এরশাদের অবস্থা অপরিবর্তিত, গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ

4

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : সিএমএইচে চিকিৎসাধীন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবস্থা অপরিবর্তিত, তবে শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন তার ছোট ভাই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি।

এরশাদ জীবিত নাকি মৃত? এমন প্রশ্নের মধ্যে সোমবার দুপুরে এরশাদের বনানী অফিসে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এতথ্য জানান।

জিএম কাদের বলেন, এরশাদ বেঁচে আছেন। তার শারীরিক অবস্থা আগের মত। উন্নতি হয়নি। তবে তার সেন্স আছে। যে কোন সময় অবনতি ঘটতে পারে। এখনো তিনি শঙ্কামুক্ত নন।

বিদেশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কি না জানতে চাইলে জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বিদেশ নিয়ে যেতে প্রস্তুত। কিন্তু তার এ মুহূর্তে বিদেশ নিয়ে যাওয়ার মত অবস্থা নেই। শরীর খুবই দূর্বল। নি:শ্বাস নিতে পারছেন না। এজন্য অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

এরশাদের মৃত্যুর খবরকে গুজব বলে উড়িয়ে দেন জিএম কাদের। তিনি বলেন, তার মৃত্যুর খবর গুজব। এতে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

রোববার দুপুরে সিএমএইচে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় এরশাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। নি:শ্বাস নিতে না পারায় তাকে অক্সিজেন সাপোর্ট দেয়া হয়। এরমধ্যে রাতেই এরশাদের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। নেতাকর্মীরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। আদৌ সাবেক রাষ্ট্রপতি জীবিত আছেন কি না এ বিষয়টি জানতে উদগ্রিব দেশবাসীও। এমন প্রেক্ষাপটে এরশাদের বিষয়ে জানাতে দুপুরে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন জিএম কাদের।

এসময় দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাইদুর রহমান টেপা, হাফিজুদ্দিন আহমদ, অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এমপি, লোটন সিকদার, সুনীল শুভরায়, রাজ্জাক খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

একটি অসমর্থিত সূত্র জানিয়েছেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

সিএমএইচে এতদিন যারা ছিলেন এরশাদের স্টাফদের মুখে এ নিয়ে কোন কথা নেই। তারা বলছেন, কিছুই বলতে পারব না। আমরা এখন সেখানে যেতে পারছি না। সিএমএইচ কর্তৃপক্ষই ভাল জানে। তবে অধিকাংশ নেতাই বলেছেন, বিষয়টি গুজব ছাড়া আর কিছু নয়। বিভ্রান্তির জন্যই গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

এদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এরশাদকে দেখতে সিএমএইচে যান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এসময় সিএমএইচের বাইরে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর সিকদার লোটনসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সিএমএইচে যান ছোটভাই জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের। বিরোধী উপনেতা এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদসহ দলটির শীর্ষনেতারা। বিকাল ৫টায় এরশাদকে দেখতে যাবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

এ রিপোর্ট লেখা পরযন্ত দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাইদুর রহমান টেপাসহ নেতাকর্মীরা এরশাদের জন্য সিএমএইচের বাইরে অবস্থান করছেন।

সোমবার সকালে এরশাদের ব্যক্তিগত একজন কর্মকর্তা বলেছেন, এরশাদ জীবিত আছে কি না কিছুই বলতে পারছি না। তার শারীরিক অবস্থা ঠিক নেই বলে মনে হচ্ছে। সিএমএইচ কর্তৃপক্ষ ভাল জানেন।

এরশাদের অসুস্থ্যতা, চিকিৎসা ব্যবস্থা, শারীরিক পরিস্থিতিসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে রোববার সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় পার্টির বনানী অফিসে সংবাদ সম্মেলন করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছিলেন, এরশাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। অক্সিজেনে তাকে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে তাকে বিদেশ নেওয়া হবে।

রোববার দুপুরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। শ্বাস প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হলে তাকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়। এরশাদের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়ে। দ্রুত তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। রাতে একপর্যায়ে তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এসময় তার ছোটভাই জিএম কাদেরসহ শীর্ষনেতারা সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলেন। এ বিষয়ে বলার মত দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যায়নি। এরশাদকে নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে নেতাকর্মীরাও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এরশাদের খবর জানতে চায় সবাই। দলের নেতাদের অনেকেই একে গুজব বলে উড়িয়ে দেন।

প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এসময় তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন তার রক্তে হিমোগ্লোবিন ঘাটতির কথা জানান চিকিৎসকরা।

পরে সিঙ্গাপুরে গিয়ে চিকিৎসা করিয়ে আসেন এরশাদ। তাতেও পুরোপুরি সেরে উঠেননি তিনি। সিঙ্গাপুর থেকে এসে তিনি হইল চেয়ারে চলাফেরা করছিলেন। অসুস্থতার জন্য এরশাদ তার দলের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও যোগ দিতে পারেননি। বাসায় বসে দলীয় কর্মকান্ডে অংশ নেন। সেখান থেকে চিটি দিয়ে সিদ্ধান্ত জানান।