করোনা চিকিৎসায় মলনুপিরাভির ‘গেইম চেঞ্জার’

16

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় মলনুপিরাভির ‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। মলনুপিরাভির মৃদু বা মাঝারি মাত্রার লক্ষণযুক্ত রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুহার শতকরা ৫০ ভাগ কমিয়ে দিতে পারে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস আয়োজিত এক সায়েন্টিফিক সেশনে চিকিৎসকরা এ তথ্য জানান।

চিকিৎসকরা জানান, মলনুপিরাভির করোনা চিকিৎসায় একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারে। কারণ এটি মৃদু থেকে মাঝারি করোনা রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুহার ৫০ ভাগ হ্রাস করে। এসময় করোনা চিকিৎসায় সময়োপযোগী চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আসায় বেক্সিমকো ফার্মার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন চিকিৎসকরা। তারা মলনুপিরাভিরের দাম সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে রাখার জন্য বেক্সিমকো ফার্মাকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ রিসার্চ সেন্টারের প্রধান অধ্যাপক ডা. রিদওয়ানুর রহমান “কারেন্ট সিনারিও অন কোভিড-১৯” এর উপর একটি প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন। তিনি বলেন, মৃ‘দু থেকে মাঝারি পর্যায়ের কোভিড-১৯ আক্রান্তদের চিকিৎসায় মলনুপিরাভির বিশ্বের প্রথম ওরাল অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ, যা যুক্তরাজ্যের মেডিসিন অ্যান্ড হেলথ কেয়ার প্রোডাক্ট রেগুলেটরি এজেন্সি দ্বারা গত ৪ নভেম্বর অনুমোদন পায়। মলনুপিরাভির বর্তমানে বেশ কয়েকটি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের দ্বারা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে; যার মধ্যে অন্যতম ইউরোপীয় মেডিসিন এজেন্সি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইউএস-এফডিএ)।’

এর কার্যকারিতা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘মুখে সেবনের জন্য মলনুপিরাভির বাড়িতে ব্যবহার করা সম্ভব। এটি কোভিড-১৯ চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। মলনুপিরাভির ব্যবহারে সংক্রমিত রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজনীয়তা হ্রাস করতে পারে, তাই অন্যদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিও হ্রাস পায়।’

এ সময় মেয়ার্ক শার্প অ্যান্ড ডহমি কর্পোরেশনের (এমএসডি) এ সংক্রান্ত এক গবেষণার ফল প্রকাশ করে বলা হয়, ২৯ দিন পর মলনুপিরাভির নেওয়া ৭.৩ ভাগ রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয় যেখানে প্লেসেবো নেওয়া ১৪.১ ভাগ রোগীকে হাসপাতালে জরুরিভিত্তিতে ভর্তি করাতে হয়েছে। মলনুপিরাভির ভাইরাসের প্রতিলিপির সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া ঘটিয়ে কাজ করে। ফলে এটি ভাইরাসকে প্রতিলিপি সৃষ্টিতে বাধা প্রদান করে, শরীরে ভাইরাসের মাত্রা কমিয়ে আনতে ও রোগের জটিলতা হ্রাস করতে সহায়তা করে।

বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. বিল্লাল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ। এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির প্রমুখ।

Comments
[covid19 country="Bangladesh" title="Bangladesh"]