আলু চাষ দেখতে ইউরোপে যাচ্ছেন ৪০ কর্মকর্তা

23

নিজস্ব প্রতিবেদক: তিন কোটি টাকা খরচ করে আলু চাষ দেখতে ইউরোপে যাচ্ছেন বাংলাদেশের চল্লিশ কর্মকর্তা। বিএডিসি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রতি বছর দেশে আলু উৎপাদন হয় ১০৩ দশমিক ১৭ লাখ টন, যা বিশ্বে ৮ম। এই আলু দেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়েও বিদেশে রফতানি করা সম্ভব, কিন্তু তা হচ্ছে। কারণ, দেশের উৎপাদন আলু রফতানিযোগ্য নয়, শিল্প কারখানায় ব্যবহার করার যোগ্য নয়।

তাই রফতানিযোগ্য করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এজন্য ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা-ডিপিপি গ্রহণ করেছে সরকার। এর আওতায় আলুর চাষ দেখতে ইউরোপে যাবেন কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ৪০ কর্মকর্তা। এ হিসাবে জনপ্রতি বরাদ্দ প্রায় ৮ লাখ টাকা।

বিএডিসি সূত্র জানিয়েছে, আলু উৎপাদনকারী উন্নত দেশগুলো ভ্রমণের জন্য ৪০ জনকে পাঠানো হবে। তবে তারা এক সঙ্গে যাবেন না। তারা ১০ জন করে চারটি ব্যাচে এই বৈদেশিক প্রশিক্ষণে যাবেন। এজন্য ডিপিপিতে ৩ কোটি টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন চারটি নতুন হিমাগার স্থাপন করা হবে। এসব হিমাগার স্থাপনের জন্য নকশা প্রণয়ন, প্রাক্কলন ও তত্ত্বাবধানের জন্য স্থানীয় একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি টাকা। আর হিমাগার স্থাপনে আলাদাভাবে ১২২ কোটি ৪১ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বিএডিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিল্পে ব্যবহার উপযোগী করতে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার। সরকার উৎপাদিত আলু রফতানি করতে মানসম্মত বীজ কৃষক পর্যায়ে সরবরাহের চিন্তা করেছে। মানসম্মত আলু উৎপাদনের জন্য ৮ হাজার ৪০০ কৃষকের সঙ্গে চুক্তিও করা হবে। সম্প্রতি ৬৮৮ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে নেয়া হয়েছে একটি প্রকল্প। এখন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হবে। চলতি বছর থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় ৭ হাজার ৯৫০ জন চুক্তিবদ্ধ চাষি, এনজিও কর্মী, বীজ উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ী প্রশিক্ষণ পারেন। এর বাইরে ৪৫০ কারিগরি কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। এদের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল কাজে ব্যবহারের জন্য উন্নতজাতের উৎপাদন বাড়ানো হবে জানিয়ে বিএডিসির মহাব্যবস্থাপক (বীজ) মো. নূরনবী সরদার জানান, প্রকল্পের আওতায় চারটি ধাপে ৪০ কর্মকর্তা বিদেশ যাবেন। কোন দেশে যাবেন তা ঠিক না হলেও এক্ষেত্রে ইউরোপের দেশগুলো বেশি উপযুক্ত দেশ বলে তিনি জানান।

তবে এই প্রকল্প নিয়ে আশাবাদি পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য মো. জাকির হোসেন আকন্দ। তিনি বলেন, ‘দেশে আলু উৎপাদন ও রফতানির একটি বিরাট সম্ভাবনা আছে। রফতানি উপযুক্ত জাতের আলুর উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞানের দরকার আছে। আলোচ্য প্রকল্পের মাধ্যমে তা অর্জন করা সম্ভব।

Comments

Bangladesh

Confirmed
357,873
+1,106
Deaths
5,129
+36
Recovered
268,777
Active
83,967
Last updated: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০ - ১:৪৯ অপরাহ্ণ (+০০:০০)