আম্ফান এবার কুড়িগ্রাম-জামালপুরের পথে

4

উপকূল অতিক্রম করে এরইমধ্যে স্থলে ভাগে উঠে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ভারতের পশ্চিবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রলয় তাণ্ডব চালানোর পাশাপাশি আঘাত হানছে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। ঝড়টি শুরুর গতিপথ বদলে ফেলায় এ ঝড়ের কবল থেকে বেঁচে গেছে বাংলাদেশের অনেকগুলো উপকূলবর্তী জেলা। তবে ভারত সীমান্ত সংলগ্ন সাতক্ষীরা ও সুন্দরবনে ঝড়ের প্রবল প্রকোপ পুরোপুরি এড়াতে পারেনি। ঝড়ের থাবায় পড়েছে খুলনা জেলাও, যদিও সাতক্ষীরা তুলনায় খুলনায় ঝড়ো হাওয়ার গতি ছিল সাতক্ষীরার থেকে তুলনামূলক কম। এরপর রাতেই ঝড়ের বাংলাদেশ অংশের প্রভাব পড়েছে যশোর ও নড়াইল জেলায়। এভাবে এখন পর্যন্ত এর গতিপথ আছে জামালপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার দিকে। তবে সারারাত বৃষ্টি ঝরিয়ে দুর্বল হয়ে রাজশাহীতে গিয়ে এটি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে ধারণা করছে আবহাওয়া অধিদফতর।

সাতক্ষীরায় বুধবার (২০ মে) রাত সাড়ে ৯টায় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪৮ কিলোমিটার। তবে পরে এর গতি কমতে থাকে। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ঝড়টি বাংলাদেশে সাতক্ষীরা ও খুলনা হয়ে স্থলভাগের ওপরে উঠবে। ফলে এর প্রভাব এরইমধ্যে পড়তে শুরু করেছে যশোর ও নড়াইল জেলায়। এরপর রাত ১২ টা থেকে ১টার পর থেকে ঝড়ের প্রভাব পড়তে থাকবে মাগুরা, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী, সিরাজগঞ্জ থেকে কুড়িগ্রাম ও জামালপুরের দিকে। এর প্রভাবে রাতভর বৃষ্টি হবে রাজধানী ঢাকাতেও। এরপর সকালের দিকে সারারাতের বৃষ্টি ঝরিয়ে রাজশাহীর দিকে গিয়ে নিম্নচাপে রূপ নেবে বলে আবহাওয়া অধিদফতর আশা করছে।

তবে সাগর অংশ থেকে আম্পান ঝড় পুরোপুরি ওপরে ওঠার আগে এর প্রভাবে উপকূলীয় জেলাগুলোতে রাতে শুরু হয়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে উঁচু জোয়ার, কোথাও কোথাও তা ১০ থেকে ১৫ ফুট উঁচুও হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদফতর।

জানা গেছে, উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর এরইমধ্যে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রাতের জোয়ারে পানি আরও বাড়বে।

আবহাওয়া অধিদফতরের মহাপরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, আম্পান এরইমধ্যে উপকূল অতিক্রম করেছে। এটি এখন ধীরে ধীরে দুর্বল হবে। এরইমধ্যে উপকূলের নিচু এলাকা ৫ /৬ ফুট পানি এসে প্লাবিত। এছাড়া ঝোড়ো হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টি হবে প্রায় সারা রাতই। এতে পানির উচ্চতাও বাড়বে।

 

Bangladesh

Confirmed
47,153
Deaths
650
Recovered
9,781
Active
36,722
Last updated: জুন ১, ২০২০ - ৮:০২ পূর্বাহ্ণ (+০০:০০)