গভীর রাতে হলে ঢোকেন শামসুন্নাহার হলের ভিপি ইমি; আছে নানা অভিযোগ

3461

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ভঙ্গ করার অভিযোগ উঠেছে শামসুন্নাহার হলের সহ-সভাপতি (ভিপি) এসকে তাসনিম আফরোজ ইমি বিরুদ্ধে।

হল প্রশাসনের একাধিক সূত্র এই অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, তাকে প্রায় প্রতিদিনই হলের বাইরে রাত কাটাতে দেখা যায়। কোনদিন রাত ১২টা আবার কোনদিন রাত ১টার পরেও হলে আসেন ইমি।

সরেজমিনেও এই তথ্যের সত্যতা খুজে পাওয়া যায়। গত কয়েকদিন ধরে তাকে অনুসরণ করা হয়। ফলে অভিযোগের সত্যতাও খুজে পাওয়া যায়। রাতে তাকে ক্যাম্পাসে ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায়। অধিকাংশ সময় তার সঙ্গে এক বা একাধিক ছেলেরা থাকেন।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীও এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর। তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত ‘অপরাজেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং ‘স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ এই দুইটা গ্রুপে কেউ তাদের নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করলে তাদেরকে ব্লক করে দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী, কোন মেয়েদের হলগুলোতে রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে হলে ঢোকার নিয়ম আছে। অনেকের জরুরী কাজ থাকলে সে রাত ১০টা বা তার পরেও ঢাকতে পারে। এজন্য তাকে হল প্রশাসনকে অনুরোধ করার প্রয়োজন হয়।

কয়েকমাস আগে ঢাবির রোকেয়া হলের এক ছাত্রী বাড়ি থেকে আসতে দেরী হওয়ায় হলের নির্ধারিত সময়ে ঢুকতে পারেনি। এজন্য তাকে হলে ঢোকার অনুমতিও দেয়নি হল প্রশাসন। এমন অনেক ছাত্রীকে নিয়ম না মানায় বিভিন্নভাবে শোকজও করা হয়েছে।

কিন্তু হলের ভিপি হওয়ায় এমন নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ এই প্রথম ইমির বিরুদ্ধে।

শামসুন্নাহার হলের একাধিক ছাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিবেদককে জানান, নিয়ম শুধু সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য। সে হলের ভিপি হওয়ায় তার কোন নিয়ম নেই? সে হলে যেটা করবে সেটাই নিয়ম। এটা খুবই বিরক্তিকর।

এছাড়া, তার বিরুদ্ধে তার রুমমেটদের রয়েছে নানান অভিযোগ।

নাম প্রকাশ না করার সর্তে তারই এক রুমমেট বলেন, সে গভীর রাত পর্যন্ত বাইরে কাটিয়ে রুমে আসে। এতে আমাদের অনেকের নানা সমস্যাও হয়। আমাদের ঘুম ভেঙ্গে যায়। তাছাড়া সে বিভিন্ন সময় আমাদের মানসিকভাবে অত্যাচার করে।

তিনি শামসুন্নাহার হলের ৫০১০ নাম্বার রুমে থাকেন বলে জানা যায়।

তার বিরুদ্ধে রুমমেটদের অত্যাচারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গ্রুপে পোস্ট করা হলে তিনি অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন।

সেখানে কমেন্ট করায় তাসফিয়ান নাহিদ নামের এক শিক্ষার্থীকেও গ্রুপ থেকে ব্লক করে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, তাসফিয়ান নাহিদ নামের এক শিক্ষার্থী তাকে সমালোচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে অভিযোগ দিয়েছেন।

সেখানে তিনি লেখেন, শামসুন্নাহার হলের ভিপি ইমি আপু কর্তৃক তার নিজের রুমকে টর্চার সেলে পরিনত করা এবং তার রুমমেইটদের অত্যাচার করার ব্যাপারে তার নিজের মুখের স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য এবং ভুল স্বীকার করার প্রমাণাদিস্বরূপ ২ নাম্বার ছবিটি স্বপ্নের “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার” গ্রুপে কমেন্ট করার পর আমার কমেন্ট ডিলিট করাসহ আমাকে গ্রুপ থেকে ব্লক করে দিয়েছে।

বলি কি গ্রুপের নাম “স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার” পরিবর্তন করে “ইমি আপু ফ্যান ক্লাব” দিলেই তো হয়। মানুষ এমনিতেই দুরে থাকবে আপনাদের গ্রুপ থেকে।

এখন কথা হল একজন ভিপি প্রতিনিয়ত তার রুমমেইটদের অত্যাচার করেছে, যেটা তার রুমমেইটদের বক্তব্য থেকে সুস্পষ্ট এবং সে নিজেও এর দায় স্বীকার করেছেন (ছবিতে দেওয়া আছে)।

একজন ভিপির কাছ থেকে এমন আচরণ কখনোই প্রত্যাশিত নয়,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

সারাদিন সুশীল সাজার অভিনয় করে, তলে তলে তাহলে এই অবস্থা?

(বিঃদ্রঃ উত্তর দিতে না পারলেই তাহারা (স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) আপনাকে ব্লক দিবে, কিচ্ছু করার নাই মেনে নেন, তাদের পক্ষে সাফাই গাই চলেন।)

এসব অভিযোগে বিষয়ে তাকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তার নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ইমির বিরুদ্ধে হলের নিয়মভঙ্গের বিষয়ে জানতে চাইলে এক হাউজ টিউটর জানান, আমাদের কাছে তো কেউ অভিযোগ করেনি। আপনি যেটা বলছেন তা যদি সত্যি হয় তবে সেটি খুবই খারাপ। হল প্রশাসন বিষয়টি দেখবে।

এ বিষয়ে ডাকসুতে যদি কেউ অভিযোগ দেয় তবে ইমির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তিনি বলেন, ওই ভুক্তভোগী বোন যদি ডাকসুতে অভিযোগ দেয় তবে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।