অবিলম্বে চিকিৎসকদের ঝুঁকিভাতা চালুর দাবি জানালো এফডিএসআর

78

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেইফটি এন্ড রাইটস- এর মহাসচিব ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগ করে বলেছেন, প্রাণ হারানোর ঝুঁকি নিয়েও হাসপাতালে রোগীর সুস্থতায় কাজ করছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা। কিন্তু তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করেনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বুধবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ডেঙ্গুরোগীদের সেবাদানকারী চিকিৎসকসহ এইরোগে মৃত্যুবরণকারী সকলের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল শেষে তিনি এ অভিযোগ করেন।

ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন  দুঃখ করে বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী চিকিৎসকদের জন্য নূনতম শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাঁর মতে, স্বাস্থ্যখাতের সর্বোচ্চ এ দুটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মৃত চিকিৎসকদের জন্য আনুষ্ঠানিক শোক জানানো হয়নি। তাদের অসহায়  পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ায়নি কেউই। রাষ্ট্রের নিবেদিতপ্রাণ মেধাবী সন্তানদের প্রতি এ ধরণের অবহেলায় চিকিৎসকেরা মর্মাহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

অভিমান বুকে চেপে তিনি বলেন, কষ্ট ও অপ্রাপ্তি সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। অবিলম্বে চিকিৎসকদের জন্য সম্মানজনক ও উৎসাহব্যঞ্জক ঝুঁকিভাতা চালু করার দাবি জানান তিনি।

এ সময় আরো কথা বলেন, এফডিএসআর-এর সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. জাহিদুর রহমান ও কার্যকরী পরিষদ সদস্য ডা. সোহেল মাহমুদ। তাঁরা সংগঠনের মহাসচিবের বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা জানান।

এফডিএসআর-এর সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. জাহিদুর রহমান বলেন, অন্যসব সময় মিডিয়া ও রোগীর লোকেরা অহেতুক  চিকিৎসকবিরোধী অবস্থান নিয়ে থাকলেও এবারে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া রোগী, স্বজন ও মিডিয়ার লোকেরা অকুণ্ঠ প্রশংসা করছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। এটা বাংলাদেশের চিকিৎসকদের অনন্য প্রাপ্তি। তিনি বলেন, আমরা চিকিৎসকেরা সবসময়ই নিবেদিত। কিন্তু এবারই প্রথম সবাই সম্মিলিতভাবে চিকিৎসকদের ধন্যবাদ দিচ্ছেন, কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন। এজন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।  

এফডিএসআর-এর সাংগঠনিক সম্পাদক আরো বলেন, সবাই যখন ঈদের ছুটিতে যাবেন। ঈদ-আনন্দ করবেন পরিবার পরিজনকে নিয়ে। তখনো কিন্তু আমরা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ব্যস্ত থাকবো রোগীর সাথে হাসপাতালে। আমাদের ইথিকস অনুযায়ী, সবধরনের দুর্যেোগ-দুর্বিপাকে চিকিসকেরা সবার সামনে থাকলেও প্রাপ্তি ও সম্মানের ভাগ তাদের জোটে না। পর্যাপ্ত ভাতাসহ স্বীকৃতি পেলে চিকিৎসকেরা আরো নিবেদিতভাবে কাজ করবেন বলে আশ্বস্ত করেন ডা. জাহিদুর রহমান।

কার্যকরী পরিষদ সদস্য ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, ধন্যবাদ ও প্রশংসার আশায় চিকিৎসকেরা কাজ করেন না। তাঁরা মানবিক জ্ঞানে উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই সুস্থ করার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ঝুঁকিপূর্ন পেশায় কাজ করলে রাষ্টের পক্ষ থেকে বাড়তি ঝুঁকিভাতা দেয়া হয়। ঝুঁকিভাতা চিকিৎসকদের সময়ের দাবি বলে জানান তিনি।