বরগুনায় ভুয়া চিকিৎসক গ্রেপ্তার

7

বরগুনা জেলায় ‘ভুল চিকিৎসায়’ নয় মাসের শিশু মৃত্যুর অভিযোগে ভুয়া নবজাতক, শিশু ও কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে শহরের মাছ বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শুক্রবার সকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

বরগুনা শহরের ফার্মেসী পট্টি এলাকায় ‘মিলন মেডিকেল হলে’ চেম্বার করতেন মাসুম বিল্লাহ। এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর মাসুম বিল্লাহর ভুল চিকিৎসায় মারা যায় নয় মাস বয়সী ইয়ামিন। শিশু ইয়ামিন সদর উপজেলার ৪ নম্বর ইউনিয়নের চালিতাতলা গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছেলে।

শিশুটির পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জ্বর ও সর্দিকাশিজনিত অসুস্থতার কারণে ইয়ামিনকে জেলার চাইল্ড কেয়ার সেন্টারে শিশুচিকিৎসক মাসুম বিল্লাহর কাছে নিয়ে যান মা-বাবা। শিশুটিকে দেখে জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন টেস্ট করাতে বলেন তিনি। টেস্ট করার পর রিপোর্টগুলো তাকে দেখানো হলে তিনি জানান, শিশু ইয়ামিনের হার্টে সমস্যা আছে। এক দিন পরপর তার নিজের চেম্বারে গিয়ে শিশুটিকে চারটি ইনঞ্জেকশন দিতে বলেন ডাক্তার। পরে রোববার বিকালে মাসুম বিল্লাহ নিজ হাতে শিশুটিকে একটি ইনঞ্জেকশন দেন এবং বাসায় নিয়ে ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ খাওয়াতে বলেন। তারপর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওষুধ খাওয়ানোর পরই খিচুনি দিয়ে শিশুটি মারা যায়।

সাইদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘চিকিৎসকের কথামতো তার লেখা ওষুধ সঠিকভাবেই খাওয়াইছি কিন্তু খাওয়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই আমার ইয়ামিনের পেট ফুলে-ফেপে ওঠে। এর পরই নিস্তেজ হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর খিচুনি দিয়ে আমার সামনেই মইরা গেল আমার নয় মাসের ছেলে।’

তিনি দাবি করেন, ‘আমার শিশু সন্তান ভুল চিকিৎসায় মারা গেছে। আমি এবং আমার পরিবার ওই ঘাতক চিকিৎসকের বিচার চাই। এ সামান্য অসুস্থতায় যে, এভাবে মারা যাবে চিন্তাও করতে পারি না।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মেহেদী হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভুল চিকিৎসায় নয় মাসের শিশু ইয়ামিনের মৃত্যু অভিযোগে মাসুম বিল্লাহ নামে এক চিকিৎসককে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশু বিশেষজ্ঞের তেমন কোনো সনদ দেখাতে পারেননি তিনি। তাকে আদালতের মাধ্যম কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

Comments
[covid19 country="Bangladesh" title="Bangladesh"]