পরাজিত প্রেমিকের উপমা এক

97

আবুল হাসনাৎ মিল্টন: 

আমার সাদামাটা জীবন। বিলাসিতায় অভ্যস্ত নই। মানুষের উপহারে বিব্রত হই, কুঁকড়ে যাই। মনের আনন্দে নিজের মত করে বাঁচি।

কদিন আগে ১৬ জুলাই ছিল আমার জন্মদিন। ফেসবুকে আপনাদের শুভেচ্ছা, ভালোবাসা আর স্নেহে আপ্লুত হয়েছি। এটাই বিশাল উপহার। আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

করোনার কালে এবার ন্যূনতম আয়োজনও আমি করতে দেই নি। আমাদের শহরে একই দিনে পিএইচডি ছাত্র রাজু চৌধুরীরও জন্মদিন। রাতে ওদের বাসায় নৈশভোজ ও একটা কেক কাটা হলো। ওরা আমাদের পরিবারেরই সম্প্রসারিত অংশ। তাই আমিও ওখানে ছিলাম। কেক কাটার ছুরিতে আমারো হাত ছিল।

কিন্তু কাহিনী এখানে এসে নতুন বাঁক নেয়। আমি অসহায়ের মত আত্মসমর্পনে বাধ্য হই। বৃষ্টিভেজা এক বিকেলে নূপুরজান পার্থিব-পূর্ণতাসহ আমাকে নিয়ে যায় শহরের মাজদা গাড়ির ডিলারের শো রুমে। তাড়াহুড়া করে কয়েকটা কাগজে সই করে। গোল টেবিলের আরেক প্রান্তে বসে আমি তখন কাঁচের শোরুমের ওপারে বৃষ্টির ঝরে পড়া দেখি।

আমার হাতে একটি কাগজ ধরিয়ে দিয়ে নূপুরজান বলে, ‘আপনার জন্মদিনের উপহার’। লাল টুকটুকে মাজদা সিএক্স এইট, ডিজেলচালিত ২.২ লি ইঞ্জিনের, ২০২১ সালের স্পোর্টস মডেলের, সেভেন সিটার।

আমি টেস্ট ড্রাইভে গেলাম। মূল গাড়িটা জাপানে তৈরী হচ্ছে। আমরা ১ নভেম্বরের মধ্যে পাবো বলে আশা করছি। করোনার কারণে অস্ট্রেলিয়ায় নতুন গাড়ি পেতে এখন অনেক সময় লাগছে।

ভালোবাসার প্রতিটি খেলায় নূপুরজানের কাছে আমি এভাবেই হেরে যাই রোজ। পরাজিত প্রেমিকের উপমা হয়ে ফুটে থাকি প্রণয়ের বনে।

Comments
[covid19 country="Bangladesh" title="Bangladesh"]