১ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করছে ভারত

5

পেঁয়াজের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে এক লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির কথা ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। গত শনিবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, পেঁয়াজের দাম তীব্র গতিতে বাড়ছে। রাজধানীসহ কয়েকটি জায়গায় ১০০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। এই দামবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে এক লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করবে দেশটি।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্য সংস্থা এমএমটিসি এই পেঁয়াজ আমদানি করবে। তবে ভারত সরকারের সমবায় প্রতিষ্ঠান নাফেদ এই আমদানিকৃত পেঁয়াজ ভারতের বাজারে সরবরাহ করবে।

গত শনিবার সচিবদের একটি কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান ভারতের খাদ্য ও উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী রাম বিলাস পাসওয়ান। একটি টুইট বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার এক লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

মন্ত্রী আরো জানান, এমএমটিসিকে ১৫ নভেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে পেঁয়াজ আমদানি এবং দেশের বাজারে তা বিতরণের জন্য সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। নাফেদকে সারাদেশে আমদানি করা পেঁয়াজ সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে ওই মন্ত্রী জানান।

গত সপ্তাহে, ভারত সরকার জানিয়েছিল, পেঁয়াজের জোগান বৃদ্ধির জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত ও অন্যান্য দেশ থেকে ‘যথেষ্ট পরিমাণ’ পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। এমএমটিসি-র তথ্য অনুসারে, দুই হাজার টন পেঁয়াজের প্রথম চালান অবিলম্বে ভারতীয় বন্দরগুলোয় পৌঁছাবে এবং দ্বিতীয় চালান ডিসেম্বরের শেষের দিকে পৌঁছাবে।

ভারত সরকার মিসর, ইরান, তুরস্ক ও আফগানিস্তান থেকে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানির চেষ্টা করছে, যার জন্য ফাইটোস্যানিটারি এবং ফিউমিগেশন নীতিগুলোও শিথিল করা হয়েছে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।

জোগানের অভাবের কারণে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ভারতে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। খুচরো বাজারে ১০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানী দিল্লিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজের মূল উৎপাদক মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকে ভারি বৃষ্টির কারণে খরিপ শস্য (গ্রীষ্ম) পেঁয়াজের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।