‘সালমান শাহের ভিউকার্ড দেখেই ভাল লেগে গেছিল’

158

সাদিয়া জামান

১৯৯৬!
তখন আমি ক্লাস ওয়ানে পড়ি। টিভি সিনেমার তেমন কিছু না বুঝলেও সবার মুখে মুখে শুনে এটুকু বুঝতাম সালমান শাহ অনেক বড় নায়ক, সবাই তারে খুব পছন্দ করে। আমিও পছন্দ করতাম। যেদিন প্রথম কাজিনের বইয়ের পৃষ্ঠার ভেতর সালমান শাহের এত্তগুলা ভিউকার্ড দেখেছিলাম সেদিন এক দেখাতেই ভালো লেগে গেছিলো। তিনটা ভিউকার্ড চুরি করে নিয়ে এসেছিলাম। সেই থেকে আমারও ভিউকার্ড জমানো শুরু। তখনতো ১ টাকার আচারের সাথে নায়ক নায়িকাদের ভিউকার্ড দিতো আর কার্ডের নিচে লেখা থাকতো রোমান্টিক রোমান্টিক ছন্দ।

আমিও আচার কিনতে গিয়ে খুঁজে খুঁজে সালমান শাহের ছবিগুলো নিতাম, আর সেই লুমান্তিক ছন্দগুলাও এক্কেরে ঠাসা মুখস্থ করে ফেলতাম।

যেদিন সালমান শাহ্ মারা গেলেন, ঐদিনতো এই খবর শুনেই ছোট কাকী আর আমার সেই কাজিনটা, সে কি মরা কান্না। কাজের মেয়েটারেও দেখি কাজকাম বাদ দিয়া একেবারে বুক ভাসায়া ফেলতেছে।

পরে শুনি সালমান শাহ্ মারা যাননি, উনাকে মেরে ফেলা হয়েছে। সবাই তার বৌ, ডন এরে তারে দোষারোপ করতেছিলো। কিন্তু আমিতো শিওর ছিলাম এ কাজ, রাজীব, হুনায়ুন ফরিদি, নাসির খান, এরা ছাড়া কেউ করেনি। এরা যে হারামির হারামি  

আর মারলেই কি? নায়কতো মরেনা। পরের সিনেমায় ঠিক চলে আসবে। আমি এর আগেও দেখেছি এক সিনেমায় মারা গেলে পরেরটাতে চলে আসে…..  ।

অবুঝ মনের অবুঝ ভাবনা ছিলো এগুলো। উনি আর ফিরবেননা, সেটা বুঝেছি অনেক পরে।  

ক্লাস এইটে যখন পড়ি তখন শুক্রবার বা শনিবারে বিটিভিতে সিনেমা হতো। সালমান শাহ্ এর “কেয়ামত থেকে কেয়ামত” সিনেমা হবে। একথা জানার পর ক্লাসে তো আর মন বসে না। উশখুশ করে কোনরকমে টিফিন পিরিয়ড পর্যন্ত কাটিয়ে, ক্লাসের ব্ল্যাকবোর্ডে ” আজ সালমান শাহ্ এর সিনেমা তাই আমরা চলে গেলাম ” একথা লিখেই ছাদের পাশের মেহগনি গাছ বেয়ে সবগুলা পালাইছিলাম। পরদিন অবশ্য স্যারের হাতে যে মাইরটা খাইছিলাম সেটা স্মরনকালের সেরা ধোলাই।

সালমান শাহ্ মারা যাননি উনি বেঁচে আছে হাজারো ভক্তের হৃদয়ে। আজও প্লে লিস্ট ভর্তি উনার সিনেমার গানই শুধু….
ভালোবাসি, ভালোবাসবো প্রিয়।

লেখকের ফেসবুক আইডি থেকে নেওয়া।