ঢাবিতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতনে আহত চার শিক্ষার্থী

13

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ছাত্রলীগের নির্যাতনে আহত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে গুরুত্বর আহত অবস্থায় দুইজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহত হন- ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মুকিম চৌধুরী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সানওয়ার হোসেন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মিনহাজ উদ্দীন ও একই বর্ষের আরবী বিভাগের শিক্ষার্থী আফসার উদ্দীন।

জানা যায়, জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটির সহসভাপতি আনোয়ার হোসাইন ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা শিবির সন্দেহে মুকিমকে গেস্টরুমে নিয়ে আসে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের কথাবার্তায় সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরে তারা মুকিমের সঙ্গে যোগাযোগ থাকায় আফসারকেও গেস্টরুমে নিয়ে আসে। এর পরে তাদের দুইজনকে হলের বর্ধিত ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের উভয়ের সঙ্গে সানওয়ার, মিনহাজের ম্যাসেন্জারে যোগাযোগ থাকায় তাদেরকেও ডাকা হয়।

ভুক্তোভূগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনামতে, জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তাদেরকে জহুরুল হক হল সংসদের সহ-সভাপতি সাইফুল্লাহ আব্বাসী অনন্ত ও হল শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন আলম চড় থাপ্পড় মারতে থাকে। এসময় লাঠি, রড ও কিল-ঘুষি মারে হল সাবেক সহ-সভাপতি কামাল উদ্দিন রানা ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা।

তাদেরকে মারধর শেষে হলের আবাসিক শিক্ষক বিল্লাল আহমেদের মাধ্যমে প্রক্টর টিম ও পুলিশের হাতে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ আহত অবস্থায় তাদেরকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যান।

এরমধ্যে গুরুত্বর আহত হওয়ায় মুকিম ও সানওয়ারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত হল সংসদের সহ-সভাপতি সাইফুল্লাহ আব্বাসী অনন্ত বলেন, তাদের শিবিরের প্রমাণ পেয়ে প্রক্টর টিমের মাধ্যমে পুলিশে দিয়েছি। কোন মারধর করিনি।

তিনি দাবি করেন, তাদের কাছে শিবিরের দুইটি বই উদ্ধার করেছি। যা পুলিশের নিকট দেওয়া হয়েছে।

যদিও গতকাল রাত দুইটার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে তাদের কথা হলে তারা কোন বইয়ের নাম বলতে পারেননি। অন্যদিকে, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তাদের বিরুদ্ধে শিবিরের কোন সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় দুপুর দেড়টার দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু কোন প্রমাণ না পাওয়ায় তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, পুলিশকে বলে দেওয়া হয়েছে যে, কোন প্রমাণ না পেলে তাদেরকে থানায় না রাখতে। নির্যাতনের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা হলের অভ্যান্তরীন বিষয়। তবে যদি কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ করে তবে আমরাও বিষয়টি দেখব।

অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ও আমির হামজা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের অনুসারী। এ বিষয়ে জয় বলেন, তাদেরকে শিবির করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এজন্য পুলিশে দেওয়া হয়েছে। তবে আমি যতটুকু জানি তাদেরকে মারধর করা হয়নি। যদি কেউ মারধর করে তবে এটা সমর্থনযোগ্য নয়।