ডা. সুজার হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে এফডিএসআর’র মানববন্ধন

81

নিজস্ব প্রতিবেদক: খুলনার খালিশপুরে ডা. সুজা উদ্দিন সোহাগের উপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি অ্যান্ড রাইটস (এফডিএসআর) নামক ডাক্তারদের সংগঠন। সমাবেশে আরও অংশ নেন পেশাজীবি সংগঠন সহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।

সোমবার বিকালে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রজন্ম চত্বরে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা ডা. সুজা উদ্দিন সোহাগের উপর হামলার ঘটনার নিন্দাজ্ঞাপন করেন। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান।

আয়োজক সংগঠনের মহাসচিব ডা. শেখ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, খুলনার খালিশপুরে ডা. সুজা উদ্দিন সোহাগের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাই। একইসাথে এ ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং বিচারের দাবি জানাই।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার জন্য, ডাক্তারদের উপর হামলা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যখাতকে রক্ষা করতে হলে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন ঠিক করতে হবে। এটা নিয়ে কোনো টালবাহানা করলে চলবে না। চিকিৎসকদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠনগুলোকে এক্ষেত্রে তাদের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে মাঠে নামা উচিত।

তিনি আরো বলেন, ডাক্তারদের উপর লাঞ্ছনা বেড়েই চলেছে। তাই ডাক্তারদের নিরাপত্তার জন্য আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যাবো। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে যাবো। মানুষের সেবা করতে হলে, আগে তো আমাদের নিরাপত্তা দিতে হবে।

এফডিএসআর’র উপদেষ্টা এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ডা. আব্দুন নূর তুষার বলেন, চিকিৎসকদের উপর যারা হামলা করছেন তারা ভাল কাজ করছেন না। এতে চিকিৎসকরা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েন। সুতারং এ ধরণের কাজের শাস্তি অবশ্যই হওয়া উচিত। এবং এফডিএসআর চিকিৎসকদের নিরাপদ রাখার স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে।

খুলনার বিএমএ’র দফতর সম্পাদক ডা. হাসান বলেন, অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আজকে শাহবাগে দাঁড়িয়েছি। এ মুহূর্তে যখন কথা বলছি, তখন হয়তো দেশের কোথাও ডাক্তার নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এ নিপীড়নের শেষ কোথায়? ডাক্তারদেরও চাওয়া আছে, তাদের চাওয়া পূরণ করা উচিত। আজকে যখন দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে ভাসছে, তখন স্বাস্থ্যখাতে এ অরাজকতা কেন?

তিনি বলেন, চিকিৎসকরা নিরাপত্তাহীন হলে, তাহলে তারা মানুষের সেবা দিবে কিভাবে? চিকিৎসকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত।

ডা. একে এম জাহাঙ্গীর কবির বলেন, আমি ডা. সুজাকে চিনি না। তারপরেও তার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়েছি। অথচ ডাক্তারদের বড় বড় সংগঠনগুলোর এব্যাপারে যেন কোনো মাথাব্যথা নেই। তাদের কোনো প্রতিবাদ দেখছি না। সবার মনে রাখা উচিত, আজকে সুজার উপর হামলা হয়েছে, কালকে হয়তো আমার-আপনার উপর হামলা হতে পারে।

ডা. মো. রাশিদুল হক বলেন, চিকিৎসক ও রোগীদের সম্পর্ক হচ্ছে স্বর্গীয়। অথচ আজকে ডাক্তাররা হামলার শিকার হচ্ছেন। বিভিন্ন হামলার বিচার না হওয়ায় বারবার এমনটি হচ্ছে। আমরা ডা. সুজার উপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। যাতে ভবিষ্যতে কেউ ডাক্তারদের উপর হাত তুলতে সাহস না পায়।

ডা. নোমান চৌধুরী বলেন, দেশের সব জায়গায় নিরাপত্তার জন্য পুলিশ দেয়া হয়। অথচ আমাদের ডাক্তারদের নিরাপত্তার জন্য কোনো ব্যবস্থা থাকছে না। আমাদের হেল্প পুলিশ দরকার। আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. আবু রায়হান বলেন, ডা. সুজা উদ্দিন সোহাগের উপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের ৩ দিনের মধ্যে গ্রেফতার করা না হলে, আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। আমরা ডা. সুজার ব্যাপারে খুলনা বিএমএর সাথে একাত্মতা পোষণ করছি। তারা যে কর্মসূচি দিবে, আমরা ঢাকায় সে কর্মসূচি পালন করবো।

আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. আবু রায়হান বলেন, ডা. সুজা উদ্দিন সোহাগের উপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের ৩ দিনের মধ্যে গ্রেফতার করা না হলে, আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। আমরা ডা. সুজার ব্যাপারে খুলনা বিএমএর সাথে একাত্মতা পোষণ করছি। তারা যে কর্মসূচি দিবে, আমরা ঢাকায় সে কর্মসূচি পালন করবো।

ডা. শাহেদ ইমরানের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ডা. সিএম আনোয়ার, ডা. ঝুমু খান, ডা. হাসানুর রহমান, ডা. ফরহাদ মঞ্জুর, ডা. আসাদুজ্জামান রিন্টু, ডা. পারিসা, ডা. রাহাত আনোয়ার চৌধুরী প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ৮ সেপ্টেম্বর খুলনার খালিশপুর ক্লিনিকে রিপন (২৪) নামে এক পলিটেকনিক ছাত্রের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনরা কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সুজা উদ্দিনকে ব্যাপক মারধর ও জোর করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি আশংকাজনক অবস্থায় অর্থপেডিক ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন।