বলে দিয়ো, তাকে বলে দিয়ো!

2315

তৌহিদুল হক:

বলে দিয়ো তাকে, তাকে বলে দিয়ো
কতো বৃষ্টিতে ভিঁজতে ভিঁজতে আমি শীতল
হয়েছি, হয়েছি প্রস্তুত। তাকে বরণ করতে
তাকে বলে দিয়ো, বরণ করতে তাকে
আমি এখনো বৃষ্টির অপেক্ষায়!!

তাকে বলে দিয়ো, যতটুকু ব্যথা হৃদয়ে
জমা হলে বিদ্রোহ হয়, ততটুকু ব্যথা
আমার হৃদয়ে জমা হয়েছে। বিদ্রোহ এখন
সময়ের অপেক্ষা মাত্র, তাকে বলে দিয়ো
তার রক্তিম ঠোঁটে ঠোঁট রেখে বিজয়ের
পতাকা ছিনিয়ে আনবো!!

সবটুকু ব্যথা নিয়ে আজ আমি প্রস্তুত, বিশ্বাস
রাখি তোমার কপালে লেগে থাকা বিশ্বস্ত
টিপের প্রতি, নিবেদন রাখি- আমি তোমার
বিশ্বস্ত হবো। আঙ্গুল ছুঁলেও হাত ছোব না।
হাত বাড়িয়ে তোমায় ডাকি, হারিয়ে ফেলার
আশায়। তাকে বলে দিয়ো-
সবই আমার প্রস্তুত ছিলো, শুধু তুমি
আসোনি!!

এক নির্জন দুপুরে তোমায় বিদায় দিলাম
সেই জায়গায় কতোবার, ভেবে দেখো কতোবার
গিয়েছি তুমি আর আমি। তুমি কী এখন
আমার অগোচরে সেই জায়গায় যাও। পুরাতনকে
ধরতে, করতে আদর পাথরখন্ড, যা শক্ত থেকেও
আরাম দিয়েছে। বলে দিয়ো তাকে
আমি এখনো প্রায়ই সেই জায়গায় যাই, পাথরে
হাত রেখে দেখি, পাথর কতোটা নরম হয়েছে!
বলে দিয়ো তাকে, আমার হৃদয়েও একটা পাথর
চাপ দিয়ে বলেছে, কী এক নিষ্ঠুর পাথর!!

এক গোধূলী বেলায় আমার পিঠে হেলান দিয়ে
সে বলেছিলো- গোধূলী তার ভালো লাগে,
গোধূলী তার সন্তানের মতো, আশ্রয় খোঁজে।
সেই থেকে আমি পিতা, আমি আশ্রয় দেই
মনের গহীনে, গৌধূলীর যাতে ব্যথা না লাগে।
তাকে বলে দিয়ো, তার সন্তান ঠিকমতো
বড় হচ্ছে!!

নিষ্ঠুর সময়ে কী এক নির্ঘাত ব্যথা দিয়েছো
তোমায় অনুভব করি, হৃদয়ে তোমার বিশাল
পাষ- এক অস্থিরতা বিরাজমান। তাই-তো বলে
দিলে, সম্ভব নয়। অন্য দরজায় রঙ্গিন কাগজে
মোড়া আল্পনা, তোমায় ডাকছে।
তাকে বলে দিয়ো, রঙ্গিন কাগজ আমার ভীষণ
দুশমন, তোমাকে ছিনিয়ে নিয়েছে। আমার
লাল রংয়ের এক শার্ট ছিলো, শার্টটি
খুব পছন্দের একজনকে দিয়েছি, পৃথিবীতে
অপছন্দ নেমে আসুক, মানুষ বুঝুক কষ্ট দিলে
আরামের আশা বৃথা। তাকে বলে দিয়ো
তার পায়ের একটি আঙ্গুলের ব্যথা, আমার সারা
শরীরে তীব্র যন্ত্রণাসম। কীভাবে ভেবেছি,
কতোভাবে ভেবেছি- জীবনে নিত্য স্বাদ আসে
চোখের জলে, তাকে বলে দিয়ো!!

এখন ফুল দেখলে ইশ্পিস করে হাতের
আঙ্গুল। কতোবার, কতোভাবে সাজিয়েছি তার
চুল? বিছিয়ে প্রিয় ফুল। বেলী ফুল! তাকে
জিজ্ঞাসা করো, কেউ কী তাকে ফুল উপহার
দেয়। তাকে জিজ্ঞাসা করো, বেলী ফুলের চিত্রায়ন
কি তার মনে আছে? তাকে হুকুম দেও-
মাথা নত করতে, বেলী ফুল আজ জবাব দিবে
ভালোবাসায় অশ্রম্নর বন্যা কীরূপে বয়!!

তাকে বলে দাও, তার শরীরী গন্ধে আজো
মাতাল আমি। কোনো রূপ-রসে আগ্রহ নেই
যেখানে সবাই সুগন্ধি বলে দিশেহারা, সেখানে
আমি ঠিকানা খুঁজি। আশ্রয়ের। এক নতুন
পথের সন্ধানে, হাঁটতে হাঁটতে নতুন দিনের সন্ধান হবে
তাকে বলে দিয়ো, তার চলে যাওয়া মানে
আমার নিঃস্ব জীবন, নিঃস্ব হিসাব-নিকাশ নয়।
চলতি পথে ছড়ানো মুক্তাময় স্মৃতি
আজো ডেকে তোলে, বারে বারে পিছন থেকে ডাকে!!

তাকে বলে দিও, খুব শক্ত করে বলে দিয়ো
ভালোবাসার মতো ভালোবাসলে তাকে কি ভোলা যায়?
তাকে বলে দিও এখনো বাইরে থেকে বাসায় প্রবেশের
সময় মনে হয়, বাইরে কিছু একটা ফেলে এসেছি
এই ফেলে আসাটা-
তুমি, তুমি, এক অনন্য তুমি!!