‘যা ঠিক সেটা বলতে হবে- এটাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ’

61

আব্দুন নূর তুষার:

১. লকডাউন ৫ আগস্ট তারিখ পর্যন্ত ছিলো। কি এমন ক্ষতি হতো যদি সেটা সবাই মেনে চলতেন। সবাই মানলেন, মানলেন না শুধু রপ্তানীমুখী গার্মেন্টস মালিকেরা। পাঁচটি দিন। এই ভয়াবহ সময়েও মাত্র পাঁচটি দিন অপেক্ষা করা গেলো না। কিছু বলার নাই। আল্লাহ তাদের সুমতি দেবেন না। শুধু টাকাই দেবেন।

২. এখনো সুরক্ষা অ্যাপে বিশেষভাবে সক্ষম আঠারো বছরের মানুষদের , যাদের অটিজম আছে তাদের কোন ক্যাটাগরী নাই। অথচ এদের অনেকেরই কেয়ারগিভারদের শারিরীক স্পর্শ দরকার হয় । সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয় না। তাই এদের জন্য সরাসরি টিকার ব্যবস্থা করা দরকার। তাদের ন্যাশনাল আইডি দেয়া হয় না। কেন? এই দেশে সে জন্মালে তার অধিকার আছে জাতীয় পরিচয়পত্র পাবার। এখন তাদের টিকার বেলাতেও অগ্রাধিকার নাই। অবিলম্বে তাদের ও তাদের পরিচর্যা কারীদের টিকা দেয়া দরকার। যাদের পাসপোর্ট নাই, আইডি নাই তাদের কি হবে? বিশেষ শিশুদের জন্য একটি কার্ড আছে কিন্তু সবার সেটা নাই। তাই এই শিশুদের বিষয়ে বাবা মা তাদের নিয়ে গেলেই টিকা দিয়ে দেয়া উচিত। বাবা মায়ের আইডির সাথে তাদের ট্যাগ করতে দিতে হবে এবং এতে করে আমরা জেনেও যাবো যে বাংলাদেশে আসলেই এরকম শিশু কতোজন। তাদের বাবা মায়ের ডেটাও পেয়ে যাবো।

৩. অনেক গর্ভবতী নারী আক্রান্ত হচ্ছেন। গর্ভবতী চিকিৎসকরাও । তাদের মধ্যে অনেকে মারা যাচ্ছেন। তাই অবিলম্বে সকল গর্ভবতী নারীকে ছুটি দেয়া দরকার। শুধু তাই নয় শেষ ট্রাইমেস্টার বা শেষ বারো সপ্তাহে তাদের আইসোলেশন করা দরকার। তারা যেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসা পান তাই গর্ভবতী মায়েদের জন্য ডেডিকেটেড আইসোলেশন সেন্টার ও হাসপাতাল জরুরী। কোভিড আক্রান্ত যারা নন তাদেরও বাড়ীতে সবার কাছ থেকে আইসোলেটেড হয়ে বাকি সময়টুকু রাখা দরকার। তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা বলয়ে নিয়ে যাওয়া দরকার।

৪. ভ্যাক্সিন যে কাজ করে সেটা সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বারবার বিজ্ঞাপন চালানো দরকার। সকল জনপ্রিয় অনলাইন সাইটে লগইন করলেই কালো রং এর লোভের ব্যবসার বিজ্ঞাপন পরে দিয়ে যেন টিকার মেসেজ শুরুতে আসে সেটা নিশ্চিত করা দরকার। ভ্যাক্সিন কারটা ভালো কারটা কম ভালো এসব আলোচনা বন্ধ করে দেয়া দরকার।

৫. যা প্রয়োজন সেটা বলাই শিক্ষিত মানুষের কাজ। যা ঠিক হচ্ছে না সেটা ধরিয়ে দেয়াই শিক্ষিত মানুষের কাজ। দেশপ্রেম মানে দেশের ভালো চাওয়া। আপনার সন্তানের ভালোর জন্য আপনি যদি তাকে তার ভুল ধরিয়ে দিতে পারেন তবে সকল ক্ষেত্রেই এটা করতে পারেন। কোন অসংগতি ধরিয়ে দেয়া সমালোচনা নয়। বরং এটা বললে সবার উপকার হবে। সমস্যার সমাধান হবে। যে জানে সে জানার কথা বলবে, যে শক্তিশালী সে শক্তি ব্যবহার করবে। যে অর্থশালী সে খরচ করবে।

”যার যা আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো”

এই কথা কেবল ১৯৭১ সালের জন্য নয়। এটা চিরদিনের কথা।

যার যা আছে তাই নিয়ে চিরকাল প্রস্তুত থাকাই দেশপ্রেমিকের কাজ। যদি বুঝি কিছু ঠিক হচ্ছে না সেটা বলবোই। এটা ভালোবাসা থেকে আসে।

“আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি….”

কেন বলেছিলেন? বলেছিলেন যাতে তিনি না থাকলেও যেনো আমরা তার কথাটি মনে রাখি, কাজটি সম্পন্ন করি। সঠিক কাজটি যেনো থেমে না থাকে।

সত্য আজও সত্য কালও সত্য। যিনি বললেন তিনি না থাকলেও তার কথা যে সত্য সেটা মহাকাল বুঝবে।

তাই যা ঠিক সেটা বলতে হবে। এটাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ।

লেখক: চিকিৎসক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।

Comments
[covid19 country="Bangladesh" title="Bangladesh"]