গ্রামাঞ্চলে করোনাকে স্বাভাবিক জ্বর-সর্দি ভাবায় মৃত্যু বাড়ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

14

গ্রামাঞ্চলে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, গ্রামের মানুষ করোনাভাইরাসকে স্বাভাবিক জ্বর-সর্দি ভাবছে। ফলে যখন রোগীর অক্সিজেনের ঘাটতি বৃদ্ধি পাড়ছে ও পরিস্থিতি জটিলাকার ধারণ করছে তখন হাসপাতালে আসছেন। কিন্তু ততক্ষণে আর চিকিৎসকদের কিছুই করার থাকছে না।

আজ রোববার (১১ জুন) দুপুরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এক অনলাইন আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। তবে শহরের তুলনায় সংক্রমণ এখন গ্রামাঞ্চলেই বেশি ছড়িয়ে পড়ছে। তাঁরা করোনাভাইরাসকে স্বাভাবিক জ্বর-সর্দি ভাবছে। কিন্তু এক পর্যায়ে যখন শ্বাসকষ্ট একদম বেড়ে যায়, তখন তারা হাসপাতালে ছুটে আসে। কিন্তু তখন তাদের ফুসফুসের প্রায় ৭০ ভাগের মতো ক্ষতি হয়ে গেছে। তাঁদের অক্সিজেন নেমে গেছে ৭০ থেকে ৮০ ভাগে। কিন্তু তখন আর চিকিৎসা দিয়ে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয় না।’

করোনায় পারিবারিক কলহ ও বাল্যবিয়ে বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে পারিবারিক কলহ ও বাল্যবিয়ে বেড়েছে। এ সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি কিছুটা কমেছে। মানুষ ক্লিনিক ও হাসপাতালে আসতে ভয় পাচ্ছে। অভিভাবকরা কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে। মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার যাতে বেড়ে না যায় তারা সতর্ক রয়েছেন।

দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমেছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আগে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২ দশমিক ৬ ভাগ ছিল, এখন সেটা এক দশমিক ৩ ভাগ হয়েছে। জন্ম নিয়ন্ত্রণের উপকরণ ব্যবহারের হার আগে ছিল শতকরা ৮ ভাগ। যা এখন প্রায় ৬৪ ভাগে পৌঁছেছে। আমরা আরও বেশি আশা করি। এই করোনার মধ্যেও আমাদের কর্মীরা জন্মনিয়ন্ত্রণ উপাদান বিতরণের কাজটি অব্যাহত রেখেছে।’

স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূরের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, পরিবার কল্যাণ অধিদপ্তরের ডিজি শাহান আরা বানুসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

Comments
[covid19 country="Bangladesh" title="Bangladesh"]