বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. আবেদ ক্যানসার প্রতিরোধক ‘‘রঙিন ভুট্টা’ উদ্ভাবন করেছেন

26

সাধারণ ভুট্টার সঙ্গে জিনগত পরিবর্তন করে বিভিন্ন রং তৈরি করে এর জেনিটিক্যালি মডিফাইড করে ‘রঙিন ভুট্টা’ উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশি জিন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী। বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী  এর আগে হাফিজা-১, জালালিয়া, তানহা ও ডুম- এই চার জাতের ধানের উদ্ভাবন করেন এই বিজ্ঞানী। তিনি মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বাসিন্দা। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় থাকলেও এবার দেশে এসে কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী বলেন, ধান ও গমের তুলনায ভুট্টার পুষ্টিমান বেশি। এটিকে নিউ নিউট্রেশন বলা যেতে পারে। ভুট্টায় কেরোটিন থাকার কারণে মুলত এর রং হলুদ হয়। তাই তিনি রঙিন ভুট্টার ক্লোন উদ্ভাবন করেন। একত্রে সবরঙের ভুট্রাসহ আলাদা আলাদা রঙের ভুট্টা উদ্ভাবন করেন। রঙিন ভুট্টা ক্যান্সার প্রতিরোধক বলে জানান ড. আবেদ চৌধুরী। বিশেষ করে শিশুদের কাছে এই ভুট্টা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাবে। শিশুরা ভুট্টা খেলে তাদের দেহের পুষ্টির চাহিদা পুরণ হবে।

বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের গবেষণামূলক কাজ করার অনুমতি পেয়েছেন। এই গবেষণা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি দেশে বরাবর আবাদ হয়ে আসা ভুট্টার জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে রঙিন ভুট্টার প্রজাতি উদ্ভাবন করেছেন।

ড. আবেদ চৌধুরীর উদ্ভাবিত রঙিন ভুট্টা সারা বছরে ৪ বার চাষ করা যায়। আবার খরিফ-১ ও খরিফ-২ মৌসুমেও ভুট্টা চাষ করা যায়। হাইব্রিড ভুট্টা একটি পদ্ধতির মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে পারে। বেরিয়ে আসা ভুট্টা ফলন হবে হাই ব্রিডের সমান। ফলে ভুট্টা চাষে কৃষকদের আরও উৎসাহী করা উচিত।

ড. আবেদ চৌধুরী কুলাউড়া উপজেলার ভুট্টাচাষীসহ সফল কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে ভুট্টার বীজ বিতরণ করেন। প্রত্যেকটি বাড়ি আশেপাশে এবং পতিত জায়গায় ভুট্টা চাষের আহবান জানান। তিনি আরও বলেন, আমি দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলাম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সেবা দিয়েছি। এবার সেই সেবা নিজের দেশকে দিতে চাই। বিশেষ করে কুলাউড়ার কৃষি বিভাগকে এগিয়ে নিতে আলাদা সময় দেবেন বলে জানান। ফলে পরীক্ষামুলকভাবে ভুট্টা চাষ শুরু করা হোক।