ওমিক্রনের গুরুতর সংক্রমণ থেকে উচ্চমাত্রায় সুরক্ষা দেয় টিকা : সিডিসি

6

নভেল করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ভ্যারিয়্যান্টের সংক্রমণে গুরুতর অসুস্থতা থেকে উচ্চমাত্রায় সুরক্ষা দেয় কোভিড টিকার পূর্ণাঙ্গ ডোজ ও বুস্টার ডোজ—এমন তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থা-সিডিসি।

বাস্তবসম্মত ও বড় পরিসরে করা এক গবেষণায় সিডিসি এমন তথ্য পেয়েছে বলে স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার জানায়। বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে সংবাদ সংস্থা বাসস আজ শনিবার এ খবর জানিয়েছে।

এএফপির খবরে বলা হয়েছে, সিডিসি ২০২১ সালের ২৬ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি অঙ্গরাজ্যে তিন লাখের বেশি জরুরি বিভাগ, জরুরি সেবাদানকারী ক্লিনিক ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যা থেকে উপলব্ধ তথ্য পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করেছে।

সিডিসির গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, ডেলটা ভ্যারিয়্যান্টের সংক্রমণ বেশি থাকার সময় দেখা গেছে—কোভিড টিকার দুই ডোজ নেওয়ার পরে ১৪ থেকে ১৭৯ দিন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বা গুরুতর অসুস্থতা থেকে সুরক্ষা দিতে টিকার কার্যকারিতা ছিল ৯০ শতাংশ। আর, টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ১৮০ দিনের বেশি সময় পর্যন্ত কার্যকারিতা ছিল ৮১ শতাংশ। এবং বুস্টার ডোজ বা তৃতীয় ডোজ নেওয়ার ১৪ বা এর বেশি দিন পরে কার্যকারিতা দেখা গেছে ৯৪ শতাংশ পর্যন্ত।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চল থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিডিসির আরেক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—ডেলটা ভ্যারিয়্যান্টের প্রাদুর্ভাব তুঙ্গে থাকার সময় টিকার কার্যকারিতা ৯৩ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশে নেমেছে। তবে, মৃত্যু থেকে সুরক্ষার ক্ষেত্রে টিকার কার্যকারিতার কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং ৯৪ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকারিতা দেখা গেছে।

এদিকে, গবেষণা প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে—ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাব শুরু হলে টিকা কার্যকারিতা কমে ৬৮ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রয়োজনীয় তথ্য হাতে না পাওয়ারয় এ সময়ে মৃত্যু থেকে সুরক্ষার হার কতটা কমেছে বা বেড়েছে, সে তথ্য দিতে পারেননি গবেষকেরা। তবে, ধারণা করা হচ্ছে—সুরক্ষার হার উচ্চমাত্রাতেই রয়েছে।

এ ছাড়া গবেষণায় আরও দেখা গেছে—ডেলটার প্রাদুর্ভাব বেশি থাকা জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত টিকার পূর্ণ ডোজ পাওয়ার পরও করোনায় মৃত্যুহার বেড়েছে। আর যারা টিকা নেয়নি, তাদের মধ্যে এ সময়ে মৃত্যুঝুঁকি ছিল ১৬ গুণ বেশি। এবং অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত যারা টিকা নেয়নি, তাদের কোভিডে মৃত্যুর ঝুঁকি ৫০ গুণ বেশি ছিল।

Comments
[covid19 country="Bangladesh" title="Bangladesh"]