সময় বেঁধে দিয়ে কর্মসূচিতে বিরতি জাবি আন্দোলনকারীদের

3

আবাসিক হল খোলাসহ পুরোদমে ক্লাস-পরীক্ষা চালুর সময় বেঁধে দিয়ে এক সপ্তাহের জন্য কর্মসূচি থেকে বিরতি নিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আন্দোলনকারীরা। বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এই ঘোষণা দেন।

আগামী ২১ নভেম্বর পর্যন্ত এই সময় বেঁধে দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে ওই সংবাদ সম্মেলন হয়। দাবি আদায়ের জন্য বেঁধে দেওয়া সময়ের পর তাঁরা আরও কঠোর কর্মসূচি দেবেন বলে জানিয়েছেন। তবে বিরতির মধ্যে প্রয়োজন হলে তাঁরা আন্দোলন করবেন।

এর আগে দুপুরে উপাচার্য ফারজানা ইসলামের অপসারণ ও ২১ নভেম্বরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ করেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ এর ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বর থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি কয়েকটি সড়ক ঘুরে পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘উপাচার্য ফারজানা ইসলাম আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়েই ক্ষান্ত হননি। তিনি হাজারো শিক্ষার্থীর দুর্ভোগ উপেক্ষা করে শুধুমাত্র নিজের গদিকে টিকিয়ে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হল বন্ধ করে দিয়েছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক কামরুল আহসান, পরিবেশ বিজ্ঞানের অধ্যাপক খবির উদ্দিন, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা ও তারেক রেজা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাহাথির মোহাম্মদ, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সুস্মিতা মরিয়ম প্রমুখ।

সমাবেশে অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে, এখন যত দ্রুত তদন্তের ব্যবস্থা করা হয় ততই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য মঙ্গল। কিন্তু তা না করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। যা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের বিষয়ে সংশয় তৈরি করে।’

আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘এখনো তদন্তের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। হামলা-মামলা করে আন্দোলন বন্ধ করার যে প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়েছে সেটি প্রত্যাখ্যান করে আমরা আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।’