ভিআইপিদের এসব কর্ম কি দারুন আনন্দ দেয় আমাদের.. তাই না?

52

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা: ফেরি ঘাটে ভিআইপির জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে কিশোরের মৃত্যুর ঘটনা আমাকে অন্য এক ভিআইপির কথা মনে করিয়ে দিল।

কয়েক বছর আগে দেশ ব্যাপী একটা কাজ করেছিলাম .. আমার সাথে ছিলেন একজন সাবেক মন্ত্রী, যিনি বরাবরই আবার একজন সিআইপি, ছিলেন জয়েন্ট সেক্রেটারী পদের একজন সরকারি কর্তকর্তা।

একদিন সকালে ঢাকার বাইরে যেতে হবে .. আমি যথাসময়ে এয়ারপোর্ট পৌঁছেছি, সাবেক মন্ত্রী সাহেবও এসেছেন। আসার নাম নেই জয়েন্ট সেক্রেটারী সাহেবের।

তার একজন অগ্রগামী পেয়াদা অবশ্য এলেন এবং বোর্ডিং পাস নিয়ে স্যারের জন্য আমাদের সাথে অপেক্ষা করতে থাকলেন।

তিনি এলেন, এসেই বললেন ভেতরের ভিআইপি লাউঞ্জে যাবেন। তখন সময় খুব কম। তবুও তিনি যাবেন। সাবেক মন্ত্রী মহোদয় যেতে রাজি হলেননা। তিনি ঘুরে এলেন।

প্লেনে উঠে জয়েন্ট সেক্রেটারী দেখেন সামনের দুই সিটেই একজন সংসদ সদস্য তার পরিবার নিয়ে আছেন। সারা পথ মুখ বেজার করে গেলেন। ফেরার দিন আমাদের একবারেই দেরী হয়ে গেল।

কিন্তু তবুও তিনি এয়াপোর্টের ভিআইপি কক্ষে বসে এক চাপ চা পান করবেন এবং করলেনও। প্লেন ছেড়ে দিচ্ছে বলে তাড়া দিচ্ছে বিমানবন্দর ও এয়ারলাইন্স কর্মীরা, কিন্তু তিনি চা শেষ না করে উঠলেননা…

ভিআইপিদের এসব কর্ম কি দারুন আনন্দ দেয় আমাদের.. তাই না?

লেখকঃ প্রধান সম্পাদক, গাজী টিভি ও সারা বাংলা. নেট