ঢাবি ফজলুল হক হলে শিক্ষার্থীদের বের করে দিলো ছাত্রলীগ

14
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম  হলের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক রুম থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই হলের ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। গতকাল ২৮ নভেম্বর (রবিবার) রাতে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
অভিযুক্তরা হলেন ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাসের অনুসারী,  ফজলুল হক মুসলিম হলের ছাত্রলীগের হল কমিটির পদপ্রত্যাশী ২০১৪-১৫ সেশনের  মো সারোয়ার হোসেন ও ২০১৩- ১৪ সেশনের  সানোয়ার হোসেন নাঈম। তারা দুই জনেই পরিসংখ্যান ও জৈব পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা বলেন, গতকাল রাতে সারোয়ার ও নাঈম রাতে আমার রুমে আসে।এসে আমাকে আমার রুম (২৫৭) ছেড়ে দিয়ে ১১৬ নাম্বার রুমে যেতে বলে। শুধু গতকালকে না প্রায় দুই সপ্তাহ থেকে আমাকে এভাবে  হুমকিস্বরূপ কথা বলতেছে রুম ছাড়ার জন্য। মাঝে মাঝে গভীর রাতে ঘুম থেকে  তুলে হুমকি দিয়ে বলে,”রুম কবে ছাড়বি?”
“তাদের সাথে (সারোয়ার ও নাঈম) আমাদের দায়িত্বরত আবাসিক শিক্ষক আলমগীর কবিরের নেতৃত্বে দুই জন শিক্ষক এসেছিলেন।বাকি দুই জন আবাসিক শিক্ষকের নাম জানা যায়নি। তাদেরকে (শিক্ষকদের) আমরা এই বিষয়ে বললাম তো আলমগীর কবির স্যার অভিযুক্তদের ( সারোয়ার ও নাঈম)  পক্ষ নিয়ে কথা বলতেছেন।
তিনি বললেন,”তুমি কালকে আমার সাথে  সকালে দেখা কর। তোমার পছন্দের কোন রুম থাকলে সেখানে ওঠ।তারা (সারোয়ার ও নাঈম) চারজন একসাথে এই রুমে থাকবে।”
“শুধু আমার রুম না এই রকম পঁচিশ জনের মতো হবে যাদের সাথে তারা ( সারোয়ার ও নাঈম) এই রকম করতেছে। কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চাচ্ছে না। কেউ চাচ্ছে না ছাত্রলীগের মারধরের শিকার হতে।যাদের সাথে এরকম করতেছে তারা সবাই (ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা) হল প্রসাশন থেকে সিট পেয়েছে।”
ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমার বিসিএস পরীক্ষার কারণে আমি একটু বাইরে আছি। আজকে শুনলাম আমার রুমের সকল প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বের করে দিয়েছে।এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।অথচ আমি এখনো বৈধ সিটধারী। এটা কেমন আচরণ?হল প্রসাশন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাদের সাপোর্ট দিচ্ছে।”
আরেক শিক্ষার্থী জানান, “তারা আমাদের জোর পূর্বক রুম থেকে বের দিতে চাচ্ছে। আমার রুমের তালা ভেঙে আমার জিনিসপত্র বের করে দিছে। এরকম হলে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? তারা চাচ্ছে এই রুমগুলো কে রাজনৈতিক রুমে পরিণত করার জন্য।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সারোয়ার হোসেন হাসতে হাসতে বলেন, আমি কাউকে এই বিষয়ে জোর করি নাই।হল প্রসাশন থেকে আমাকে একটা রুম দিয়েছে। আমি এখানেই আছি।অন্য কারো বিষয় নিয়ে আমার মাথা ব্যাথা নেই।
অভিযুক্ত নাঈমকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবাসিক শিক্ষক আলমগীর কবির বলেন,অন্য রুমে যাওয়ার কথা আমি বলতেই পারি। শিক্ষার্থীদের মন চাইলে রুম পরিবর্তন করতে পারে। সে (ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী) ঐ রুমেই (২৫৭) আছে।সে রুম পরিবর্তন করেনি। এজন্য আমি তাকে জোর করি নাই।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শাহ্ মো. মাসুম বলেন, আমি এখনো এই বিষয়ে জানি না। এগুলো বিষয় আবাসিক শিক্ষকরা দেখে।
আবাসিক শিক্ষক (আলমগীর কবির) অভিযুক্তদের (সারোয়ার ও নাঈম) পক্ষ নিয়ে কথা বলেছেন এই বিষয়ে কিছু জানেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এই বিষয়ে জানি না। দায়িত্বরত আবাসিক শিক্ষকদের সাথে কথা বলতেছি। তারপরে এই বিষয়ে জানতে পারব।
Comments
[covid19 country="Bangladesh" title="Bangladesh"]