অবৈধ কিডনি কেনাবেচা চক্রের মূলহোতাসহ আটক ৫

14

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে অবৈধভাবে কিডনি কেনাবেচার সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতাসহ পাঁচজনকে আটক করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। তাদের মধ্যে রয়েছেন চক্রের অন্যতম মূলহোতা ও ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন মো. শাহরিয়ার ইমরান।

আটককৃতরা হলেন চক্রের মূলহোতা মো. শাহরিয়ার ইমরান আহম্মেদ (৩৬), মো. মেহেদী হাসান (২৪), মো. সাইফুল ইসলাম (২৮), মো. আব্দুল মান্নান (৪৫) ও মো. তাজুল ইসলাম ওরফে তাজু (৩৮)।

আজ মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) সকালে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এএসপি আ ন ম ইমরান খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রাজধানী ও জয়পুরহাটে অভিযান চালিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অবৈধভাবে কিডনি কেনা-বেচার সংঘবদ্ধ চক্রের অন্যতম মূলহোতা ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন মো. শাহরিয়ার ইমরানসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পরে দুপুরে কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চক্রটি প্রতিটি কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য রোগীদের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা নিলেও কিডনি ডোনারকে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা দেয়ার কথা বলে ২ লাখ টাকা দিত। চক্রটি এ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক মানুষকে কিডনি বিক্রির জন্য পাশের দেশে পাচার করেছে।

চক্রটির তথ্য তুলে ধরে র‌্যাবের লিগ্যাল আ্যন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, চক্রটির সদস্যরা অনলাইনে বিভিন্ন প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে গ্রাহক ও ডোনারদের আকৃষ্ট করছে। একইসাথে অপরাধের নেটওয়ার্ক বিস্তার করছে। এ কারণে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে র‍্যাব। চক্রটিতে মোট সদস্য সংখ্যা ১৫ থেকে ২০ জন। তারা তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে অবৈধ কিডনি কেনাবেচার সম্পূর্ণ কার্যক্রম সম্পন্ন করে। চক্রের প্রথম গ্রুপ ঢাকায় অবস্থান করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন-এমন বিত্তশালী রোগীদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে।

চক্রের দ্বিতীয় দলটি প্রথম দলের চাহিদা মোতাবেক দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরিব ও অভাবী মানুষদের চিহ্নিত করে এবং তাদের অর্থনৈতিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অর্থের বিনিময়ে কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য ডোনার হতে প্রলুব্ধ করে ঢাকায় নিয়ে আসে।

পরে তৃতীয় গ্রুপ প্রলোভনের শিকার ভুক্তভোগী কিডনি ডোনারদের ঢাকায় বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কিডনি প্রতিস্থাপন রোগীর সাথে ব্লাড ম্যাচিং ও অন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে। ব্লাড ম্যাচিং ও অন্য ডায়াগনস্টিক টেস্টে কিডনি প্রতিস্থাপনের উপযুক্ততা নিশ্চিত হওয়ার পর তার পাসপোর্ট, ভিসা প্রসেসিং ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে ভক্তভোগী ডোনারকে পাশের দেশে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করে।

তিনি আরও বলেন, এই চক্রের সাথে পাশের দেশে অবস্থানকারী আরেকটি চক্র পারস্পরিক যোগসাজশে ভুক্তভোগী কিডনি ডোনারকে বিদেশের এয়ারপোর্ট অথবা স্থলবন্দরে রিসিভ করা থেকে শুরু করে হাসপাতালের ডকুমেন্টেশন, অস্ত্রোপচারসহ যাবতীয় কার্যক্রম শেষে ভুক্তভোগীকে বৈধ কিংবা অবৈধ উপায়ে বিমান ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত এলাকা দিয়ে দেশে ফেরত পাঠায়।

Comments
[covid19 country="Bangladesh" title="Bangladesh"]