উচ্ছ্বসিত বুবলী

10

শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে শাকিব খান ও শবনম বুবলী অভিনীত ‘বীর’ ছবিটি। এবার ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুনে এক দিনে হওয়ায় দিনটি ছিল বেশ উৎসবমুখর। এমন দিনে শাকিব-বুবলীর ‘বীর’ ছবিটি দর্শকের মাঝে বাড়তি বিনোদন জুগিয়েছে। প্রায় প্রতিটি প্রেক্ষাগৃহের প্রথম শো ছিল হাউজফুল। চলতি বছরে নিজের প্রথম ছবিতে দর্শকের এমন সাড়ায় বুবলী যারপরনাই উচ্ছ্বসিত।

এদিকে পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী স্টার সিনেপ্লেক্স, ব্লকবাস্টার সিনেমা, শ্যামলী, বলাকা, মধুমিতা, পুনাম, পূরবী ও অভিসারসহ দেশে আশিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘বীর’। মুক্তির আগেই ‘বীর’র ট্রেলার ও পোস্টার ছিল চলচ্চিত্র ভক্তদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। এছাড়া ‘বীর’ ছবির আইটেম গান ‘মিস বুবলী’তে বুবলীকে অন্য রকমভাবে দর্শক আবিষ্কার করেছেন। গতানুগতিক আইটেম গানের পশ্চিমা সংস্কৃতির মোড়ক থেকে বের হয়ে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া ছিল এতে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সর্বত্র বুবলীর প্রশংসা করেছেন দর্শকরা। বিগত কয়েক বছর ধরেই ঢাকাই চলচ্চিত্রের একমাত্র সফল জুটি তারা।

সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম বুবলী। বুবলীর ছবি মানেই প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের হুমড়ি খেয়ে পড়া। বুবলী মানেই হিট। ‘বসগিরি’, ‘শুটার’, ‘রংবাজ’, ‘অহংকার’, ‘চিটাগাংইয়া পোয়া নোয়াখাইল্যা মাইয়া’, ‘সুপার হিরো’, ‘ক্যাপটেন খান’সহ তার প্রায় প্রতিটি ছবিই দর্শকমন জয় করতে সক্ষম হয়েছে। স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ারে এমন সাফল্যের চূড়ায় উঠতে ঢালিউডে খুব কম অভিনেত্রীকেই দেখা গেছে। কিন্তু এমন সাফল্যের পরও নিজেকে কেমন জানি গুটিয়ে রাখছেন বুবলী। কাজ করছেন বেছে বেছে।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয়ের দরুন খুব সহজেই তারকা খ্যাতি পেয়েছেন চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। এমনকি শাকিব খানের সঙ্গে বেশ একটা বন্ধুত্বও গড়ে ওঠে তার। এ কারণে শাকিবের প্রায় সব ছবিতেই নায়িকা হিসেবে দেখা গেছে বুবলীকে। আর শাকিব ছাড়া বুবলীও অন্য নায়কের সঙ্গে কাজ করেননি। মুখে অন্য নায়কের সঙ্গে কাজ করার কথা বললেও বিভিন্ন অজুহাতে সেসব ছবির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতেন এ নায়িকা।

তবে বুবলী জানান, ‘এখন থেকে সব নায়কের সঙ্গেই কাজ করব। তাছাড়া আমার ভক্তরাও চাচ্ছেন, আমি যেন সবার সঙ্গে কাজ করি। তাদের চাওয়া পূরণ করাটাও আমার দায়িত্ব। তাই আমি সামনে ভালো নির্মাতা, গল্প ও চরিত্র পেলে অবশ্যই করব। আমি অন্য নায়কের সঙ্গেও কাজ করতে চাই। এ ব্যাপারে যতগুলো ছবির জন্য মিটিং করেছি, একটার ক্ষেত্রেও ব্যাটে-বলে মেলেনি। কলকাতার একটা ছবিতেও কাজের কথাবার্তা চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু সে সময় অন্য ছবির শুটিংয়ের কারণে কাজটি করা হয়নি। সামনে দর্শকরা আমাকে অন্য নায়কের বিপরীতেও দেখতে পাবেন। তবে সেজন্য একটু সময় লাগবে।’

চলমান ব্যস্ততা নিয়ে বুবলী জানান, ‘নতুন ছবির জন্য নিজেকে তৈরি করছি। সব সময় বলে আসছি সিনেমার সংখ্যার চেয়ে সিনেমার মান আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ভালো গল্প, ভালো নির্মাতা হলে অন্য যে কারো সঙ্গে ছবি করব। ভালো গল্পের কোনো ছবি সহজে হাতছাড়া করতে চাই না। আর গল্প ভালো না হলে শত অনুরোধ সত্ত্বেও রাজি হই না।’

বুবলী বলেন, ‘বছরে কয়টি ছবিতে অভিনয় করলাম, আমার ছবির সংখ্যা অন্য সবার চেয়ে কম হয়ে গেল কি না- এসবের হিসাব-নিকাশ কখনো করিনি। জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করেও স্রোতের জোয়ারে গা ভাসানোর ইচ্ছা কোনো কালেই ছিল না। কিন্তু এ কথা ঠিক যে, অনেক বাছবিচার করে অভিনয় করার সুযোগ কম। তার পরও চাইলে নিজেকে নানা রূপে, নানা চরিত্রে পর্দায় তুলে ধরা সম্ভব।’

শবনম বুবলী এ পর্যন্ত যত ছবিতে কাজ করেছেন, তিনি চেষ্টা করেছেন অভিনয়ে নিজেকে ভাঙার। দর্শকমনে আজীবন থাকতে চাওয়ার বাসনা ব্যক্ত করে এ নায়িকা বলেন, ‘আমি জানি শিল্পীরা দীর্ঘদিন মানুষের মনে বেঁচে থাকেন তাদের অভিনীত চরিত্রগুলোর মধ্য দিয়ে। এ কারণেই আমি চাই এমন কিছু চরিত্রে অভিনয় করতে, যা আমাকে যুগের পর যুগ দর্শকমনে বাঁচিয়ে রাখবে। এ ক্ষেত্রে আমাকে খানিকটা লোভীও বলতে পারেন। আমার কেন জানি মনে হয়- শুধু আমি নই, সব শিল্পীই চান, তার কাজটি যেন মানুষের মনে ছাপ ফেলে। আমি চাইলে নিশ্চয়ই সেটি দোষের হবে না।’