৩ হাজার টাকার স্টেথোসকোপ ১ লাখ সাড়ে ১২ হাজার টাকায়!

12

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনায় বড় ধরণের অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সেখানে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি হেডকার্ডিয়াক স্টেথোসকোপের দাম দেখানো হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা। এ ধরণের ১১৬টি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ৪১ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে মন্ত্রণালয়। এমন অনিয়মে রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেছেন উচ্চ আদালত। আগামী ৬ মাসের মধ্যে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশও দিয়েছেন।

২০১৪ সালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যন্ত্রপাতি ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠে। অভিযোগ তদন্তে একাধিক কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তদন্ত শেষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া রিপোর্ট দেখে হতবাক হয়ে যায় হাইকোর্ট।

রিপোর্টে দেখা যায়, ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি হেডকার্ডিয়াক স্টেথোসকোপের দাম দেখানো হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা। যুক্তরাষ্ট্র থেকে এরকম ৪টি স্টেথোসকোপ আনতে ব্যয় দেখানো হয়েছে সাড়ে চার লাখ টাকা। এরকম ১১৬টি যন্ত্র ক্রয়ে ৪১ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এমনকি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতেও নেয়া হয় অনিয়মের আশ্রয়।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘স্টেথিসকোপে ১ ইউনিটের দাম ধরা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা। যেটা বাজার মূল্যের চেয়ে বহুগুণ ধরা হয়েছে। হালকা যন্ত্রপাতি কিনে বিল দাবি করা হয়েছে ভারী যন্ত্রপাতির।’

এমন রিপোর্টের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স অনিক ট্রেডার্সের টাকা আটকে দেয় মন্ত্রণালয়। এরপর টাকা পেতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় তারা। এত বড় অনিয়ম দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে উচ্চ আদালত দুদককে আদেশ দেন, ৬ মাসের মধ্যে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার। এ অনিয়মের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভূমিকারও প্রশংসা করেন দেশের উচ্চ আদালত।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, ‘যেদিন রায় হাতে আসবে সেদিন থেকে ৬ মাসের মধ্যে দুদক এই মামলার তদন্ত করবে। যদি দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

যদিও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আইনজীবীর ব্যারিস্টার রুহুল হুদ্দুস কাজলের দাবি, যথাযথ প্রক্রিয়া মেনেই যন্ত্রপাতি কিনেছেন তারা।

তিনি বলেন, ‘১০ কোটি টাকার মালামাল কেনা হয়েছে কিন্তু এখনো টাকা পরিশোধ করেনি। অথচ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ লিখেছে তাদের মালামাল সাপ্লাই দেয়া হয়েছে।’

এ ঘটনায় প্রকল্প পরিচালকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।