আমির হোসেন আমুর বর্ণাঢ্য জীবন

25

মঞ্জুর মোর্শেদ: বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক চরিত্র, মিষ্টার ডিসিশন নামে খ্যাত, প্রাক্তন মন্ত্রী ও বর্তমান সাংসদ প্রবীন নেতা আলহাজ্ব আমির হোসেন আমুর জীবন বৃত্তান্ত।

পারিবারিক পরিচিতি

নাম: আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু

পিতা: মরহুম মোয়াজ্জেম হোসেন

মাতা: মরহুমা আকলিমা খাতুন।

খুব ছোট বেলায় আমির হোসেন আমু পিতা মাতাকে হারান। যার ফলে তিনি তাঁর খালার কাছে  ( অপসোনিনের মালিক ক্যাপ্টেন সবুরের মাতা) লালিত পালিত হন।

শিক্ষা জীবন

তিনি ১৯৬৫ সালে বরিশাল সরকারী ব্রজমোহন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাশ করেন। ১৯৬৮ সালে বরিশাল আইন মহাবিদ্যালয় থেকে এল এল বি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে একটু বিলম্ব হলেও স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান জনাব আমির হোসেন আমু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

রাজনীতিতে অংশগ্রহন

জনাব আমির হোসেন আমু কিশোর বয়সে বাংলার কিংবদন্তী নেতা অবিভক্ত বাংলা ও পূর্ব বাংলার মূখ্যমন্ত্রী কৃষক হিতৈষী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের সংস্পর্শে আসেন এবং ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহন করেন। সেই সময় মিছিলে নেতৃত্ত্ব দানকালে কারান্তরীন হন। তিনি ১৯৫৯ সালে বরিশাল সর্বদলীয় ভাষা আন্দোলন কমিটির আহবায়ক ছিলেন।

জনাব আমির হোসেন আমু ১৯৫৯–৬৪ সাল পর্যন্ত বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ও সভাপতি ছিলেন। তিনি ১৯৬৩-৬৪ শিক্ষা বর্ষে ব্রজমোহন কলেজের নির্বাচিত ভি পি ছিলেন। তিনি ১৯৬২ সালে বরিশাল ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ছিলেন এবং হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ত্ব প্রদান করেন।

তিনি ১৯৬৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক ছিলেন এবং ১৯৬৭ সালে ছাত্রলীগ কেন্দীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন।১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলনে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহন করেন। ৬দফার দাবীতে আহুত ৭ই জুনের হরতালকে সফল করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। তিনি ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলন সফল করার জন্য প্রাক্তন ছাত্রনেতাদের সাথে মিলে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।

সংসদীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহন।

জনাব আমির হোসেন আমু ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত সাধারন নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক নমিনেশন প্রাপ্ত হয়ে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে ঝালকাঠি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

 মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন  

জনাব আমির হোসেন আমু ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহন করেন এবং বরিশাল, ঝালকাঠি, যশোহর ও ফরিদপুর মুজিব বাহিনীর অধিনায়কের দ্বায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন।

জাতীয় রাজনীতিতে আমির হোসেন আমু

জনাব আমির হোসেন আমু ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে প্রয়াত কিংবদন্তী নেতা শেখ ফজলুল হক মনি প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। ১৯৭৫ সালে তিনি বঙ্গবন্ধু কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের  ঝালকাঠি জেলার গভর্নর হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন ও প্রশিক্ষন গ্রহন করেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ভূমিকা।

১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগষ্ট জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য আমির হোসেন আমুকে খুনি মুশতাক কারাগারে নিক্ষেপ করে। দীর্ঘ ১৯৭৫–৭৮ সাল পর্যন্ত তিনি কারান্তরীন ছিলেন। পরে হেবিয়াস কর্পাস রিট আবেদন করে মুক্তিলাভ করেন।

জনাব আমির হোসেন আমু ১৯৭৮–১৯৮৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যানের দ্বায়ি্ত্ত্ব পালন করেন। ১৯৮১-৯২ সাল পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটি যুগ্ম সম্পাদক পদে দ্বায়িত্ব পালন করেন।১৯৯২ সালে তিনি আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনী ফোরাম প্রেসিডিয়ামের  সদস্য নির্বাচিত হন।

মন্ত্রী পরিষদে আমির হোসেন আমু

দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ যখন জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ত্বে ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করেন, তখন জনাব আমির হোসেন আমুকে খাদ্যমন্ত্রীর দ্বায়িত্ত্ব প্রদান করা হয়। তিনি তাঁর উপর অর্পিত দ্বায়িত্ত্ব সূচারু রুপে পালন করেন। ২০১৪ সালে যখন জননেত্রী সরকার গঠন করেন, তখন আমির হোসেন আমু শিল্প মন্ত্রীর দ্বায়িত্ত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্য ও বর্ষিয়ান নেতা।