সেপ্টেম্বরের পর থেকে সোস্যাল মিডিয়ায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ

4

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী সেপ্টেম্বরের পর থেকে ফেসবুক-ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সরকার নিয়ন্ত্রণ করবে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রচার সেল আয়োজিত ‘আওয়ামী লীগের ৭০ বছর, তারুণ্যের ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘২০০৮ সালে সোস্যাল মিডিয়া নামে কিছু ছিল না। এখন যে অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, সোস্যাল মিডিয়া ছাড়া এখানে যারা আছেন কারও দিন কাটে না। সোস্যাল মিডিয়াতে অবস্থান করার বিষয়টি ব্যক্তিগত, সামাজিক রাষ্ট্রীয়, রাজনৈতিক সবদিক থেকেই এটি একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‘বহু খবর আছে যেগুলো মূলধারার গণমাধ্যমে আসতো না, সেগুলো সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে যাচ্ছে। মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে। এসব তথ্যগুলোর পাশাপাশি বহু অন্যায়, অবিচার অথবা দুর্নীতির তথ্যগুলো প্রচারিত হচ্ছে।’

তিনি বলেন, আসলে শুধু সোস্যাল মিডিয়া নয়, আমরা ইন্টারনেটের যুগে বাস করি। আমাদের ইন্টারনেট নিরাপদ থাকা দরকার। নিরাপদ থাকার জন্য রাষ্ট্রের নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধান করার জন্য রাষ্ট্রকে তার ভূমিকা পালন করতে হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই গুজব বা মিথ্যা তথ্য প্রচার করতে কিছু কিছু অনলাইন পোর্টাল আছে, যেগুলো বন্ধ করা একটু দুরূহ হয়ে যায়। অনলাইনের নিবন্ধনটা শেষ হলে, বৈধ তালিকা পেলে, বাকিগুলো আমরা বন্ধ করে দিতে পারবো।’

মন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্র ইচ্ছে করলে যেকোনো ওয়েবসাইটকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে। এটি আমাদের একটি বড় অর্জন। নির্বাচনের কয়েক মাসের মধ্যে আমরা সেই সক্ষমতা অর্জন করেছি। সমস্যা হচ্ছে যখন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া হয়, অথবা ভিডিও প্রচার করা হয় সেক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এর কারণ হচ্ছে, বিশেষ করে ফেসবুক বা ইউটিউব, এই দুটি প্রতিষ্ঠানই মার্কিন প্রতিষ্ঠান। এটা তাদের আমেরিকান কমিউনিটির স্ট্যান্ডার্ড মেনে কাজ করে থাকে। আমরা সরাসরি তাদের হস্তক্ষেপ করতে পারি না।’

‘আপনাদের জন্য সুখবর হচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাস অতিক্রম করার পরে আমরা এই ক্ষেত্রে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা অর্জন করবো। অর্থাৎ কেউ ইচ্ছে করলেই যা খুশি তাই সোস্যাল মিডিয়াতে ব্যবহার করতে পারবে না, প্রচার করতে পারবে না। অনেকে কমপ্লেইন করে আমার আইডি হ্যাক হয়েছে। এটা হয়েছে, সেটা হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিজে যদি সতর্ক না থাকেন, এটা আপনার পরিণতি। নিজে যদি সতর্ক থাকেন কতগুলো বেসিক নিরাপত্তার বিষয় আছে, এই বেসিক নিরাপত্তাগুলো মেনে চললে বিপদে পড়ার সম্ভাবনা থাকে না।’

গুজব প্রতিরোধে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব এটি একটি বিশ্বব্যাপী সমস্যা। এটি শুধুমাত্র বাংলাদেশের সমস্যা তা নয়। কম্বোডিয়ায় গিয়েছিলাম কয়েক দিন আগে, সেখানেও মূল আলোচ্য বিষয় ছিল কীভাবে এই গুজব প্রতিরোধ করা যায়।’

‘আমরা চাই মানুষের অধিকার অবারিত থাকুক। কিন্তু মানুষের অবারিত অধিকার চর্চা করতে গিয়ে যেন অন্যের অধিকার খর্ব না হয়, কিংবা অন্যের ব্যক্তি স্বাধীনতা খর্ব না হয়। কিংবা রাষ্ট্রে কোনো হানাহানি সৃষ্টি না হয়, সমাজে কোনো অস্থিরতা না হয় সেটি আমাদের সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। সে কারণে আমাদের সরকার ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট করেছে। কেউ যদি গুজব ছাড়ালে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য মেরিনা জাহান তরুণদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।