এই লজ্জা কার?

12

নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে ২০১৪ সালে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে কাজশাহীতে শাহ মখদুম মেডিক্যাল কলেজ নামে বেসরকারী একটি মেডিক্যাল কলেজ করা হয়। জনপ্রতি ২০ লাখ টাকা করে অনুদান নিয়ে অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে প্রতি বছর দ্বিগুন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয়। অথচ প্রতিষ্ঠার ছয় বছর পরেও তারা বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) এর অনুমোদন পায়নি। বিএমডিসির অনুমোদনবিহীন পাশ করা ডাক্তাররা ইন্টারণশীপ করতে পারছেন না, অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে অধ্যয়নরত আরো দুশো ছাত্রছাত্রীর মেডিক্যাল জীবন।

বিএমডিসির অনুমোদনের জন্য ছাত্রছাত্রীরা যখন ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে নামলো, তখন তা দমনে কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পেশীশক্তি নিয়ে নেমেছে। আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী কয়েকজনকে হুমকি দেওয়া হলো। আজ সকাল দশটায় ছাত্রী হোস্টেল খালি করার পূর্বনির্দেশ থাকলেও ভোরে ফজরের আজানের পরপরই কর্তৃপক্ষের ভাড়া করা বহিরাগত সন্ত্রাসীরা ছাত্র-ছাত্রীদের হোস্টেল থেকে মারধর করে রাস্তায় বের করে দেয়। তারপরেও এইসব ছাত্রছাত্রীরা জীবনের তোয়াক্কা না করে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন করে যাচ্ছে।

সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা অভিযোগ করেন,যেখানে এই মেডিকেল কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের এসব অপরাধের দায়ে আজ জেলে থাকার কথা, সেখানে আমরা ছাত্র-ছাত্রীরা আজ বাস্তুচ্যুত। অথচ এই কলেজটির চেয়ারম্যান বর্তমান জাতীয় সংসদের একজন সম্মানিত সদস্য, প্রাক্তন মন্ত্রী এবং রাজশাহী আওয়ামী লীগের অন্যতম শীর্ষ নেতা।

ছাত্রছাত্রীরা অবিলম্বে শাহ মখদুম মেডিক্যাল কলেজের সমস্যার সমাধান করে অধ্যয়নরত এবং পাশ করা ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা জীবনের নিশ্চয়তা জানোনোর দাবি জানান। অন্যথায় কলেজের অনুমোদন বাতিল করে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়নের সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানান তারা।

এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিএমএ এবং স্বাচিপ নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।ক্যাম্পাসে বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের মারধোর করা,হল থেকে বের করে দেয়ার মত লজ্জাকর ঘটনার দায়ী কে? এ লজ্জা কার? এই কলেজের পরিচালককেই বা এই অনধিকার দিল কে?