কাশ্মীর; ক্যাম্প থেকে ভেসে আসে নির্যাতনের কান্না!

4

রাত যত বাড়তে থাকে কাশ্মীরের সেনাবাহিনীর ক্যাম্প থেকে ততই ভেসে আসে নির্যাতিত মানুষের বুকফাঁটা আর্তনাদ। ভারত নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলটিতে মানুষের ওপর নির্যাতনের এমন ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে।

দক্ষিণ কাশ্মীরের চার জেলার একটি শোপিয়ানের হিরপোরা গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাতে প্রায় সময়ই তারা সেনা ক্যাম্প থেকে মানুষের কান্না শুনতে পান।

হিরপোরা গ্রামে অনেক মানুষই সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে আবিদ খান নামে এক বাসিন্দা জানান, ১৪ আগস্ট মধ্যরাতে সেনা সদস্যরা বাড়িতে এসে তার ভাই সহ তাকে চোখ বেঁধে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, “আমাকে আর আমার ভাইকে তারা ইলেকট্রিক শক দিয়েছিল। নির্যাতন সইতে না পেরে আমার ভাই চিৎকার করছিল।” বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে রাস্তার মধ্যেই আমার ভাইকে উলঙ্গ করে হাত পা বেঁধে রড দিয়ে পেটায় সেনা সদস্যরা।

হিজবুল মুজাহিদীনের এক সদস্যকে আবিদ খানের বিয়েতে দাওয়াত দেওয়ার অভিযোগে চৌগাম আর্মি ক্যাম্পে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে তিনি জানান।

২৬ বছর বয়সী এই যুবক আরও বলেন, “বিয়েতে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এরপরেও সেনা সদস্যরা তাদের ওপর নির্যাতন চালায়। তারা আমাকে ইলেকট্রিক শক দেয়। যৌনাঙ্গে ইলেকট্রিক শক দিতে দিতে তাদের একজন বলছিল, আমি তোকে যৌন অক্ষম করে দেব।”

ছাড়া পাওয়ার পর এই যুবক টানা ১০ দিন বমি করেছিলেন এবং ২০ দিন পর কোনোভাবে উঠে দাঁড়াতে সক্ষম হন বলে জানান।

গ্রামবাসীদের মতে, ওই জেলার সব গ্রাম থেকে কয়েকজনকে ধরে নিয়ে এ রকম অমানুষিক নির্যাতন চালায় সেনা সদস্যরা।

রাতে ঘরে এসে সেনাসদস্যরা তাদের আইডি কার্ড এবং মোবাইল নিয়ে যায়, পরে ক্যাম্প থেকে সেসব নিয়ে আসতে বলে। ক্যাম্পে গেলেই তাদের আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক নির্যাতিত যুবক জানান, ২৭ আগস্ট পর্যন্ত তিনবার তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, প্রতিবারই তার উপর নির্যাতন চালানো হয়। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের খাবার সরবরাহ করার অভিযোগে তাকে ধরে নেওয়া হয় বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, “অন্ধকার এক ঘরের মধ্যে ঢুকিয়ে আমার ওপর দুই ঘণ্টা যাবৎ ইলেকট্রিকের শক দেওয়া হয়।”

গুগলুড়া গ্রামের বাসিন্দা ২১ বছর বয়সী ওবাইদ খান বলেন, “২৬ আগস্ট আইডি কার্ড এবং মোবাইল ফোন নিয়ে আসতে ক্যাম্পে যাই আমি। সেখানে আমাকে আটজন সৈন্য রড দিয়ে পেটায়।”

ওই গ্রামের স্থানীয় একজন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হায়দার খান জানান, দক্ষিণ কাশ্মীরের জেলাটিতেই এখন পর্যন্ত ১৮০০ জন মানুষকে আটক করার একটি তালিকা তিনি দেখেছেন।