‘মৃত্যু’র ১৮ দিন পর জীবিত ফিরলেন বৃদ্ধা

16

করোনায় আক্রান্ত স্ত্রীর মরদেহ জেনে কবর ও শেষকৃত্য সম্পন্নের প্রায় তিন সপ্তাহ পরে জীবিত ফিরে এলেন সেই নারী। অপ্রত্যাশিত এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে।

প্রশাসনের ভুলে ভয়াবহ মানসিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে গেছেন ৭০ বছর বয়সী নারী মুথিয়ালা গিরিজাম্মার পরিবার। এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ১২ মে বিজয়ওয়াড়া শহরের সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন গিরিজাম্মা।

ভর্তি হওয়ার দিন থেকে শুরু করে পরপর চারদিন তার সঙ্গে দেখা করতে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন স্বামী মুথিয়ালা গাদায়া। কিন্তু চতুর্থ দিন, অর্থাৎ ১৫ মে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গিয়ে আর স্ত্রীর দেখা পাননি তিনি।

হাসপাতালের অন্যান্য ওয়ার্ড ঘুরেও খুঁজে পাননি স্ত্রীকে। স্ত্রী মারা গেছেন বলে পরে কর্তব্যরত নার্সদের কাছ থেকে জানতে পারেন গাদায়া। এরপর হাসপাতালে মর্গে খোঁজ নিলে ১৫ মে প্লাস্টিক র‍্যাপে মোড়ানো এক বৃদ্ধার মরদেহ গিরিজাম্মার বলে গাদায়াকে হস্তান্তর করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যু হলে মরদেহ থেকে ছোঁয়াচে ভাইরাসের বিস্তারের শংকা থেকে যায়। তাই মহামারিকালে এসব মরদেহ প্লাস্টিক র‍্যাপে মুড়িয়ে অন্তিম আনুষ্ঠানিকতা সারছে ভারতসহ বিশ্বের সব দেশ।

এদিকে, স্ত্রীর মরদেহ জেনে তা সঙ্গে করে নিয়ে নিজ গ্রাম ক্রিস্টিয়ানপেটে ফেরেন গাদায়া। সেদিনই মরদেহের শেষকৃত্যও সম্পন্ন করেন তিনি ও তার পরিবার।

স্ত্রীকে হারিয়ে যখন শোকস্তব্ধ মুথিয়ালা গাদায়া, সে সময় খবর পান ৩৫ বছর বয়সী ছেলে মুথিয়ালা রমেশকেও কেড়ে নিয়েছে করোনা। খাম্মাম শহরের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন রমেশ। সেখান থেকে তার মৃত্যুর খবর আসে ২৩ মে।

কয়েকদিনের ব্যবধানে দুই সদস্যকে হারিয়ে ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার। রমেশের শেষকৃত্য হয় ১ জুন। সেদিনই ছেলে ও স্ত্রীর স্মরণে মৃত্যু পরবর্তী আরও কিছু আনুষ্ঠানিকতা সারেন গাদায়া।

পরদিনই সবাইকে চমকে দিয়ে বাড়িতে এসে উপস্থিত হন গিরিজাম্মা। তখনও ছেলের মৃত্যুর খবর না পাওয়া বৃদ্ধা হা-হুতাশ করছিলেন যে কেন তিনি সুস্থ হয়ে গেলেও তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে পরিবারের কেউ হাসপাতালে যায়নি।

গিরিজাম্মা জানান, বাড়িতে ফেরার জন্য তাকে তিন হাজার রুপি দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার পর মুথিয়ালা পরিবার থেকে জানানো হয়, গিরিজাম্মা ভেবে যে প্লাস্টিক র‍্যাপে মোড়ানো যে মরদেহটি কবর দেয়া হয়েছে, করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় সেটি খুলে মৃতের মুখ দেখেননি কেউ।

গিরিজাম্মা জীবিত ফিরে এলেও সন্তানের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি তার পরিবার। গিরিজাম্মা বলে অন্য নারীর মরদেহ ধরিয়ে দেয়া বিজয়ওয়াড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই ক্ষমার অযোগ্য ভুলের ঘটনায় কোনো মামলা করেনি মুথিয়ালা পরিবার।

Comments

Bangladesh

Confirmed
837,247
+3,956
Deaths
13,282
+60
Recovered
773,752
Active
50,213
Last updated: জুন ১৭, ২০২১ - ২:০২ পূর্বাহ্ণ (+০০:০০)