বাড়ল গ্যাসের দাম: কার্যকর ১ জুলাই

15

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে এক চুলায় ৯২৫ টাকা ও দুই চুলায় ৯৭৫ টাকা করা হয়েছে। 

রোববার বিকেল ৪ টায় কারওয়ান বাজারে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সময় কমিশনের চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলামসহ অন্যান্য কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন।

দাম বাড়ানোর ফলে গৃহস্থালি পর্যায় থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ক্যাপ্টিভ পাওয়ার, সার, চা বাগান, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ক্ষুদ্র কুটির শিল্প, সিএনজিচালিত যানবাহনে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বাড়বে। এর আগে ২০১৭ সালে  ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের দাম বেড়েছিল।

দাম বাড়ানোর পর কোন কোন ক্ষেত্রে কত বাড়ছে তারও একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে প্রতি ঘন মিটারের দাম ৪ টাকা ৪৫ পয়সা, ক্যাপটিভ পাওয়ার ১৩ টাকা ৮৫ পয়সা, সার ৪ টাকা ৪৫ পয়সা, শিল্প ১০ টাকা ৭০ পয়সা, চা বাগান ১০ টাকা ৭০ পয়সা।

বাণিজ্যিক খাত : হোটেল রেস্টুরেন্টে প্রতি ঘন মিটারের দাম ২৩ টাকা, ক্ষুদ্র্র ও কুটির শিল্প ১৭ টাকা, সিএনজি ৪৩ টাকা।

গৃহস্থালি খাত: মিটারভিত্তিক ১২ টাকা ৬০ পয়সা, এক বার্ণার (প্রতি মাসে নির্দিষ্ট) ৯২৫ টাকা, দুই বার্নার (প্রতি মাসে নির্দিষ্ট) ৯৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে বাণিজ্যিক ও গ্রাহক শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গ্রাহকের মূল্যহার অপরিবর্তিত থাকবে। বিদ্যমান ন্যূনতম চার্জ প্রত্যাহার করা হয়েছে। গৃহস্থালি ব্যতিত অন্যান্য গ্রাহকশ্রেণির ক্ষেত্রে প্রতি ঘনমিটার মাসিক  অনুমোদিত লোডের বিপরীতে ১০ পয়সা হারে  ডিমান্ড চার্জ আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতি ঘনমিটার সিএনজি মূল্যহারের মধ্যে ফিড গ্যাসের মূল্যহার ৩৫ টাকা এবং অপারেটর মার্জিন ৮ টাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই গ্যাসের দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে দেওয়া হয়। এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানির কারণে এরই মধ্যে ১৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আরও ১৪ হাজার কোটি টাকার মতো প্রয়োজন হবে। এ অবস্থায় গ্যাসের দাম সমন্বয় করতে না পারলে ভর্তুকি আরও বাড়বে।’

ভর্তুকি কমানোর পাশাপাশি পাইপ লাইনে আবাসিক সংযোগ নিরুৎসাহিত করতে গ্যাসের দাম বাড়ানো হলো। ইতিমধ্যে এলএনজি সহজ লভ্য করতে সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে। যা বাস্তবায়ন হতে আরো চার বছর লাগবে বলে জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।