বিসিপিএস :নির্বাচন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ

28

মাহবুব মোতানাব্বি

পাকিস্তান আমলে অল্প কিছু ভাগ্যবান ডাক্তার বৃত্তি বা পিতামাতার টাকায় বিলেতে পড়তে যেতেন। আবার কেউ কেউ মফস্বল থেকে এসে লজিং থেকে পড়াশোনা করতেন। বিলেত যেতে ও লাগতো শ্বশুরের টাকা। ডাক্তারদের জন্য উচ্চশিক্ষার এ ব্যাপারটা সহজ করার জন্য অধ্যাপক ডা.নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস, বি সি পি এস ।

বিলেতের পরীক্ষার সাথে সামঞ্জস্য রাখার জন্য অত্যন্ত উচ্চমানদন্ড স্থাপন করা হয় পরীক্ষার কৃতকার্যতার। মোটামুটি একটা ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় যে এখানে ঢোকা সহজ। বের হওয়া প্রায় অসম্ভব। আমরা যখন মেডিক্যালে ঢুকি, যে অল্প কিছু এফ সি পি এস চিকিৎসক তখন পর্যন্ত শিক্ষকের খাতায় নাম লেখাতে পেরেছেন, তাঁরা থাকতেন কোণঠাসা। কালের বিবর্তনে সময় পাল্টে যায়।

এম আর সি পি রা রিটায়ার করতে থাকেন। নব্য এফ সি পি এস রা সে স্থান নিয়ে নেন। যুদ্ধপরবর্তী সময়ে নতুন এম আর সি পি র ফ্লো কমে আসলো। দু একজন করে আসলে ও কোণঠাসা হয়ে থাকলেন। আই পি জি এম আর এই প্রতিষ্ঠানের হিন্টারল্যান্ড থাকলো। বি সি পি এস এর পরীক্ষার্থীদের কোর্স, থাকা খাওয়া সব বন্দোবস্তই ছিল আই পি জি এম আর এর অধীন। তখন খেয়ে না খেয়ে নতুন ফেলোরা বি সি পি এস এর কাজ করেছেন।

কিন্তু চিরদিন কাহারো সমান নাহি যায়। প্রথম যখন এম ডি কোর্স চালু হয় তখন কোর্সে ঢুকতে ট্রেনিং শেষ করার পূর্বশর্ত ছিল, যাতে শুধু কিছু ভাগ্যবানই সেখানে সুযোগ পেতো। এই পূর্বশর্ত উঠিয়ে দেয়ার পর সাধারণের জন্য তা উন্মুক্ত হয়। তার সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে নিজস্ব কোর্স ও ডিগ্রি চালু হয়ে যায়। তখন বি সি পি এস এর কোর্স চালানো হয়ে যায় বি এস এম এম ইউ র জন্য অতিরিক্ত বোঝা।

এখন বি সি পি এস এর নিজস্ব হাসপাতাল, নিজস্ব শিক্ষকমন্ডলী, ছাত্রদের আর্থিক সহায়তা, থাকার ব্যবস্থা এগুলো ছাড়া টিকে থাকা সম্ভব নয়। দুই প্রতিষ্ঠানের দ্বন্দ্বে যদি পরীক্ষা পাসের মানদণ্ড নামিয়ে এনে সংখ্যা বাড়ানো হয়, আখেরে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ছাত্ররাই।

সবচেয়ে বড় কথা, এতো বিশেষজ্ঞ একসময় এদেশ ধারণ করতে পারবে না। বিদেশী স্বীকৃতির ব্যাপারটা তখন মুখ্য হয়ে উঠবে। সবচেয়ে সাশ্রয়ী হবে, বি সি পি এস যদি উদ্যোগ নিয়ে একই ছাদের নীচে একই পরীক্ষার মাধ্যমে এম আর সি পি ডিগ্রি দেয়ার ও ব্যবস্থা নিতে পারে রয়েল কলেজের সাথে যোগাযোগ করে।

আর এত ডিগ্রি না রেখে সময় ও সংখ্যা কিভাবে কমানো যায়, তা ও ভাবা যায়। একাধিক ডিগ্রি নেয়ার জন্য একজন ডাক্তার কি সারাজীবন পড়তেই থাকবে?

মাহবুব মোতানাব্বি, ব্যাচ ৩৫, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ।

Comments

Bangladesh

Confirmed
1,249,484
+9,369
Deaths
20,685
+218
Recovered
1,078,212
Active
150,587
Last updated: জুলাই ৩১, ২০২১ - ৯:৩২ অপরাহ্ণ (+০০:০০)