বাতাস থেকে অক্সিজেন সংরক্ষণ আবিষ্কার এক ক্ষুদে বিজ্ঞানীর

79

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি :

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের স্বল্প খরচে অক্সিজেন চাহিদা পূরণে পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি সাঁড়া মাড়োয়ারি স্কুল এন্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্র এসএসসি পরীক্ষার্থী তাহের মাহমুদ তারিফ নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বাতাস থেকে অক্সিজেন তৈরি করে সংরক্ষণ করে রাখার সিলিন্ডার। যার নাম রাখা হয়েছে ‘অক্সিজেন জেনারেটর।’

ঈশ্বরদী উপজেলা প্রশাসন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সহযোগিতায় স্থানীয় প্রযুক্তিতে অক্সিজেন জেনারেটরটি তৈরি করতে সময় লেগেছে প্রায় তার মাত্র দুই মাস।

এর উদ্ভাবন ও তৈরি সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ দেন অক্সিজেন জেনারেটর উদ্ভাবনকারী ক্ষুদে বিজ্ঞানী তাহের মাহমুদ তারিফ।

মঙ্গলবার অপরাহ্নে ঈশ্বরদীর ইউএনও কার্যালয়ে এ সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন তাহের মাহমুদ। এ সময় তাঁর দুই সহযোগী ছাত্র মুনতাসির শ্রাবন, নিহাদ হাসান সঙ্গে ছিলেন। শিক্ষকদের মধ্যে রঞ্জন কুমার কুন্ডু, মকলেছুর রহমান, গোলাম মওলা, শহিদুল ইসলাম শাহিন, ফারজানা ইয়াসমিন, মতিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি সাঁড়া মাড়োয়ারি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আয়নুল ইসলাম বলেন, এক বছর আগে অক্সিজেনের অভাবে তারিফের বাবা আব্দুস সালাম মারা যান। এরপর থেকে অক্সিজেন তৈরির চিন্তা মাথায় আসে তাঁর। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সরকারি সাঁড়া মাড়োয়ারি স্কুল এন্ড কলেজে সে অধ্যায়নরত। তাঁর লেখাপড়ায় একাগ্রতা, জ্ঞানভিত্তিক আলোচনা, চিন্তা-চেতনায় উদ্ভাবনী চিন্তার প্রতিফলন দেখা যায়। তখন থেকেই সে একজন মেধাবী ছাত্র। তাঁর বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবন যৌক্তিক মনে করে তাহের মাহমুদকে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়। যার ফলে সে আজ সফলতার দ্বারপ্রান্তে। তিনি তাঁর সার্বিক সফলতা ও সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

উদ্ভাবনী অক্সিজেন জেনারেটর উপস্থাপন ও এর কার্যকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ দেন তাহের মাহমুদ তারিফ। তিনি বলেন, নিজস্ব চিন্তা থেকে এবং স্থানীয় প্রযুক্তি জেনারেটর, ইলেকট্রিক যন্ত্রাংশের সংযোজনে এটি তৈরি করা হয়েছে। বাতাস থেকে ‘অক্সিজেন জেনারেটরে’ অক্সিজেন তৈরি করা যাবে। ২৫ লিটার পর্যন্ত এতে অক্সিজেন সংরক্ষণ করা যাবে। সাত ঘন্টা পর্যন্ত এক নাগারে একজন মানুষের শরীরে অক্সিজেন প্রয়োগ করা যাবে এই জেনারেটরের মাধ্যমে। ৫-১০ মিনিট বিরতির পর আবার ৭ ঘন্টা অক্সিজেন জেনারেটর চালিয়ে অক্সিজেন প্রয়োগ করা যাবে। তিনি বলেন, অক্সিজেন জেনারেটর তৈরিতে ব্যয় হয়েছে ৬৫ হাজার টাকা। আমার উদ্ভাবন অক্সিজেন জেনারেটর যাতে কার্যকরী হয় সেজন্য সরকারি সংস্থার গবেষণাগারে পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইউএনও পিএম ইমরুল কায়েসের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তাহের মাহমুদ।

ঈশ্বরদীর ইউএনও পিএম ইমরুল কায়েস বলেন, সরকারি সাঁড়া মাড়োয়ারি স্কুল এন্ড কলেজের মেধাবী ছাত্র তাহের মাহমুদ তারিফের বাতাস থেকে অক্সিজেন উদ্ভাবন বিষয়ে যে গবেষণা এবং ফলাফল খুবই আশাবাঞ্জ্যক। কোভিড -১৯ মহামারির সময়ে ছাত্ররা যেখানে ঘরবন্দি সেক্ষেত্রে তারিফ সম্পূর্ণ ভিন্ন চিন্তাধারায় থেকে অসাধারণ সফলতা দেখিয়েছে যা আমাদের আশা জাগিয়েছে। তিনি বলেন, তারিফের এই উদ্ভাবন যাতে সফলতা পায় সেজন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ও সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ‘অক্সিজেন জেনারেটর’ কার্যকর কি-না তা পরীক্ষা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি তাহেরের উজ্জল ভবিষ্যত কামনা করেন এবং সার্বিক সহযোগিতার কথা জানান।

Comments
[covid19 country="Bangladesh" title="Bangladesh"]