বেসরকারি মেডিকেলের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীরা বেতন ও বোনাস না পাওয়ায় সুপ্রিম কোর্টে এফডিএসআর-এর রীট আবেদন

19

করোনাকালীন এই মহামারীতে চিকিৎসকরা সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে নিজেদের বিলিয়ে দিচ্ছে মানবতার সেবায়। এরই মধ্যে অনেক চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। নিজ দায়িত্ব পালন করতে যেয়ে পরিবার থেকে আলাদা হয়েছেন। কিছু চিকিৎসক নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। অথচ সেইসব চিকিৎসকগনকে ঈদ বোনাস না দেওয়া ও বেতন কেটে নেওয়ার মত ঘৃনিত প্রথা চালু করেছে এদেশের প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং ক্লিনিক গুলো। অনেক প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং ক্লিনিক গুলোতে ঈদে বোনাস তো দূরে থাক,বেতন কর্তন করা হচ্ছে। যা সম্পূর্নরুপে শ্রম আইন পরিপন্থী ও মানবতার চূড়ান্ত লঙ্ঘন।

এসব অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে  ১৯শে মে’ ২০২০ সুপ্রিম কোর্টের ভার্চুয়াল আদালতে রীট করেন আইনজীবি অ্যাডভোকেট ইয়াদিয়া জামান। লাইসেন্স বাতিল সহ তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবেনা এই রীটে জানতে চাওয়া হয়।

ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস এন্ড রেসপন্সিবিলিটিজ (এফডিএসআর)–এর পক্ষে এই রীটে আবেদন করেন সংগঠনের উপদেষ্টা ডাঃ আব্দুন নুর তুষার, মহাসচিব ডাঃ শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন ও যুগ্ম-মহাসচিব ডাঃ রাহাত আনোয়ার চৌধুরী।

আবেদনকারীরা এই অনৈতিক,অমানবিক কর্মকান্ডের জন্য তীব্র প্রতিবাদ জানান।

সরেজমিনে যেয়ে দেখা যায়, রাজধানীর কেয়ার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বেতন পরিশোধ করেছে। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটি আর বেতন-ভাতা দেয়নি। চিকিৎসক, শিক্ষক, নার্স ও স্ব্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও অধ্যক্ষের কাছে বেতনের জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু তারা করোনা পরিস্থিতির কারণে বেতন-ভাতা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এ অবস্থায় সেখানে কর্মরত চিকিৎসক, নার্সসহ স্ব্বাস্থ্থ্যকর্মীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির সচিব শফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের বেতন ও হাসপাতালে রোগী ভর্তি এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে পাওয়া অর্থই আমাদের আয়ের উৎস। এই আয় থেকেই কর্মীদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রতি মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে আয়ের সব উৎস বন্ধ থাকায় বেতন-ভাতা পরিশোধে একটু সমস্যা হচ্ছে।

শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. পারভীন ফাতেমা আশ্বস্ত করেছেন, পরিস্থিতি স্ব্বাভাবিক হলেই সবার বেতন-ভাতা পরিশোধ করে দেবেন। কিন্তু অনেকে তা মানতে চান না। এরপরও পরিস্থিতি বিবেচনা করে কিছুসংখ্যক কর্মীকে বেতন দেওয়া হয়েছে। আরও কিছু কর্মীকে বেতন দেওয়া হবে। সুতরাং বেতন না দেওয়ার অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয়।

একইভাবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালেও এপ্রিল মাসের বেতন দেওয়া হয়নি। মার্চে ৫০ শতাংশ বেতন দেওয়া হয়। তিন ভাগে ভাগ করে ওই বেতন দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, চিকিৎসক, নার্স ও স্ব্বাস্থ্যকর্মীরা বেতনের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তারা অপারগতা প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবদুল হাই চৌধুরী সমকালকে বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে হাসপাতালে রোগী কমে গেছে। শিক্ষার্থীরাও বেতন-ভাতা পরিশোধ করছেন না। এ অবস্থ্থায় আয়ের উৎসগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে বেতন-ভাতা পরিশোধে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সংকট আরও বাড়বে। পরিস্থিতি স্ব্বাভাবিক হলে বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হবে।

করোনা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অধিকাংশ বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন-ভাতা দিচ্ছে না। দেশে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৭০টি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল রয়েছে। এর মধ্যে ৫৪টির তথ্য পাওয়া গেছে।

সে অনুযায়ী দেখা যায়, ২০টি প্রতিষ্ঠান এক থেকে চার মাস ধরে বেতন দিচ্ছে না। নয়টি প্রতিষ্ঠান আংশিক দিয়েছে। নয়টি বেতন দিলেও বোনাস দেয়নি। আর ১৬টি বেতন-বোনাস পুরোপুরি পরিশোধ করেছে। এর বাইরে আরও যে ১৬টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলোতেও এক থেকে চার মাস পর্যন্ত বেতন বকেয়া।

অন্তত ১০টি প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক, নার্স ও স্ব্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিছু প্রতিষ্ঠান করোনা সংকটের আগে থেকেই বেতন দিচ্ছিল না। আর কিছু প্রতিষ্ঠান সংকট শুরুর পর বেতন দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

আবার কিছু প্রতিষ্ঠানের কেউ ৫০ শতাংশ, কেউ ৭০ শতাংশ বেতন দিয়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান দুই থেকে তিন কিস্তিতে বেতন-ভাতা পরিশোধ করেছে। অনেকে বেতন দিলেও ঈদ বোনাস এখনও দেয়নি। হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান শুধু পুরো বেতন-ভাতা পরিশোধ করেছে।

এদিকে বেতন-ভাতা না পেয়ে অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকে বাসা ভাড়া দিতে পারছেন না। ছোট পদের কর্মীরা সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থার মধ্যে পড়েছেন। তারা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন-ভাতা না দেওয়ার অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয় বলে দাবি করেছেন বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এমএ মবিন খান।

তিনি বলেন, সব বেসরকারি মেডিকেল কলেজ তাদের সংগঠনের সদস্য নয়। তাদের সঙ্গে যুক্ত থাকা প্রায় ৯৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করেছে। অন্যদের বিষয়ে তার জানা নেই।

কেয়ার মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ এই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য। তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ না করার বিষয়ে জানতে চাইলে এমএ মবিন খান বলেন, যতটুকু জেনেছি, তারা বেতন-ভাতা দেওয়া শুরু করেছে। ঈদের আগেই হয়তো পরিশোধ করে দেবে। তবে সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।

চিকিৎসক, নার্স ও স্ব্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ না করার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন চিকিৎসকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, এটি নিন্দনীয় বিষয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনেক চিকিৎসক তার কাছে ফোন করে বেতন-ভাতা না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। বেতন না পেয়ে অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দুর্যোগ পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলোর মালিকরা দীর্ঘদিন কাজ করে যাওয়া কর্মীদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করছেন। তিনি দ্রুত বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য সংশ্নিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

সার্বিক পরিস্থিতি :বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকরা বিএমএর কাছে বেতন-ভাতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। যেসব প্রতিষ্ঠান বেতন-ভাতা দেয়নি অথবা যারা দিয়েছেন, সেগুলোর একটি তালিকা তৈরি করছে সংগঠনটি। সর্বশেষ গতকাল সোমবার পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে, সে অনুযায়ী দেখা যায়-

ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ ডিসেম্বর পর্যন্ত বেতন দিয়েছে। জানুয়ারি থেকে প্রতিষ্ঠানটি কোনো বেতন দিচ্ছে না। ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল বেতন পরিশোধের ক্ষেত্রে শর্ত আরোপ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, সপ্তাহে দু’দিন অফিসে উপস্থিত হলে অর্ধেক বেতন দেবে। অন্যথায় কোনো বেতন-ভাতা দেওয়া হবে না। মুন্নু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এপ্রিল মাসে অর্ধেক বেতন দিয়েছে। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত কোনো বেতন দেয়নি। কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ শর্ত আরোপ করে প্রত্যেককে সপ্তাহে একদিন করে অফিসে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এ হিসেবে তারা মাসে চার দিনের বেতন দেবে। শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজে মার্চ মাসে আংশিক বেতন দেওয়া হয়। এপ্রিল থেকে বেতন বন্ধ রয়েছে। সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মার্চ থেকে বেতন দিচ্ছে না। ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এপ্রিলে ৫০ শতাংশ বেতন দিয়েছে। চলতি মাসের বেতন-বোনাস এখনও পরিশোধ হয়নি। মার্কস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মার্চ থেকে বেতন দিচ্ছে না।

শরীয়তপুরের মনোয়ারা শিকদার মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ শর্তারোপ করে বলেছে, হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না থাকলে তারা বেতন দেবে না। মিরপুরের ডেল্টা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এপ্রিল থেকে বেতন বন্ধ রেখেছে। রংপুর অঞ্চলের প্রাইম মেডিকেল কলেজ, রংপুর, কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ও নর্দান মেডিকেল কলেজের একটিও এপ্রিল মাসের বেতন দেয়নি। এই তিন প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকরা জানান, শুরুতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল; এপ্রিল মাসের বেতন দেবে না। তবে বর্তমানে সবার দাবির মুখে বলছে, বেতন দেওয়ার সময় চলে যায়নি। তারা চেষ্টা করছেন। শিকদার মেডিকেল কলেজ শর্তারোপ করে বলেছে, সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত উপস্থিত থাকলে ৬০ শতাংশ বেতন দেবে। অনুপস্থিত থাকলে বেতন দেবেন না। বিক্রমপুর ভুইয়া মেডিকেল কলেজ চার মাস ধরে বেতন দিচ্ছে না। একই অবস্থা সিটি মেডিকেল কলেজের। এই প্রতিষ্ঠানটিও চার মাস ধরে বেতন দিচ্ছে না। ধানমন্ডি নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের বেতন সব সময়ই অনিয়মিত।

এ ছাড়া ময়নামতি মেডিকেল কলেজ ৭০ শতাংশ বেতন দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ঈদুল ফিতরের বোনাস পরিশোধ করেছে। সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ অর্ধেক বেতন দিয়েছে। বোনাস দেয়নি। সব আদদ্বীনে ৫০ শতাংশ বেতন দেওয়া হয়েছে। ঢাকার পাশাপাশি খুলনা, যশোর ও বসুন্ধরা আদদ্বীনের শাখায়ও একই অবস্থা। কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে, করোনা চলাকালীন সময়ে তারা ৫০ শতাংশ করে বেতন দেবে। গাজী মেডিকেল কলেজ ৫০ শতাংশ বেতন দিয়েছে। বোনাস নিয়ে দেনদরবার চলছে। নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজও ৫০ শতাংশ বেতন দিয়েছে। সিলেট উইমেন্স মেডিকেল প্রভাষক ও মেডিকেল অফিসার পর্যন্ত পুরো বেতন দিয়েছে। তবে সহকারী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পর্যন্ত ৫০ শতাংশ বেতন দিয়েছে।

সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে বেতন দেওয়া হলেও বোনাস হয়নি। এই প্রতিষ্ঠানটির মালিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। তিনি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সম্প্রতি তিনি পদত্যাগ করেন। বেতন-ভাতা নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার জের ধরেই তিনি পদত্যাগ করেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তার পদত্যাগের পর আনোয়ার হোসেন এমপি সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হন। তার মালিকানাধীন আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালেও বোনাস দেওয়া হয়নি। একইভাবে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, নর্থবেঙ্গল মেডিকেল, টিএমএসএস মেডিকেল এবং উত্তরা আধুনিক বেতন দিয়েছে। এই ৯টি প্রতিষ্ঠান বোনাস পরিশোধ করেনি। উত্তরা আধুনিকে বোনাসের দাবিতে আজ মানববন্ধন করার কথা রয়েছে।

এদিকে কুমিল্লা অঞ্চলের ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ, পপুলার, জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ, খাজা ইউনুস, উত্তরা উইমেন্স, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, ইউনাইটেড, ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজ, নারী ও শিশু স্ব্বাস্থ্যকেন্দ্র হাসপাতাল, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ, ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বারিন্দ মেডিকেল কলেজ, এভারকেয়ার, সিটি মেডিকেল কলেজ ও রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ- এই ১৬টি প্রতিষ্ঠান বেতন-বোনাস পুরোপুরি পরিশোধ করেছে।

বিএমএ মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, ছোট্ট একটি ক্লিনিক দিয়ে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালসহ বড় বড় হাসপাতালের মালিক হয়েছেন অনেকে। কেউ কেউ একাধিক হাসপাতাল গড়ে তুলেছেন। ব্যবসা না হলে তো এত বড় বড় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারত না। এখন করোনার অজুহাত তুলে তারা বেতন-ভাতা আটকে রেখেছেন। এটি হতে পারে না। তিনি দ্রুত বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য সংশ্নিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

স্ব্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান বলেন, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মালিকরা এতদিন যে মুনাফা করেছিল, তার ভাগ তো কর্মীদের দেয়নি। তাহলে এই দুই-তিন মাসের সমস্যার কারণে বেতন-ভাতা বন্ধ হবে কেন? আগে করা লাভের অংশ থেকেই তো তারা বেতন-ভাতা দিতে পারেন। তা ছাড়া তাদের সবাই ধনাঢ্য ব্যক্তি। প্রতিষ্ঠানের আয়ের ওপর তাদের নির্ভর করতে হয় না। বেতন-ভাতা বন্ধ রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে চিকিৎসা, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব আলী নূর বলেন, দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে বেতন-ভাতা না দেওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং তিনি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বেতন-ভাতা দ্রুত পরিশোধ করতে তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এরপর অনেকে বেতন-ভাতা দিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। অনেকে এখনও পরিশোধ করেননি। তাদের প্রতি আহ্বান থাকবে, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দ্রুততার সঙ্গে নিরসন করবেন। এরপরও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হলে পরবর্তী সময়ে করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

 

Bangladesh

Confirmed
47,153
Deaths
650
Recovered
9,781
Active
36,722
Last updated: জুন ১, ২০২০ - ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ (+০০:০০)