অত:পর আমি সিরাজুল আলম খান বিতর্ক

5

মোরশেদ মনজুর: বঙ্গবন্ধুর আশীর্বাদের হাত ছাড়া শ্রদ্ধাভাজন সিরাজুল আলম খানের কোন রাজনৈতিক সাফল্য এযাবত পরিলক্ষিত হয় নাই। সিরাজ ভাই নিজেকে অতি তাত্ত্বিক, বিরাট কিছু মনে করে যখনই বঙ্গবন্ধুর আশীর্বাদ ছাড়া পথ চলতে গেছেন তখন বাম বিচ্যুতি, রোমান্টিসিজমের কারণে বারে বারে ব্যর্থ হয়েছেন।হাজার হাজার তরুনের জীবন বিপথে পরিচালিত করে নি:শ্বেষ করে দিয়েছেন। সাম্প্রদায়িক মোশতাক, জিয়া, এরশাদের মাধ্যমে দেশকে পাকিস্তানী ভাবধারায় নিয়ে যেতে জ্ঞাতে অজ্ঞাতে সাহায্য করেছেন। 

অমিত সম্ভাবনার সিরাজুল আলম খান ছাত্র রাজনীতির শুরু থেকে ছাত্রলীগের মাঝে উপদলীয় চক্রান্তে লিপ্ত ছিলেন। বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের নামে আমাদেরকে বিপথগামী করেছেন। কারণ ইতিহাস প্রমান করেছে পাক ভারত উপমহাদেশে সাম্যবাদ অকার্যকর।  এখানে বাস্তবতার নিরিখে সোসাল ডেমোক্রেসি চলতে পারে। যেখানে গনতন্ত্র ও বিতরন ব্যাবস্হা পাশাপাশি চলবে। এজন্যই বঙ্গবন্ধু শোষিতের গনতন্ত্রের কথা বলতেন। সাহস করে বলতেন ” বিশ্ব আজ দুভাগে বিভক্ত, শোষক আর শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে”। Ultimately মেনন, ইনু, রব, সেই সোসাল ডেমোক্রেটসই হলেন। অথচ স্বাধীনতার পরপর এরা যদি ধ্বংসের রাজনীতি না করে সৃষ্টির রাজনীতি করতো তাহলে দেশ আজ অনেকদুর এগিয়েে যেতো। 

মনে রাখতে হবে শাহ মোয়াজ্জেম যখন ছাত্রলীগের সভাপতি, প্রয়াত শেখ ফজলুল হক মনি তখন সাধারন সম্পাদক। সিরাজুল আলম খান তখন সহ সম্পাদক, উচ্চ আভিলাষী ২১ বছরের সিরাজুল আলম খান, ১৯ বছরের প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক, ১৮ বছরের কাজী আরেফ আহমেদ তখন কিউবা বিপ্লবের অনুপ্রেরনায় রোমান্টিসিজমে ভুগে হয়তো ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে নিউক্লিয়স সৃষ্টি করেছিলেন। যার লক্ষ্য ছিল সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় জনগন কি তা গ্রহন করতো? ১৯৭০ সালেও সিরাজ ভাইরা নির্বাচনে যাওয়ার বিপক্ষে ছিলেন। সে পথে গেলে কি বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হতো? হ্যাঁ এ কথা সত্য যে সিরাজ ভাইয়ের অক্লান্ত পরিশ্রমে ও সাংগঠনিক দক্ষতায় ছাত্রলীগের মাঝে একটা শক্ত অবস্হান তাঁর সৃষ্টি হয়েছিল। 

তোফায়েল আহমদকে সিরাজ ভাইই সমর্থন দিয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি বানিয়েছেলেন।তাই বলে কি তোফায়েল আহমদ জীবিত থাকা মুজিব বাহিনীর একজন অন্যতম প্রধান হিসেবে বিবেকের তাড়নায় সত্য প্রকাশও করতে পারবেন না? সিরাজ ভাইয়ের ভক্ত আমরাও ছিলাম, কিন্তু সিরাজ ধ্বংসাত্ত্বক পথের কারণে সুপথে ফিরে এসেছি। একটা প্রশ্ন রেখে যাই সিরাজুল আলম খানের ইদানিংকালের ভক্তদের কাছে- মানলাম নিউক্লিয়স থেকে বি এল এফ, তার থেকে মুজিব বাহিনী। মুজিব বাহিনীর ৪ জন অধিনায়ক, যথাক্রমে প্রয়াত শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি, সিরাজুল আলম খান, প্রয়াত জননেতা আব্দুর রাজ্জাক ও উনসত্তুরের নায়ক জননেতা তোফায়েল আহমদ।

সিরাজ ভাই যদি মূল নেতা হয় তাহলে ৪ জনের ভেতর থেকে সিনিয়র শেখ ফজলুল হক মনি মুজিব বাহিনীর পক্ষে বঙ্গবন্ধুর কাছে অস্ত্র সমর্পন করলেন কেন? কই কাদেরিয়া বাহিনীর পক্ষে তো কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম অস্ত্র সমর্পন করলেন। রহস্যে আবৃত সিরাজ ভাই জনৈক পেয়ারাকে দিয়ে ইতিহাসে নিজেকে মহানায়ক বানাতে গিয়ে অনেককে ছোট করে ফেলেছেন। জাতীর পিতাকেও অবমূল্যায়ন করতে ছাড়েন নাই। এই জায়গাটায় জীবিত তোফায়েল অাহমদ প্রতিবাদ করে ন্যায় কাজ করেছেন। 

স্বাধীনতা পূর্ব সিরাজুল আলম খানের অবদানকে আমরা আমৃত্যু স্মরন করবো। তাই বলে তাঁর ভুল রাজনীতির কথা বলবো না তা তো হতে পারেনা। সব নিউক্লিয়সের কথা বঙ্গবন্ধু জ্ঞাত ছিলেন। কারণ রাজ্জাক ভাই বঙ্গবন্ধুকে না জানিয়ে এক পাও ফেলতেন না। মনি ভাই, তোফায়েল ভাই নিউক্লিয়স সৃষ্টির গোড়াতে অবহিত ছিলেন না, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সিরাজ, রাজ্জাক, কাজী আরেফ এই দুজনকে নিউক্লিয়স থেকে রুপান্তরিত বি এল এফে সংযোজন করতে বাধ্য হয়েছিলেন। সিরাজ ভাই নায়ক কিন্তু মহানায়ক নয়। এই কথাটা বুঝতে অতি ভক্তরা বারে বারে ভুল করছেন।