দেশে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ ভারতীয় অবৈধভাবে কাজ করছে

9

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডয়সে ভেলের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে  প্রায় ৫ লাখ ভারতীয় বিভিন্ন খাতে চাকরি করছেন। এদের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশের ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে। এদের বেতন ডলারে ভারতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
সফটওয়্যার ও ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের কারণে বাংলাদেশের আইটি সেক্টরে ভারতীয়দের দাপট বেশি। ট্রাভেল এজেন্টদের বড় একটি অংশ ভারতীয়দের নিয়ন্ত্রণে। পোশাক খাতের টেকনিশিয়ান ও ডিজাইনার কাজে ভারতীয় বেশি। এমনকি সংবাদমাধ্যম, বিজ্ঞাপন, কনসালটেন্সি, একাউন্টেন্ট, প্রশাসনিক খাতেও ভারতীয়রা রয়েছেন। ভারতের পরেই শ্রীলঙ্কা, চীন ও থাইল্যান্ডের অবস্থান।
গতকাল ডয়সে ভেলে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, নানা কারণে বাংলাদেশের পোশাক খাতে ভারতীয়দের অবস্থান শক্ত। করোনাভাইরাসের কারণে চীনাদের দাপট কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়ায় ভারতীয়দের দাপট আরও বাড়তে পারে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
আইটি খাতের একজন উদ্যোক্তা জানান, সফটওয়্যার ও ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে ভারতীয় কৌশল ব্যবহারের কারণে ওই দেশের জনশক্তিকেও কাজ দিতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে তাদের লোক রাখার শর্তজুড়ে দেয়া হয়। ট্রাভেল এজেন্টদের বড় একটি অংশও ভারতীয়দের নিয়ন্ত্রণে। এটা সরকারের পলিসির বিষয়। সরকার পলিসি ঠিক করলে তাদের দাপট কমবে।
এ প্রসঙ্গে বিডিজবস ডটকমের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর বলেন, কর্মরত বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয়রাই শীর্ষে। অধিকাংশরাই অবৈধভাবে কাজ করেন। তাদের পেমেন্টও এখানে করা হয়না। ভারতীয় হলে তার পেমেন্ট ভারতেই দেয়া হয়। যারা নিয়োগ করেন তারা এরকম একটা সিস্টেম গড়ে তুলেছেন। দেশ থেকে কতো রেমিট্যান্স দেশের বাইরে যায় সে হিসাবটি দেখলে কর্মরত বিদেশিদের সংখ্যা সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়। পোশাক খাতের আয়েরও বড় একটি অংশ ভারতীয় টেকনিশিয়ান ও ডিজাইনাররা নিয়ে যান।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ৫ ফেব্রুয়ারি এক প্রতিবেদনে জানায়, দেশে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার বিদেশি বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরত। তাদের মধ্যে বৈধ ৯০ হাজার। অর্থাৎ অনুমতি নিয়ে কাজ করছেন ৯০ হাজার। বাকিরা অবৈধ। যারা বৈধভাবে আছেন তাদের মধ্যে ৫০ভাগ কোনও অনুমতি না নিয়েই টুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে এসে কাজ করছেন। এই বিদেশিরা বছরে ২৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে পাচার করেন। টিআইবি বাংলাদেশে বিদেশিদের হিসাব করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ২০১৮ সালে দেয়া ৮৫ হাজার ৪৮৬ জন বৈধ বিদেশির তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। যদিও বাস্তবে এই সংখ্যা বহুগুণ বেশি।

দু’টি তৈরি পোশাক কারখানার মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নানা কারণে পোশাক খাতে ভারতীয়দের অবস্থান শক্ত। এর কারণ পোশাক খাতে জিজাইনসহ কয়েকটি বিষয়ে দক্ষ জনশক্তির অভাব। আর পোশাকের বায়িং হাউজগুলো নিয়ন্ত্রণ করে ভারতীয়রা। ফলে পোশাক কারাখানাগুলো বায়ার পেতে তাদের কারখানায় মার্কেটিং এবং হিসাব বিভাগেও ভারতীয়দের নিয়োগ করে। তাদের মতে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোতে এক লাখেরও বেশি ভারতীয় কাজ করেন। অন্যদিকে বায়িং হাউজে এই সংখ্যা আরও বেশি।

এর বাইরে আইটি খাতেও ভারতীয়দের দাপট। এমনকি বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম, বিজ্ঞাপন, কনসালটেন্সি এসব খাতেও ভারতীয়রা রয়েছেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে কম করে হলেও পাঁচ লাখ ভারতীয় কাজ করে বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু তাদের অধিকাংশেরই কোনো ওয়ার্ক পারমিট নেই।

Comments

Bangladesh

Confirmed
357,873
+1,106
Deaths
5,129
+36
Recovered
268,777
Active
83,967
Last updated: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০ - ৩:৩২ অপরাহ্ণ (+০০:০০)