‘কয়লা চুরির’ প্রমাণ পায়নি ‘সরকার গঠিত’ তদন্ত কমিটি

4

নিজস্ব প্রতিবেদক: দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া থেকে কয়লা খনি চুরি হওয়ার ঘটনাকে নাকচ করেছে তদন্ত কমিটি। তাদের দাবি, খনি থেকে কয়লা চুরির কোনো ঘটনা ঘটেনি।

সরকার গঠিত এ তদন্ত কমিটির দাবি প্রতিবেদনে খনি থেকে কয়লা গায়েবকে সিস্টেম লস হিসেবেই দেখানো হয়েছে। যদিও ১ লাখ ৪৪ হাজার টন কয়লার হদিস না মেলাকে ‘চুরি’ হিসেবেই দেখানো হয় দুদকের তদন্তে। এ অবস্থায় সরকারি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের দাবি, দুই প্রতিবেদনের সাংঘর্ষিক বক্তব্যের সুরাহা যেন আদালতের মাধ্যমেই হয় দাবি ক্যাবের।

যদিও ১ লাখ ৪৪ হাজার টন কয়লার হদিস না মেলাকে ‘চুরি’ হিসেবেই দেখানো হয় দুদকের তদন্তে। এ অবস্থায় সরকারি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের দাবি, দুই প্রতিবেদনের সাংঘর্ষিক বক্তব্যের সুরাহা যেন আদালতের মাধ্যমেই হয় দাবি ক্যাবের।

গত বছরের জুলাইয়ে হঠাৎই সামনে আসে বড়পুকুরিয়ায় ১ লাখ ৪৪ হাজার টন কয়লার হিসাবে গরমিলের বিষয়টি। জ্বালানির অভাবে তখন ৫২ দিন বন্ধ রাখতে হয় দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনও। তাৎক্ষণিকভাবে মামলা হয় খনির ১৯ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। গঠিত হয় একাধিক তদন্ত কমিটি।

সরকারি ৩ কমিটিই কয়লা চুরির কোনো আলামত পায়নি। প্রায় দেড় লাখ টন কয়লা গায়েব হওয়াকে সিস্টেম লস হিসেবেই দেখছেন তারা। শুরু থেকেই খনি কর্তৃপক্ষ সিস্টেম লসের হিসাব না রাখায় ঘাটতির প্রকৃত চিত্র অস্পষ্ট ছিল বলে মত ৭ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কারিগরি কমিটির।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বড়পুকুরিয়ায় সিস্টেম লস হতে পারে ১ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত। আর হদিস না মেলা কয়লার পরিমাণ ১ দশমিক চার দুই শতাংশ, যা গ্রহণযোগ্য। তবে কনসোর্টিয়ামের সরবরাহ করা মোট কয়লার ৫ শতাংশ বাদ দেয়ার হিসাব আমলে নিলে ঘাটতির পরিমাণ আরও বাড়ত বলে মনে করেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা।

সরকার গঠিত বিশেষজ্ঞ তদন্ত কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী কামরুজ্জামান বলেন, টেকনিক্যাল অ্যাসপেক্টে আমি বলব এখানে কোনো চুরি হয়েছে। এটা টেকনিক্যাল লস।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, ঘাটতি পূরণ হয়ে গেছে, চুরি হয়নি; এমন উপসংহারে আসার সুযোগ নেই। দুদকের হিসাবের ঘাটতি ১ লাখ ৪৪ হাজার টন নয়, ৫ লাখ টন হিসাবের মধ্যেই রাখা হয়নি, বাইরে রাখা হয়েছে। সেই ৫ লাখ টনতো হিসাবের মধ্যে আনতে হবে।

খনি এলাকা থেকে কয়লা চুরি সম্ভব কিনা, তা নিয়েও দুদক আর পেট্রোবাংলার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসেছে সাংঘর্ষিক বক্তব্য। কয়লা লোপাটের দায়ে দুদকের তদন্তে খনি কর্মকর্তাদের অভিযুক্ত করা হলেও পেট্রোবাংলার প্রতিবেদন বলছে, বিশেষ নিরাপত্তা স্থাপনা-কেপিআই হওয়ায় কয়লাখনি থেকে চুরির সুযোগ নেই।

কামরুজ্জামান বলেন, ১ লাখ ৪৪ হাজার টন দিতে কত হাজার ট্রাক লাগবে? এত ট্রাক লোকচক্ষু ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারবে?

শামসুল আলম বলেন, অনুমানের ওপর কথা বলে দুদকের তদন্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায় না। বিচারটা শেষ হতে হবে।
সিস্টেম লস কমাতে উৎপাদন থেকে সরবরাহ পর্যন্ত সব পর্যায়ে তথ্য নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ, স্টকইয়ার্ডের ওপর শেড নির্মাণসহ বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছে বিশেষজ্ঞ কমিটি।