করোনা: ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত দাবি এফডিএসআরের (ভিডিও)

24

#Live press conference

Posted by Probaho24.com on Wednesday, 18 March 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে মহামারি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সিবিলিটিস (এফডিএসআর)।

আজ বেলা ১১টায় ‘করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ডাক্তারসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের ঝুঁকি নিরসনে করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।   জাতীয় প্রেসক্লাবে আব্দুস সালাম হলে এই সস্মেলনের আয়োজন করে চিকিৎসকদের এই সংগঠন।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের কোন উপায় নাই বলে অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। এসময় তারা সাংবাদিক, প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ জাতির জন্যে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন তাদেরও নিরাপত্তা নিশ্চিত দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন এফডিএসআরের উপদেষ্টা ডা. আব্দুন নূর তুষার।  এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক এ বি এম আবদুল্লাহ, ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সিবিলিটিসের মহাসচিব ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন, জিটিভির চিপ এডিটর ইশতিয়াক রেজা প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে আব্দুন নূর তুষার বলেন, সারাদেশ থেকে চিকিৎসকরা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।  করোনা ভাইরাস নিয়ে তারা খুব উদ্বিগ্ন। প্রতিদিন বহির্বিভাগে অনেক জ্বরের রোগী দেখতে হয়, এরমধ্যে কারও শরীরে কোভিড-১৯ ভাইরাস আছে কিনা তা নিশ্চিত করার কোনো উপায় নেই। নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য মাস্ক, গ্লাভস বা কোনো পোশাক নেই। দেশে কোভিড-১৯ সহ যে কোনো ভাইরাস রোগের ল্যাবরেটরি টেস্ট করার সুযোগ খুবই সীমিত।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, হাতে গোনা কয়েকটা ল্যাবরেটরিতে এই কনফার্মেটরি টেস্ট করা যায়। এছাড়া কোভিড১৯ ডিটেক্ট করার টেস্ট কিট দেশে এখনো প্রয়োজন অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না। পর্যাপ্ত টেস্ট করার সুযোগ না থাকার কারণে দেশে করোনাভাইরাসের প্রকৃত অবস্থা জানা প্রায় অসম্ভব। এ অবস্থায় শুধু ডাক্তাররাই নন, পুরো স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারীরাই কর্মক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। শুধু তাই নয় রোগীরাও বিপদে আছেন। কারণ ডাক্তারের মাধ্যমে অন্যান্য রোগীদের মধ্যে এই রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

আব্দুন নূর তুষার বলেন, কোভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে সারা বিশ্ব আজ জরুরি অবস্থার মধ্যে আছে। ইতোমধ্যে অনেক দেশ এই ভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত। বাংলাদেশও বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে, ইতোমধ্যে ভাইরাসবাহী কিছু মানুষ ও কয়েকজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

এরকম পরিস্থিতিতে আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করার দাবিও জানান তুষার। তিনি বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাবে সবকিছু বন্ধ করা গেলেও হাসপাতালগুলো বন্ধ করা যাবে না। ডাক্তারসহ স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী সকলকেই হাসপাতালে-চেম্বারে গিয়ে রোগী দেখতেই হবে, বরং তাদের দায়িত্ব আগের চাইতে এখন শতগুন বেশি।

ডাক্তারসহ স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারীদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অবস্থায় জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে সরকারকে তাই ডাক্তারসহ স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারীদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। বাংলাদেশে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার্থে একটা প্রটোকল তৈরি করে অবিলম্বে সব ডাক্তারের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। সেখানে রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি চিকিৎসা ও রোগ সীমিতকরণের বিষয়গুলি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

স্বাস্থ্যখাতের বিদ্যমান বাস্তবতায় সন্দেহজনক রোগী (সাসপেক্ট কেস) আর নিশ্চিত রোগী (কনফার্মড কেস) কীভাবে চিহ্নিত করবেন সে ব্যাপারে একটা গাইডলাইন থাকা দরকার বলেও মনে করেন আব্দুন নূর তুষার।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে গাইডলাইন তৈরি করেছে। এই গাইডলাইনের আলোকে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ কর্তৃক চিকিৎসকদের জন্য একটা ট্রিটমেন্ট প্রোটোকল তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।

এসময় তিনি বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ তুলে ধরেন। বলেন, প্রথমেই প্রতি জেলায় জেলায় করোনা বিষয়ক পরামর্শের জন্য হটলাইন টেলিফোন নম্বরের সংখ্যা বাড়াতে হবে। বর্তমানে আইইডিসিআরের যে কয়টি হটলাইন নম্বর আছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সবসময় নম্বরগুলো এনগেজড পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকার মতো প্রতি জেলা-উপজেলার হাসপাতালে একটা করোনা ওয়ার্ড বা কর্নার চালু করা উচিত, যেখানে সন্দেহজনক কোভিড-১৯ রোগীরা চিকিৎসার জন্য যাবে।

আব্দুন নূর তুষার বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় এখন পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে ডাক্তারসহ সব স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার ব্যাপারটিতে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না। এভাবে চললে দেশে যদি কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা বাড়ে, তাহলে ডাক্তারসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীরা হুমকির মুখে পড়বে।

‘‘যে কারণে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ডাক্তারসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা যদি সুস্থ না থাকে, নিরাপদ না থাকে তাহলে রোগীদের চিকিৎসা প্রদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।’ যোগ করেন তিনি।