বাঁচতে হলে লড়াই সংগ্রাম করে বাঁচতে হবে- নুরুল

6
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ’র সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, বর্তমানে আমরা যে পরিস্থিতিতে আছি লড়াইয়ের বিকল্প নেই। বাঁচতে হলে লড়াই সংগ্রাম করে বাঁচতে হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল হবে না। কারণ এরা সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করে ফেলছে, মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিয়েছে। কাজেই লড়াইয়ের মাধ্যমে আমাদের মোকাবেলা করতে হবে। যার শুরুটা হবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের মাধ্যমে।
সোমবার (১ মার্চ) আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলসহ চার দফা দাবিতে ছাত্র অধিকার পরিষদ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
নুর বলেন, যেকোনো সংকটে সম্ভাবনায় সারা দেশের মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে। একসময় এমপি-মন্ত্রীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে পায়ের ধূলো নিতে। আর এখন শিক্ষকরা পদের জন্য এমপি-মন্ত্রীদের কাছে ধরনা দেয় এটা আমাদের জন্য লজ্জার। দলীয়করণ করতে করতে রাষ্ট্রের সকল কাঠামোকে আজকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। জোর-জুলুম করে এই অবৈধ সরকার আর বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে লক্ষ্য করে নূর বলেন, নিম গাছ লাগিয়ে আঙ্গুল ফল আশা করলে তো হবে না। যে প্রক্টর মেয়র ফজলে নূর তাপসের হয়ে নৌকায় ভোট চায়, সে প্রক্টরের নিকট শিক্ষার্থী সুলভ আচরণ কিভাবে আশা করেন। যে ভিসি শিক্ষার্থীদের জঙ্গির সাথে তুলনা করেন, তার কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য বলতে দশ টাকায় চা, চমুসা সিঙ্গারা বুঝায় তার থেকে কিভাবে শিক্ষার্থী সুলভ আচরণ প্রত্যাশা করেন।
পুলিশকে লক্ষ্য করে ডাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, পুলিশের সাথে আমাদের কোনো বিরোধ নেই কিন্তু অত্যান্ত দুঃখের বিষয় পুলিশকে জনগণের মুখোমুখি করে দাঁড় করে দেওয়া হয়েছে। আপনারা রাষ্ট্রের কর্মকর্তা কর্মচারী , আপনারা কেন আওয়ামিলীগ ছাত্রলীগের হয়ে কাজ করছেন। আমি এডিসি হারুনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা করছি। তিনি ছাত্রলীগের গুণ্ডা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসে পুলিশের গাড়ি থাকবে কেন! এটাতো কোনো ক্যান্টোনম্যান্ট এরিয়া না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের বলবো ক্যাম্পাসে পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিবেন প্রয়োজনে আমাকে হুকুমের আসামী করবেন।
ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খাঁনের সভাপতিত্বে ও ঢাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল আহমেদের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রিয় যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান, মাহফুজুর রহমান, তারেক রহমান,
ঢাবি শাখার সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন, যুব অধিকার যুগ্ম আহ্বায়ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সালেহ উদ্দিন সিফাত, ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ আহসান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি, মুশতাক হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক বিচার করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
Comments

Bangladesh

Confirmed
678,937
Deaths
9,661
Recovered
572,378
Active
96,898
Last updated: এপ্রিল ১১, ২০২১ - ১২:১৭ অপরাহ্ণ (+০০:০০)