থাকে এবং অন্য লেনে গাড়ি চলাচল করে। ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ শেষ হলে আশা করছি এই সড়কে যানজট কমে আসবে। এছাড়াও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে।”
নগরবাসীর দাবি, রাজশাহী মহানগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মোড়ে দ্রুত শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।