১০ বছরে যা হয়েছে তা ৩০ বছরেও হয়নি: পলক

6

প্রশান্ত মজুমদার: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে ১০ বছরে দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে, বিগত ৩০ বছরেও তা হয়নি বলে উল্লেখ করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

শনিবার “ডিজিটাল সার্ভিস ডিজাইন এন্ড প্ল্যানিং ল্যাব” -এর মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা ও গবেষণায় নব দিগন্তের দ্বার উম্মোচিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এটুআই বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের মাননীয় সচিব জনাব মোঃ আসাদুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া।

সমাপনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ শহীদুল্লাহ সিকদার, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল হান্নান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোজাফফর আহমেদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এটুআই-এর চীফ স্ট্রাটেজিস্ট জনাব ফরাহাদ জাহিদ শেখ, এটুআই-এর পলিসি এডভাইজার জনাব আনীর চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও আইটি সেলের ইনচার্জ অধ্যাপক ডা. মোঃ সায়েদুর রহমান প্রমুখ।

প্রধান অতিথি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সরকারের আমলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সেবা ও সাফল্যসমূহ এবং বাংলাদেশে ডিজিটাল সেবার অভাবনীয় সফলতার বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করেন। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি বলেন, গত ১০ বছরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে দেশে ১০ বছরে যে উন্নয়ন হয়েছে, অন্য সরকারগুলোর আমলে বিগত ৩০ বছরেও সেই উন্নয়ন হয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাত দিন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ ঘণ্টারও বেশি দেশের জন্য কাজ করেন বলেই এটা সম্ভব হয়েছে।

যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতেও অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। মাননীয় আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে এই খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, ইন্টারনেট সুবিধা মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়েছে। এখন সকল সেবাসমূহ অর্থাৎ ডিজিটাল সার্ভিসসমূহ প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজে ও স্বল্প খরচে পৌঁছে দেয়ার কাজ চলছে। স্বাস্থ্যসেবাকে ডিজিটালাইজডকরণের মাধ্যমে দেশের সকল রোগীর সকল তথ্য সংরক্ষণ করার পাশাপাশি চিকিৎসক ও রোগীরা যাতে এটা ব্যবহার করতে পারেন তা নিশ্চিত করা হবে।

ডিজিটালাইজডকরণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে বর্তমান সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের মাননীয় সচিব জনাব মোঃ আসাদুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে দেশের স্বাস্থ্যসেবার ৮০ শতাংশ ডিজিটালাইজড করা সম্ভব হবে।

সভাপতির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনায় বাংলাদেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে বিপ্লব ঘটেছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্ত খাতে বিস্ময়কর সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল সার্ভিস ডিজাইন এন্ড প্ল্যানিং ল্যাবের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থা ও গবেষণায় নব দিগন্তের দ্বার উম্মোচিত হবে।

তিনি আরো জানান, এই ল্যাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতাল কেন্দ্রিক সকল গুরুত্বপূর্ণ সেবার, সেবা প্রদান পদ্ধতি নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা হবে। সেবা প্রদান পদ্ধতি বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে সেবা প্রদানের ধাপ, সেবাটি প্রদান করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সেবাটি পেতে কত সময় লাগে এবং নাগরিকের সেবাটি পেতে নাগরিকের মোট কত টাকা খরচ হয় এবং সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাসমূহ বিবেচনায় আনা হয়।

ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও আইটি সেলের ইনচার্জ অধ্যাপক ডা. মোঃ সায়েদুর রহমান জানান, সেবা প্রদান পদ্ধতি স্ববিস্তারে বিশ্লেষণের পর সেবাটিকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোবাইল এ্যাপ বা ওয়েব এ্যাপ্লিকেশন তৈরি করা হলে জনগণের কতটা সময়, অর্থ এবং ভিজিট সাশ্রয় হবে তা নির্ধারণ করা হয়। কর্মশালায় বিএসএমএমইউ-এর ৩০ জন ডাক্তার, ৩৮ জন কর্মকর্তা, সরকারি, বেসরকারি ডিজিটাল সার্ভিস এনালিস্ট ১২ জন, এটুআই প্রোগ্রামের ৬ জন কর্মকর্তা এবং ২০ জন সংশ্লিষ্ট সেবাগ্রহীতা অংশগ্রহণ করেন। ডিজিটাল সার্ভিস ডিজাইন ল্যাবে মোট ৩০ টি মডিউলের পর্যালোচনা ১২টি গ্রুপের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়।

তিনি জানান, একটি ইন্টিপ্রেটেড ডিজিটাল সার্ভিস ডেলিভারি প্লাটফর্মের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হলে জনগণ ও সেবা গ্রহীতার ক্ষেত্রে যেসমস্ত সুবিধাগুলো পাওয়া যাবে সেগুলো হলোÑ সকল নাগরিকের জন্য একটি স্মার্ট স্বাস্থ্য কার্ড প্রদান করা, অধিক সংখ্যক রোগী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সেবা গ্রহণ করতে পারা, সকল রোগীর হেলথ রেকর্ড সংরক্ষণ করা, রোগীরা অনলাইন,অফলাইনের, কলসেন্টারের ব্যবহার করে ডাক্তারের এপয়নমেন্ট নিতে পারা এবং সাধারণ জনগণ বিভিন্ন ধরণের ঢিকার তথ্য ও সময় মোবাইল এ্যাপের মাধ্যমে জানতে পারা ইত্যাদি। এতে করে জনগণকে কোন রোগের রিপোর্ট সংরক্ষণ করতে হবে না, যা একটি ডেটাবেজের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হবে এবং জনগণ বা রোগী সাধারণের সময়, খরচ ও হাসপাতালে যাতায়াত কমবে।

তিনি আরো জানানান, এই ল্যাবের মাধ্যমে সেবা প্রদানকারীর ক্ষেত্রে-সাধারণ রোগীর বিভিন্ন রোগের বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া, বাংলাদেশের সকল রোগীর ডেটাবেজ তৈরি করা, বর্তমান অবকাঠামো ও ডাক্তারের সাহায্যেই পূর্বের চেয়ে আরো ৩০ শতাংশ এর অধিক রোগীকে সেবা প্রদান করতে পারা, কোন এলাকায় কোন রোগের প্রাদুর্ভাব বেশী তা জানা ও সে মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা, স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক বিভিন্ন ধরণের পলিসি বাস্তবায়ন সহজ করা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা প্রদান করা, কোন রোগী কতবার, কত জায়গা থেকে সেবা নিচ্ছে তা সহজেই জানা, বিভিন্ন ধরণের আইওটি ডিভাইসের মাধ্যমে রোগী ও ডাক্তারের অবস্থান জানা ও মনিটরিং করা, অপারেশন থিয়েটার ও এ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থাপনা সহজ করা, কোন মেডিক্যাল স্টোরে কি ওষুধ কি পরিমাণে আছে তার বর্তমান অবস্থা জানা, দপ্তরের সময় ও সেবা প্রদান খরচ কমানো, সরকার কর্তৃক সরবরাহকৃত ওষুধের ডেটাবেজ তৈরি করা এবং কোন বছর কি পরিমাণ ওষুধ লাগবে তার পরিকল্পনা গ্রহণের কাজ সহজ করা, ডাক্তার, নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের ডাটাবেজ তৈরি করা, ব্লাড ব্যাংকের ডাটাবেজ তৈরি করা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল ইক্যুইপমেন্টের ডাটাবেজ তৈরি করা ও মেইনটেন্যান্স সহজ করা এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক রিসার্চ এবং রিসার্চারের ডাটাবেজ তৈরি করা ইত্যাদি সুবিধা ও সেবা প্রাপ্তির দ্বার উম্মোচিত হবে।