`স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৬৮ শতাংশই জনসাধারণের পকেটের’

8

দেশের মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৬৮ শতাংশই আসছে জনসাধারণের পকেট থেকে। চিকিৎসা করাতে গিয়ে রোগীরা দরিদ্র থেকে অতি দরিদ্র হয়ে পড়ছে।

আজ বুধবার (১৫ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) আয়োজিত ‘কেমন হলো স্বাস্থ্য বাজেট ২০২২-২৩’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে এমন তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য রিপোর্টারদের সংগঠনটি জানিয়েছে, বিদ্যমান অবস্থায় স্বাস্থ্য ও প্রয়োজনীয় সেবা পেতে দেশের নাগরিকদেরকে নিজেদের পকেট থেকে ৬৮ শতাংশ ব্যয় করতে হয়, তার মধ্যে ওষুধ ও পচনশীল (এমএসআর) চিকিৎসা সামগ্রী কিনতে ব্যয় হয় ৬৭ শতাংশ। ৫ শতাংশ ব্যয় হয় ইমেজিং সেবা পেতে, ৭ শতাংশ ব্যয় হয় ল্যাবরেটরি সেবা পেতে, ইনপেশেন্ট কিউরেটিভ সেবা পেতে ব্যয় হয় ৮ শতাংশ এবং আউটপেশেন্ট কিউরেটিভ সেবা পেতে ব্যয় হয় ১৩ শতাংশ।

এক গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে এতে জানানো হয়, দেশে গড়ে অসুস্থ বা দুর্ঘটনায় আক্রান্ত নাগরিকদের মধ্যে ১২ শতাংশ কোন আনুষ্ঠানিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন না। আউট রোগীদের মধ্যে মাত্র ১৭ শতাংশ সরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে যান। অন্যদিকে ৪০ শতাংশের বেশি রোগী বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, স্বাস্থ্যখাত যেভাবে চলছে, সেভাবেই চলবে। অর্থাৎ স্বাস্থ্যসেবা পেতে মানুষকে পকেট থেকেই সবচেয়ে বেশি ব্যয় করতে হবে। বিশেষায়িত সেবা পেতে মানুষকে জীবন-মান বিসর্জন দিতে হবে। কিন্তু সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫ (ক) অনুসারে চিকিৎসাসহ জীবন ধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব।

স্বাস্থ্য রিপোর্টারদের সংগঠনটি মনে করে, এই ব্যয় (আউট অব পয়েন্ট) ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনতে হলে জাতীয় বাজেটের ৭ থেকে ৮ শতাংশ বরাদ্দ প্রয়োজন। তাই জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে, যাতে রোগীদের পকেট থেকে ব্যয় ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।

Comments
[covid19 country="Bangladesh" title="Bangladesh"]