আফগানিস্তানের কাছে আত্মসমর্পণ বাংলাদেশের

7

দুই দশক ধরে টেস্ট খেলা বাংলাদেশ হেরে গেছে তিন টেস্টের অভিজ্ঞতা থাকা আফগানদের কাছে।  ক্রিকেট গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা এই তত্ত্ব মেনে নিয়ে, এই হারে অবাক না’হয়ে না হয় থাকা গেল। 

পাঁচদিনের টেস্টে এক মুহূর্তের জন্যও বাংলাদেশ নিজেদের দিকে ম্যাচের মোড় ঘুরাতে পারেনি। দুই ইনিংস আফগানরা তুললো যথাক্রমে ৩৪২ ও ২৬০ রান। বিপরীতে বাংলাদেশের দুই ইনিংসে রান ২০৫ ও ১৭৩।

বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে এলেই যেন উইকেট হয়ে যায় বোলিং সহায়ক, ব্যাটিংয়ে আসলে ঠিক উল্টো। যে কারণে পঞ্চম দিনে বৃষ্টির কল্যাণে ২০ ওভার খেলেও হার এড়াতে পারলো না বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হয়েই ২২৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরে গেল টাইগাররা। 

টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া আফগানিস্তান প্রথম ইনিংসে রহমত শাহের সেঞ্চুরির উপর ভর করে ৩৪২ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় । বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে এক তাইজুল ইসলাম ছাড়া আর কেউই পরীক্ষা নিতে পারেননি তাদের । ৪১ ওভার বল করে ১১৬ রান দিয়ে ৪ উইকেট পান তিনি। 

আফগানদের বড় সংগ্রহের জবাব দিতে নেমে প্রথম ইনিংসে রীতিমতো ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ৮৮ রানেই পাঁচ উইকেট হারানোর পর শেষ পর্যন্ত ২০৫ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন মুমিনুল হক। 

১৩৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা আফগানিস্তান ২৪২ রান করে বাংলাদেশের সামনে ৩৯৮ রানের বড় লক্ষ্য দাঁড় করায়। জবাব দিতে নেমে আরও একবার ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ২৮ রান তুলতেই হারিয়ে বসে ৩ উইকেট। মাঝখানে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ৪৪ রান করে আশা জাগালেও ম্যাচ বাঁচাতে পারেনি বাংলাদেশ। 

মাঝখানে বৃষ্টিও অবশ্য বেশ স্বস্তিই দিচ্ছিলো বাংলাদেশের সমর্থকদের। কিন্তু  দুই দফায় ১৪ ওভার ৫ বল খেলা হওয়াতেই পঞ্চম দিনে বাকি থাকা ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ, অলআউট হয় ১৭৩ রানে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ম্যাচ হারে ২২৪ রানের বড় ব্যবধানে। এই ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ১১ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন আফগান অধিনায়ক রশিদ খান।