নভেম্বরে ঢাবিতে হ্যাকাথন ‘কোড সামুরাই’ প্রতিযোগিতা

2

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রথমবারের মতো আয়োজন করতে যাচ্ছে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় হ্যাকাথন ‘কোড সামরাই-২০১৯’ প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতা আগামী ১ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে অনুষ্ঠিত হবে।

প্রোগ্রামিং ও আইটি দক্ষতা পরীক্ষা করতে বাংলাদেশ জাপান জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি (বিজেআইটি) এ প্রতিযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউ সায়েন্স কম্পিউটার ভবনের ৪০৫ নম্বর কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিভাগের অধ্যাপক ড. মামুনুর রশিদ এ তথ্য জানান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতা উপলক্ষে ইতোমধ্যে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। পুরস্কার বিতরণ করা হবে ২ নভেম্বর।

অন্য যেকোনো মর্যাদাপূর্ণ হ্যাকাথনের মতো কোড সামুরাই-২০১৯ এর বিজয়ী দলগুলোর শিক্ষার্থীরা আকর্ষণীয় পুরস্কার পাবেন। প্রথম বিজয়ী দল দেড় লাখ, দ্বিতীয় বিজয়ী দল ৯০ হাজার এবং তৃতীয় দল ৩০ হাজার টাকা পুরস্কার হিসেবে পাবে। যেহেতু প্রতিটি দলে তিনজন সদস্য থাকবে তাই পুরস্কারের টাকা সমানভাবে ভাগ করে দেয়া হবে।

আয়োজকরা জানান, এই ধরনের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সমস্যা সমাধানের নতুন আইডিয়া সম্পর্কে ধারণা পান, যা পরবর্তীতে সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হবে। তবে, কোড সামুরাই ২০১৯ (Code Samurai 2019)-এর সমস্যাগুলো অন্যান্য হ্যাকাথন অথবা প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা থেকে একটু ভিন্ন ধরনের। শিক্ষার্থীরা এখানে ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যান্ডার্ড সমস্যার সম্মুখীন হবেন ও সমাধান সম্পর্কে জানতে পারবেন, যা পরবর্তীতে তাদের ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

বর্তমান চতুর্থ শিল্প বিপ্লবটি সর্বাধিক প্রযুক্তিগত বিপ্লব, যেখানে রোবোটিক্স, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটির (ভিআর) মতো প্রযুক্তিগুলো আমাদের জীবনযাত্রার এবং কাজের পদ্ধতির পরিবর্তন হয়েছে।

এই হ্যাকাথনের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের আগত বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত করা, যাতে তারা সমাজে আরও ভালো অবদান রাখতে পারেন। এ ছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এবং জাপান ও বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় আইটি খাতের ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচিতি ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আয়োজকরা আরও জানান, প্রতিযোগিতায় জেট্রো-বাংলাদেশ, দ্য জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন অ্যান্ড মেজর জাপানিজ আইটি কোম্পানিজ, ফোরভাল কর্প, আল্ট্রা-এক্স-এশিয়া প্যাসিফিক, ড্রিম অনলাইন কর্পোরেশন এবং চোয়া জিআইকেন কর্পোরেশনের মতো বড় বড় জাপানি আইটি সংস্থাগুলো এই ইভেন্টে যোগ দেবে এবং স্পন্সর করবে। এতে জাপানের এই আইটি সংস্থাগুলো বাংলাদেশের তরুণ প্রতিভাবান আইটি ইঞ্জিনিয়ারদের তাদের প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে আগ্রহী হবে। এই ইভেন্টটি জাপানি আইটি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ করার সুযোগ হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ-জাপান জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানির প্রোগ্রাম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হিরোকাজু তাকেনবু বলেন, ‘সামুরাই হচ্ছে জাপানের একটি উগ্র জাতিগোষ্ঠী, যারা সফল হতে অনেক সময় আত্মঘাতী লড়াই করে থাকে। আমাদের হ্যাকাথনের প্রোগ্রামের বিজয়ী হতে প্রতিযোগীরাও প্রচণ্ড লড়াই করবে।’

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. উপমা কবির, সহযোগী অধ্যাপক ড. আবু আহমেদ ফেরদৌস ও ড. মোসরাত জাহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।