ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর খোলা চিঠি প্রসঙ্গে

95

মিজান ইবনে হোসেন

মুক্তিযুদ্ধের দুর্দান্ত সাহসী চিকিৎসক জনাব ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী আপনি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা! আপনি আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা নন! এই কথাটি ভুলে গেলে চলবেনা। জননেত্রী শেখ হাসিনা কে কখনো উপদেশ দেওয়ার চেষ্টা করবেন না!

জনাব, ড. হাছান মাহ্‌মুদ, এমপি মাননীয় মন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ডাঃ জাফরুল্লাহ সাহেব পাকিস্তানকে ক্ষমা করে দেয়ার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছেন। যেখানে পাকিস্তানের কাছে আমরা দাবি করছি যে, পাকিস্তান ক্ষমা চাক, সেখানে বিএনপি নেতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বললেন, পাকিস্তানকে ক্ষমা করে দেয়ার জন্য। এটি জাফরুল্লাহ সাহেবের বক্তব্য নয়, এটি হচ্ছে পুরো বিএনপির অন্তর্গত বক্তব্য। তারা যে এখনও পাকিস্তানকে ভুলতে পারছে না, এটি তারই বহির্প্রকাশ। আমি এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই।

ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি পরামর্শঃ ড. ইউনূসকে বিশেষ দূত করার পরামর্শঃ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে৷ খোলা চিঠিতে জনাব, ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী উল্লেখ করেন, ট্রিপসের বাধ্যতামূলক (Compulsory) লাইসেন্সের মাধ্যমে ভ্যাকসিন উৎপাদন সুবিধা সৃষ্টির জন্য নোবেল লরিয়েট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আপনার বিশেষ দূত করে ইউরোপে পাঠান।

আমার মন্তব্যঃ জনাব ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী আপনি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা! আপনি আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা নন! এই কথাটি ভুলে গেলে চলবেনা। জনাব ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী আপনাকে অনেক সময় মিডিয়াতে দেখি আপনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কে উপদেশ দেওয়ার চেষ্টা করেন। অত্যন্ত বিনয়ের সাথে আপনাকে বলছি, আপনি কখনো ঐতিহাসিক ঐতিহ্যবাহী পৃথিবী বিখ্যাত শক্তিশালী সংগঠন আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে জ্ঞান অথবা পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করবেন না! কারণ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে সময়ের শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবী ও উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য(১) জনাব, ডাঃ এস এ মালেক স্যার রয়েছেন মাননীয় সভাপতি মহোদয় কে পরামর্শ দেওয়ার জন্য। তাছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অনেক বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বুদ্ধিজীবী রয়েছেন তাঁরা আওয়ামী লীগ সভাপতিকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য বসে আছেন।

মুজিব আদর্শের সৈনিক গড়ার কারিগর বীর মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বঙ্গবন্ধু পরিষদ এর প্রাণপুরুষ এবং নবনির্বাচিত সভাপতি জনাব ডাঃ এস এ মালেক স্যার আমাদেরকে বলেছেন “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা,১৯৮১-২০২১ অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিলেতিলে আওয়ামী লীগ সংগঠনকে গড়ে একটা শক্তিশালী সংগঠনে পরিনত করেছেন। ২০ বার নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে আল্লাহ তাঁকে আল্লাহর রহমতের হাত দিয়ে বাঁচিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা প্রজ্ঞা অতুলনীয়! শেখ হাসিনা উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যদের উপদেশ দেওয়ার সামর্থ্য অর্জন করেছেন।”

শেখ হাসিনা একাই ১০০/১০০। শেখ হাসিনা স্বপ্ন দেখান স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেন। স্বপ্নের পদ্মাসেতু মেট্রোরেল কর্ণফুলী টানেল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে রেললাইন ফোর লেন এইট লেন পাতাল মেট্রোরেল ফ্লাইওভার, বিদ্যুৎ উন্নয়ন, কৃষি উন্নয়ন, মৎস্য উন্নয়ন,  স্বাস্থ্যসেবায় কমিউনিটি ক্লিনিক অভাবনীয় সাফল্য। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ২০ হাজার টাকা ভাতা, বয়স্ক ভাতা বিধবা ভাতা প্রতিবন্ধী ভাতা মাতৃ কালীন ভাতা ভূমিহীন গৃহহীনদের ভূমি সহ গৃহনির্মাণ প্রদান জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের কর্মসূচি।

জনাব ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী আপনি মুক্তিযুদ্ধে অনন্য ভূমিকা রাখার জন্য ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা রাখার জন্য আপনাকে সংগ্রামী সালাম ও স্যালুট। কিন্তু আপনি যেই দলের চেয়ারপার্সন এর উপদেষ্টা! জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনীদের যার স্বামী রাষ্ট্রদূত বানিয়ে পুরস্কৃত করেন। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ সংসদে পাশ করে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচারের আওতায় না আনার প্রক্রিয়া সুদৃঢ় করেন আইনকে কুক্ষিগত করেন।

বিচারাধীন ১১ হাজার যুদ্ধ অপরাধীকে মুক্ত করে দেন। স্বাধীনতা বিরোধী বাতিল কৃত নাগরিকত্ব শীর্ষ রাজাকার গোলাম আযমকে পাকিস্তানি পাসপোর্টে দেশে এনে জায়গা দিয়ে! নিষিদ্ধ ধর্মভিত্তিক রাজনীতি চালু করেন। শীর্ষ রাজাকারদের অপরজন শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করেন! পাকিস্তান ফেরত কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমানকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানান। মশিউর রহমান যাদু মিয়াকে উপপ্রধানমন্ত্রী বানান। মুসলিম লীগের নেতা খান এ সবুরকে এমপি বানান আরও অগুনিত স্বাধীনতা বিরোধীদের দলে এবং সরাকারে এমপি মন্ত্রী  স্পীকার জনপ্রতিনিধি বানান।

আপনার চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কার্যতঃ ২.২৫ বার ও সাংবিধানিকভাবে ৩ বার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কৈ তিনিতো ১৯৯৬ সালে কালো আইন ইনডেমনিটি বাতিল করেনননি। অথচ সেদিন বঙ্গবন্ধু বেগম খালেদা জিয়ার সংসার টিকিয়েছিলেন বলে বেগম খালেদা জিয়া মেট্রিক ফেইল করেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন। প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হয়ে তাঁর ধর্মপিতার জাতীয় শোকদিবসে বানোয়াট জন্মদিন ৫ টির একটি পালন করে শোকের দিনে আনন্দ উৎসব করেন স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তিকে নিয়ে। বঙ্গবন্ধুর খুনী রশিদকে জাতীয় সংসদ এর বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত করেন। ১৯৯১-১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা বিরোধী মতিন চৌধুরীকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানান।

কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানান। তারপর বেগম খালেদা জিয়া ২০০১-২০০৬ সাল চারদলীয়জোট সরকারর আমলে বঙ্গবন্ধু হত্যার চলমান বিচার কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। শাহজাদা হাওয়া ভবন খোয়াব ভবন করে ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩ জেলায় বোমা হামলা করে! বাংলা ভাই সৃষ্টি করে জঙ্গিবাদকে উস্কে দেয়। দশ ট্রাক অস্ত্র চালান ধরা খায়! ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আওয়ামী লীগের প্রধান সহ শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যা করতে চায়! এমন কি হীন কাজ করেনি চারদলীয়জোট সরকার? ২০১৪ সালের নির্বাচনের পূর্বে আগুন সন্ত্রাস বোমা হামলা পেট্রোল বোমা হামলা করে রাষ্ট্রীয় স্থাপনা জ্বালিয়ে দেওয়া কি গনতান্ত্রিক আন্দোলন? এতকিছুর পরেও আপনি! বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা! আপনি বাকশাল’র প্রশ্নে আলাদা হন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বাকশাল কর্মসূচি ছিল গরীবের বন্ধু বুর্জোয়াদের শত্রু।

শোষিত এর পক্ষে শোষকদের বিরুদ্ধে। বিশ্বের নির্যাতিত নিষ্পেষিত নিপীড়িত মানুষের অবিসংবাদিত বিশ্ব নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আপনি এই মহান নেতার সাথে দ্বিমত পোষন করে কোথায় গেলেন যারা আপনার মুক্তিযুদ্ধের চেতানার চার স্তম্ভ সংবিধানের চার মূলনীতিকে বাদ দিলেন। আপনার চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া নিজামী মুজাহিদ কে মন্ত্রী বানান এমপি বানান স্বাধীন বিরোধী চক্রের পাকিস্তানের প্রেতাত্মাদপর! স্বাধীনতা বিরোধীদের মুক্তির দাবিতে ভাষণ দেন, হরতাল অবরোধ করে দেশের অর্থনীতির বারোটা বাজিয়ে দেন শুধু ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে! এরপরেও আপনি বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা! বিএনপি আজ মুসলিম লীগের পর্যায়ে!

কৈ আপনার মেধা উপদেশ পরামর্শ বেগম খালেদা জিয়া গ্রহণ করেননা! সুতরাং আমাদের জননেত্রীকে উপদেশ দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। আপনিতো মুক্তিযোদ্ধা ও সুশীল সমাজের একজন! বঙ্গবন্ধু বলছিলেন পাকিস্তান আমাদের কাগজ ছাড়া কিছুই দিয়ে যায়নি! সব ধ্বংস করে যায় এবং ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বিজয়ের আগমুহূর্তে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে আমাদের জাতিকে মেধা শূন্য করতে চেয়েছিলেন কৈ পারেননিতো!বুদ্ধিজীবীর সহধর্মিণীরা সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে।২ সেনাশাসকের অত্যাচার নিপীড়ন নির্যাতন সহ্য করে!

আপনি বলছেন পাকিস্তানকে ক্ষমা করে দিতে!পাকিস্তান কি আমাদের ক্ষতিপূরণ দিতে বলছেন। ১৯৭১ সালের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে মজুত আমাদের অর্ধেক অর্থ সম্পদ ফেরত দিতে বলছেন? এরপরেও আপনি বিএনপি চেয়ারপার্সন এর উপদেষ্টা? আপনি আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুকে ছাড়লেন বঙ্গবন্ধু তাঁর ৫৫ বছর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় মতাদর্শে রাজনৈতিক দর্শন বাকশাল কর্মসূচি প্রদান করাতে।এটিতো ছিল গরীবের বন্ধু বুর্জোয়াদের শত্রু।আপনি কি তাহলে বুর্জোয়াদের বন্ধু?

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ১৯৭১ সাল, ২৬ মার্চ ১৯৭১ গ্রেফতার হওয়ার আগমুহূর্তে  স্বাধীনতার ঘোষণা, ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন, ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের শপথ, মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে মুজিব বাহিনীর নেতৃত্বে ভারতীয় যৌথবাহিনীর সর্বাত্মক সহযোগিতায় শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর নাম অনস্বীকার্য। ৯ মাস বঙ্গবন্ধুর নামের উপর মুক্তিযুদ্ধ করে ৩০ লাখ শহীদ ৩ লাখ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ স্বাধীন মাতৃভূমি স্বাধীন মানচিত্র লাল সবুজের পতাকা অর্জন। বড়ো দাম দিয়ে কেনা এই স্বাধীনতা আপনি তার জলন্ত স্বাক্ষী হে মুক্তিযোদ্ধা! আপনি কেন?  স্বাধীনতা বিরোধী প্লাটফর্মে?

আপনি চিকিৎসা সেবায় এগিয়ে আছেন একবাক্যে। সেই জন্য আপনাকে ধন্যবাদ কিন্তু আপনার মতো একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হয়ে বিএনপির ঘরে আপনার বেপমানা এবং বিএনপি কে কি আপনি বাংলাদেশের জন্মের সঠিক ইতিহাস জানাতে পেরেছেন জনাব ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী?

সেই জন্য স্বাধীনতার ঘোষক পর্বঃ১-১৪ বঙ্গবন্ধু হত্যা পর্বঃ১-১৫ সংযুক্ত করলাম জাতির জ্ঞাতার্থে। “বঙ্গবন্ধু তাঁর দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে অন্য দেশের কারাগারে থেকে শুধু তাঁর নামের জাদুমন্ত্রে পৃথিবীর ভৌগলিক রেখা পরিবর্তন করে একটি নতুন দেশের অভ্যুদয় ঘটান।,সমগ্র মানবজাতির ইতিহাসে এর দ্বিতীয় নজির নেই।”

—- আধুনিক মালয়েশিয়ার জনক ও মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী নেতা মাহাথির মোহাম্মদ। আমি লিখতে গেলে লেখা শেষ হয়না! মনের অনুভূতি ও জমানো ইতিহাস একটার পর একটা আল্লাহর নেয়ামত দানের বদৌলতে আসতেই থাকে! এমনিতেই দীর্ঘ লেখা হয়ে গেলো পাঠকদের কষ্টের কথা ভেবে আজ এই পর্যন্ত লিখে শেষ করলাম।

পরিশেষে বলব নিজের চরকায় তেল দেন! আপনার শুভ বুদ্ধির উদয় হউক।

লেখকঃ সদস্য (১০), কেন্দ্রীয় পরিচালনা পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ।

Comments
[covid19 country="Bangladesh" title="Bangladesh"]